গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সর্বশেষ বিমান হামলা ও গুলিবর্ষণে এক শিশুসহ অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস, রাফাহ ও গাজা শহরের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলের দাবি, হামাসের যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নিহতদের বড় অংশই বেসামরিক মানুষ। অবিরাম যুদ্ধের কারণে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর অভাবে বিদেশে চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা দেড় হাজারের বেশি রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে কিডনি রোগীদের মৃত্যুহার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। প্রায় ২০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ এখন তাঁবু কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর মিশরের রাফাহ সীমান্ত দিয়ে কিছু ফিলিস্তিনি নিজ ভূমিতে ফিরতে শুরু করেছেন। সীমান্তে স্বজনদের সঙ্গে আবেগঘন পুনর্মিলনের দৃশ্য দেখা গেছে। মিশরের মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো ফিরে আসা মানুষদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। একই সঙ্গে আহত ও অসুস্থদের চিকিৎসার জন্যও সীমান্তে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক সংস্থা বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে হামাস।
সংগঠনটি জানিয়েছে, বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব একটি বিশেষ জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তরের পথ তৈরি করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি গাজার রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ইরানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে হামাসের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে গাজার চলমান যুদ্ধ, মানবিক সংকট, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় সহিংসতা থামেনি। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক মহল নতুন করে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে। তবে চলমান হামলা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে গাজায় শান্তি ফেরার সম্ভাবনা এখনো অনেক দূরের পথ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

