ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের প্রাথমিক সমঝোতার ঘোষণা দেওয়ার পর এবার ইউক্রেন ও লেবাননের চলমান সংঘাত বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সের এভিয়াঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। সম্মেলনে পৌঁছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। এখন তার লক্ষ্য ইউক্রেন ও লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের পথ খুঁজে বের করা। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এর সুফল বিশ^ অর্থনীতিতে এরই মধ্যে দেখা যাচ্ছে। তার ভাষায়, তেলের দাম কমছে এবং বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ইউক্রেন প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেছেন।
দুই নেতাই শান্তি আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আলোচনার মাধ্যমে এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের একটি ইতিবাচক সমাপ্তি সম্ভব। অন্যদিকে, জি-সেভেনের ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনকে কোনো ধরনের ছাড় দিতে চাপ প্রয়োগের বদলে রাশিয়াকে শান্তি চুক্তিতে রাজি করাতে জোরালো কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সরবরাহ নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পর ট্রাম্পের নতুন এই শান্তি উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক সম্ভাবনার জন্ম দিলেও তা বাস্তবে কতটা সফল হবে, সে বিষয়ে এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিশ্লেষকেরা।

