অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখ-ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ দাবি করেছেন, তিনি ১৯৯৭ সালের হেবরন চুক্তি বাতিল করেছেন। এই চুক্তির মাধ্যমে হেবরন শহরের একটি অংশ ফিলিস্তিনি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণ ও প্রশাসনিক বিষয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা আরও সীমিত হয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হেবরন চুক্তি বাতিলের যেকোনো উদ্যোগ পশ্চিম তীরে নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টি করতে পারে। ইতিমধ্যে ফিলিস্তিনি মহলে এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এদিকে পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনাও বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় অভিযানের সময় গুলি ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে। এক কিশোরী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় ঘরবাড়ি ভাঙচুর, বাসিন্দাদের হয়রানি এবং সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রামাল্লাহর উত্তরের জিলজিলিয়া ও মাজরা আল-নুবানি গ্রামের দুটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি দেয়ালে বিদ্বেষমূলক স্লোগান লিখে যায়। গ্রামবাসী ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও মসজিদের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যেও মানুষ স্বাভাবিক জীবনের কিছু মুহূর্ত ধরে রাখার চেষ্টা করছে। বিদ্যুৎ সংকট, ধ্বংসস্তূপ আর নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও অনেকেই বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখছেন। কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে, কেউ আবার জেনারেটরের সাহায্যে ক্যাফেতে বসে খেলা উপভোগ করছেন।
গাজার সাবেক ফুটবলার ফাদি আল-আরাউই বলেন, চারদিকে ধ্বংস আর অনিশ্চয়তা থাকলেও মানুষ বেঁচে থাকার আশা হারাতে চায় না। তাদের কাছে ফুটবল এখন শুধু খেলা নয়, বরং কঠিন বাস্তবতার মাঝেও স্বাভাবিক জীবনের একটি প্রতীক। রাজনৈতিক উত্তেজনা, সহিংসতা ও মানবিক সংকটÑ সব মিলিয়ে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গাজায় পরিস্থিতি আবারও নতুন অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে।

