আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা ফিচ রেটিংসের বাংলাদেশের সম্প্রতি প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর একটি বিশ্লেষণ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, সদ্য নির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেটে (২০২৬-২৭ অর্থবছর) এমন কিছু রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা অর্জন করা কঠিন হতে পারে। বাজেটে একদিকে রাজস্ব আয় বছরে ১৮ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, অন্যদিকে ব্যয় ১৯ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। রাজস্ব আদায়ই হবে সরকারের প্রধান আর্থিক পরীক্ষার ক্ষেত্র। গতকাল মঙ্গলবার হংকং থেকে বাংলাদেশের বাজেটের ওপর ওই সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ প্রকাশ করে ফিচ। গত ১৩ মে ফিচ বাংলাদেশের ঋণমানের সর্বশেষ মূল্যায়ন করে। সংস্থাটি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ইস্যুয়ার ডিফল্ট (আইডিআর) রেটিংয়ের আউটলুক বা ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি ‘ঋণাত্মক’ অনুমান করে। এর মানে, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমে যেতে পারে। বাংলাদেশের আউটলুকের আগে ‘স্থিতিশীল’ ছিল।
বাজেটের ওপর ফিচের প্রতিবেদনে বলা হয়, কর আহরণ বৃদ্ধি এবং সংস্কার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ড দুর্বল। বাজেটে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১০ দশমিক শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮ শতাংশ ছিল। এ লক্ষ্য অর্জিত হলে তা ১৯৯৩ সালের পর সর্বোচ্চ হবে।
ফিচ বলেছে, রাজস্ব বাড়ানোর জন্য কর প্রক্রিয়া সহজ করা, কর অব্যাহতির সংখ্যা কমানো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ভ্যাট পরিপালন সহজ করা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, করপোরেশন ও ব্যাংকে সরকারের বিনিয়োগ থেকে অ-কর রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে করের আওতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। তবে অতীতে সংস্কার বাস্তবায়নের দুর্বলতার কারণে এ ধরনের উদ্যোগের প্রভাব সীমিত ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট ব্যয়ের ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ সামাজিক খাতে এবং ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ ভৌত অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা নতুন সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। জ¦ালানি খাতের পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করতে পারে।
ফিচের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার আগামী অর্থবছরে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশ হবে বলে আশা করছে। কিন্তু ফিচের পূর্বাভাস হলো, সাড়ে ৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে। এর কারণ দুর্বল ব্যাংকিং খাত, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির নি¤œগতি, নীতিগত কাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং অনিশ্চিত বৈদেশিক পরিবেশ।
ফিচ মনে করে, মধ্যমেয়াদে রাজস্ব আয় ও প্রবৃদ্ধি বাড়ানো অনেকটাই নির্ভর করবে সরকার অতীতের তুলনায় কতটা কার্যকরভাবে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারে তার ওপর। বাজেটে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছ। তবে এসব পদক্ষেপের গুরুত্ব নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর।

