আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে হিজাব ‘শালীনভাবে’ না পরার অভিযোগে নারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানকে কেন্দ্র করে বিরল বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের বরাতে জানা গেছে, নিহত দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও তাঁরা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী তাজা গুলি ছোড়ে এবং বিক্ষোভকারীদের মারধর ও চাবুক দিয়ে প্রহার করে। এক বিক্ষোভকারী জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লাঠি, চাবুক ও অস্ত্র ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আকাশের দিকেও গুলি ছোড়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিক্ষোভে শুধু নারীরাই নন, বিপুলসংখ্যক পুরুষও অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দৃশ্যে দেখা যায়, কয়েকজন নারী মারধর বন্ধের আহ্বান জানিয়ে চিৎকার করছেন। একই সময়ে কাছাকাছি থেকে গুলির শব্দও শোনা যায়। তবে বিক্ষোভে কেউ নিহত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হেরাত পুলিশ। পুলিশের মুখপাত্র সৈয়দ মাসুদ হোসেনি বলেন, বিক্ষোভের কারণে জনশৃঙ্খলা বিঘিœত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর আফগান নারীদের পোশাক, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর একাধিক বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে এসব নীতির সমালোচনা করে আসছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন