যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় রক্তপাত থামছে না। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত এক হাজার পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গাজার মানবিক পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ। যুদ্ধবিরতি বড় ধরনের সংঘর্ষ কমালেও স্থায়ী সমাধানের পথে দুই পক্ষ কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বিভিন্ন সময়ে গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে উপত্যকার প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবিক সংস্থার গাজা-বিষয়ক পরিচালক ফিকর শালতুত বলেছেন, গাজার মানুষকে বলা হয়েছিল সবচেয়ে কঠিন সময় শেষ হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তারা এখনো প্রতিদিন স্বজন হারাচ্ছেন এবং নতুন নতুন কবর খুঁড়ছেন। স্বাস্থ্য খাতের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৩৭টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ২০টি আংশিকভাবে চালু রয়েছে। কোনো হাসপাতালই পূর্ণ সক্ষমতায় চিকিৎসাসেবা দিতে পারছে না। গাজার সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১৯ লাখ মানুষ।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও চলমান হামলা ও মানবিক সংকট গাজার ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

