অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাতে নিহতদের প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন। সংস্থাটির দাবি, ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্য করে পরিচালিত বহু হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল। সম্প্রতি প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে গাজায় শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হত্যা, নির্যাতন, বাস্তুচ্যুতি এবং মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত করার ঘটনাগুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, বিপুলসংখ্যক শিশুর মৃত্যু কেবল যুদ্ধের অনিবার্য পরিণতি নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে তারা সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে। তদন্ত কমিশনের সভাপতি শ্রীনিবাসন মুরালিধর বলেন, শিশুদের লক্ষ্য করে হত্যার বিষয়ে কমিশন বিশ্বাসযোগ্য ও শক্ত প্রমাণ পেয়েছে। প্রতিবেদনে এতিমখানা, হাসপাতাল, চিকিৎসাকেন্দ্র এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলার বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। এদিকে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনের প্রশংসা করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, প্রতিবেদনটি ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের ব্যাপকতা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে হত্যা, অনাহারে রাখা, জোরপূর্বক উচ্ছেদ, আটক, নির্যাতন এবং শিক্ষা ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের মুখপাত্র হাজেম কাসেমও বলেন, এই প্রতিবেদন গাজায় শিশু ও বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার আরও একটি প্রমাণ। তবে শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের সামরিক অভিযান সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক হামলায় দুজন নিহত হলেও সেখানে নতুন যুদ্ধবিরতি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কার্যকর রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ায় দক্ষিণ লেবাননের অনেক বাসিন্দা ধীরে ধীরে নিজেদের এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন