তুরস্কের রাজধানীতে ন্যাটো জোটের শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথকভাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হলেও একই সময়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। রাশিয়ার দাবি, যুদ্ধের রাজনৈতিক সমাধানই তাদের অগ্রাধিকার। তবে মস্কোর অভিযোগ, ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা সংঘাত দীর্ঘায়িত করছে। অন্যদিকে জেলেনস্কি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা থাকলে যুদ্ধ বন্ধের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে সম্মেলনের আগে কিয়েভে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। আবাসিক ভবন, গুদামঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই সময়ে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে রাশিয়া। যদিও এসব দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন। সম্মেলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ। দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি নেওয়ার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপকে আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। যদিও বর্তমানে ন্যাটোর সামরিক কাঠামো ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তবু ইউরোপের দেশগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো এবং নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ জোরদার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে জোটের নেতৃত্ব ও দায়িত্ব বণ্টনে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সম্মেলনকে ঘিরে তুরস্কেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ন্যাটোবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে এবং পুলিশ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে। একই সময়ে চীন ও রাশিয়া যৌথ নৌমহড়ার ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিক কৌশলগত প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং ইউরোপের নিরাপত্তাÑ এই চারটি বিষয়ই এবার সম্মেলনের মূল আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক অগ্রগতি হবে নাকি সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হবে, সে দিকেই এখন বিশ^বাসীর নজর।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন