পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে সংরক্ষিত আসনকে কেন্দ্র করে ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক এবং চারজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগামী নির্বাচনে কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষণের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে যৌথ গণঅভিযান কমিটির ডাকে হাজার হাজার মানুষ আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফরাবাদের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করে। পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন এলাকায়। সরকার এরই মধ্যে সংগঠনটিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে তাতে জনসমর্থন থামানো যায়নি। সরকারি হিসাবে, ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী বর্তমানে রাওয়ালকোট শহরের অদূরে অবস্থান করছে। পুঞ্চ জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা সরদার ওয়াহিদ খান জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী টহল জোরদার করেছে এবং বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মুজাফফরাবাদের দিকে অগ্রসর হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মুজাফফরাবাদ ও রাওয়ালকোট এলাকায় আকাশপথে নজরদারি চালানো হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, বিক্ষোভ দমনে ইন্টারনেট বন্ধ, গণগ্রেপ্তার এবং প্রাণঘাতী শক্তির ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে মুজাফফরাবাদে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এদিকে এই অস্থিরতার মধ্যেই মুজাফফরাবাদে সেনাবাহিনীর একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে এর সব আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে এবং এতে থাকা ২২ জন আরোহীর সবাই নিহত হন। প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটিকে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হলেও প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

