ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

মণিপুরে ফের রক্তাক্ত অধ্যায়, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৬:৪৮ এএম

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে অপহরণের প্রায় এক মাস পর ছয় নাগা যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ সহিংসতা। ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে নাগা অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকা। অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের পরিস্থিতি। বুধবার বিকেলে কাংপোকপি জেলার একটি দুর্গম এলাকা থেকে ছয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে নিরাপত্তা বাহিনী। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরাই তাদের হত্যা করেছে। যদিও এ ঘটনায় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেনাপতি, উখরুলসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে আগুন দেয় এবং সরকারি স্থাপনায় হামলার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানী ইম্ফলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জওহরলাল নেহরু চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হলে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মে মাসে নাগা ও কুকি গোষ্ঠীর মধ্যে একাধিক অপহরণের ঘটনা ঘটে। মধ্যস্থতার মাধ্যমে উভয় পক্ষের কয়েকজনকে মুক্তি দেওয়া হলেও ছয় নাগা যুবক আর ফিরে আসেননি।

তাদের উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনী কয়েক দফা অভিযান চালালেও শেষ পর্যন্ত মিলেছে শুধু তাদের নিথর দেহ। ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংগঠন এ হত্যাকা-ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত মোকাবিলায় রাজ্য সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। বিরোধী মহলও সরকারের সমালোচনা করে বলেছে, রাজনৈতিক সমাধানের অভাবেই পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এদিকে রাজধানী দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের বর্ষপূর্তি উদযাপনের মধ্যেই মণিপুরের নতুন এই সহিংসতা দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।