লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড কিংবা হ্যারি কেইনের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের ভিড়ে ফিফার বিশ্বকাপ পাওয়ার র্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান দখল করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী ইরানি রাইট-ব্যাক রামিন রেজায়িয়ান।
বিশ্বকাপে নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে রেজায়িয়ান অর্জন করেছেন ১৯.৯৩ পয়েন্ট, যেখানে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির পয়েন্ট ১৯.৮৬। ফলে চলতি আসরে মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়া একমাত্র ফুটবলার হিসেবে উঠে এসেছেন তিনি।
ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এই মোট পয়েন্টের তালিকা প্রকাশ না করলেও খেলোয়াড়দের আক্রমণ, সৃজনশীলতা ও রক্ষণভাগে অবদান—এই তিনটি সূচকের ভিত্তিতে শূন্য থেকে ১০ স্কেলে মূল্যায়ন করে পাওয়ার র্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়।
রেজায়িয়ানের উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরানের ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচটি। রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হয়েও তিনি সেদিন প্রায় প্লে-মেকারের ভূমিকায় খেলেন। ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি আরেকটি গোলে অ্যাসিস্ট করেন তিনি। ওই ম্যাচে আক্রমণে ৬.৭৬, সৃজনশীলতায় ৮.২৩ এবং রক্ষণে ৪.৯৪ রেটিং পেয়ে মোট স্কোরে মেসিকে ০.০৭ পয়েন্টে ছাড়িয়ে যান।
উত্তর ইরানের মাজান্দারান অঞ্চলে জন্ম নেয়া রেজায়িয়ান বর্তমানে এস্তেগলালের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকলেও ধারে খেলছেন ফুলাদ ক্লাবে। ক্যারিয়ারে তিনি ইরানের জনপ্রিয় ক্লাব পার্সিপোলিস, সেপাহান ও এস্তেগলালের হয়ে খেলেছেন। পাশাপাশি বেলজিয়ামের কেভি ওস্টেন্দে এবং কাতারের আল-শাহানিয়া, আল-দুহাইল ও আল-সাইলিয়ার জার্সিও গায়ে তুলেছেন।
ডিফেন্ডার হিসেবে পরিচিত হলেও ক্যারিয়ারের বড় সময় তিনি উইঙ্গার বা আক্রমণভাগে খেলেছেন। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আক্রমণ গড়ে তোলার দক্ষতাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
২০১৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর এটি তার তৃতীয় বিশ্বকাপ। ২০১৮ সালে পর্তুগালের বিপক্ষে স্মরণীয় পারফরম্যান্স এবং ২০২২ সালে ওয়েলসের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে দৃষ্টিনন্দন চিপ শটে গোল করে আলোচনায় আসেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গোল ও অ্যাসিস্টের পর তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে যোগ হয়েছে আরও একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।
ইরানি ফুটবলে ‘শোম্যান’ হিসেবে পরিচিত রেজায়িয়ান মাঠে নান্দনিক ও সাহসী ফুটবল খেলতে ভালোবাসেন। ফ্রি-কিক, গোল উদযাপন কিংবা প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ—সব ক্ষেত্রেই তার আত্মবিশ্বাস নজর কাড়ে। ২০১৮ বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে মাঠের একটি মজার কথোপকথন নিয়েও তিনি বেশ পরিচিত। পরে রসিকতা করে জানিয়েছিলেন, ম্যাচ চলাকালে রোনালদোকে তিনি বলেছিলেন, ভালো না লাগলে অন্য পাশে গিয়ে খেলো।
তবে পাওয়ার র্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা মানেই রেজায়িয়ানকে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ঘোষণা করা হয়নি। বরং নির্দিষ্ট ম্যাচভিত্তিক পারফরম্যান্স মূল্যায়নে তিনি সবার ওপরে উঠে এসেছেন। ৩৬ বছর বয়সে ইউরোপের কোনো শীর্ষ ক্লাবে না খেলেও বিশ্বমঞ্চে এমন পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, ফুটবলে চমকের শেষ কথা এখনো বলা হয়নি।

