ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ফ্রান্স, স্পেন, যুক্তরাজ্য, ইতালি, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। অনেক এলাকায় পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। অতিরিক্ত গরমে প্রাণহানির ঘটনাও বাড়ছে। ফ্রান্সে ইতোমধ্যে ৪০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির প্রধান কারণ ‘তাপবলয়’ এবং ‘ওমেগা বলয়’ নামে পরিচিত বিশেষ আবহাওয়াগত অবস্থা। শক্তিশালী উচ্চচাপবলয় দীর্ঘ সময় একটি অঞ্চলের ওপর স্থির থাকায় উষ্ণ বায়ু আটকে যাচ্ছে। ফলে মেঘ তৈরি হচ্ছে না এবং সূর্যের তাপ সরাসরি ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করছে। সাহারা মরুভূমি থেকে আসা উষ্ণ বায়ুও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ফ্রান্সে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে এক হাজারের বেশি বিদ্যালয় বন্ধ অথবা আগেভাগে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তীব্র গরমে পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে, বাতিল করা হয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই বর্তমান তাপপ্রবাহের জন্য ‘এল নিনো’কে দায়ী করলেও ইউরোপের এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ তা নয়; বরং বায়ুম-লের বায়ুপ্রবাহে স্থবিরতা এবং তাপবলয়ের প্রভাবই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এ ধরনের তাপপ্রবাহকে আরও ঘন ও তীব্র করে তুলছে।
জলবায়ু গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, জীবাশ্ম জ¦ালানির ব্যবহারজনিত উষ্ণতা বাড়ার কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলেই ইউরোপে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, গত বছরের তাপজনিত মৃত্যুর বড় অংশের পেছনেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ছিল। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী দিনগুলোতে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হতে পারে। তাই শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করছেন গবেষকেরা।

