কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ঐতিহাসিক সোনাহাট সেতুর স্টিলের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে সেতু দিয়ে সব ধরনের ভারী যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় সেতুর দুই পাশে পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, পাটাতন ভেঙে একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক সেতুর ওপর আটকে পড়লে যান চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা সেতুটির বিভিন্ন স্থানে স্টিলের পাটাতন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও লোহার প্লেট (ট্যাংক জ্যাম) খুলে গেছে। এরপরও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন শত শত যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে চলাচল করে আসছিল।
জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের অংশ হিসেবে দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত হয় সোনাহাট রেলসেতু। প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ এই সেতু স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল। স্বাধীনতার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে সংস্কারের মাধ্যমে সেতুটি সড়ক যোগাযোগের জন্য চালু করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, নির্মাণের সময় সেতুটির আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছিল ১০০ বছর। সেই হিসাবে এর কার্যক্ষমতার সময়সীমা অনেক আগেই শেষ হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। পাশাপাশি সেতুটি অচল হয়ে গেলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে পুরোনো সেতুর পাশে দুধকুমার নদের দক্ষিণাংশে ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সোনাহাট সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্মাণ শেষ হয়নি। ফলে পুরোনো সেতুর ওপর চাপ বাড়ছে এবং জনদুর্ভোগও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সেতু এলাকার ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও নুর ইসলাম বলেন, পাথরবোঝাই ভারী ট্রাক চলাচলের সময় পুরো সেতু কেঁপে ওঠে। সেতুটি এতটাই সরু যে একটি ট্রাক চলাচলের সময় বিপরীত দিক থেকে অন্য যানবাহন পার হওয়ার সুযোগ থাকে না। এতে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়।
সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী আবু হেনা মাসুম বলেন, ‘প্রায়ই সেতুর পাটাতন ভেঙে যায়। পরে সড়ক বিভাগ সাময়িকভাবে মেরামত করে। কিন্তু স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় সেতু দিয়ে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ হলে স্থলবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং সরকার রাজস্ব হারাবে।’
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, ‘সেতুটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পণ্য বহনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সেতুটি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্কারকাজ শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব যান চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।’

