ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান ফিকির

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০২:১৩ এএম

করের আওতা সম্প্রসারণ ও রাজস্ব প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তর এবং প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)। গতকাল বৃহস্পতিবার  রাজধানীর গুলশানে নিজ কার্যালয়ে বাজেট-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষে এ আহ্বান জানানো হয়। এতে সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন ফরেন ফিকি সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী।

বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে ফিকি বলেছে, টেকসই রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য কাঠামোগত সংস্কার, নীতিগত পূর্বানুমেয়তা এবং আরও প্রতিযোগিতামূলক ব্যাবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে করের আওতা সম্প্রসারণ, ব্যবসার ব্যয় হ্রাস, রাজস্ব প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন ত্বরান্বিত করা ও সব খাতের জন্য সমতাভিত্তিক ব্যাবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে ফিকি।

রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, কর পরিপালন জোরদার, বাণিজ্য সহজীকরণ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্যে চেম্বারের বিভিন্ন সুপারিশ সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরে ফিকি সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটটি একটি ইতিবাচক ও তুলনামূলকভাবে পূর্বানুমানযোগ্য বাজেট। বিশেষ করে সামাজিক সুরক্ষা খাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধিকে আমরা স্বাগত জানাই। তিনি বলেন, এসব কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রান্তিক মানুষের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ বর্তমানে অনেকাংশে রেমিট্যান্স-নির্ভর অর্থনীতি হলেও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিক্ষা ও স্কিল ডেভেলপমেন্টে আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে সরকারের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান।

গ্রিন ইনিশিয়েটিভ ও সৌরবিদ্যুৎ খাতে প্রদত্ত প্রণোদনাকে স্বাগত জানিয়ে রূপালী হক চৌধুরী বলেন, এসব উদ্যোগ দেশের জ¦ালানি খাতে জীবাশ্ম জ¦ালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার প্রভাব অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ খাতের ওপর তুলনামূলকভাবে কম পড়বে।

তিনি এটিকে একটি দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে। তিনি বলেন, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে এবং বিদ্যমান প্রায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারের সুস্পষ্ট কৌশল ও রোডম্যাপ তুলে ধরা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বাজেটে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে এবং অতীতে এই ঘাটতি পূরণে পরোক্ষ কর ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে। এতে নিয়মিত করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন খাতে কার্যকর করহার প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বেশি হয়ে যায়। তিনি কর ব্যবস্থাকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বিনিয়োগবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণনির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধানের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা ইতিবাচক। তবে এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট নীতিগত দিকনির্দেশনা ও বাস্তবায়ন কৌশল থাকা প্রয়োজন।