গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধ এক হাজার দিনে পৌঁছেছে। দীর্ঘ এই সংঘাতে গাজা উপত্যকা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ৭৩ হাজার ৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে অন্তত ২১ হাজার ৫০০ শিশু রয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলে এক হাজার ২২১ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। গাজার সরকারি সূত্রের দাবি, উপত্যকার ৯০ শতাংশের বেশি অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। সামরিক অভিযান ও জোরপূর্বক উচ্ছেদের ফলে গাজার অধিকাংশ এলাকা এখন ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে তাঁবু কিংবা ধ্বংসস্তূপের পাশে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পানীয় জল ও বিদ্যুৎব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বড় ধরনের হামলা কিছুটা কমলেও সহিংসতা বন্ধ হয়নি। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরও এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, গাজার বিভিন্ন এলাকায় সামরিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি বেসামরিক মানুষের জন্য আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। সীমান্তপথে কড়াকড়ির কারণে খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি ও ত্রাণ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বহু হাসপাতাল প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে স্বাভাবিক সেবা দিতে পারছে না। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দুর্ভিক্ষ ও সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন এখন ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের এক হাজারতম দিনে ইসরায়েলেও নিহতদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। একই সঙ্গে ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। এদিকে বন্দি বিনিময়, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, গাজার পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে এক হাজার দিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের শেষ কোথায়, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।

