ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

আত্মাহুতির ঘটনায় উত্তাল নেপাল, তরুণদেও ক্ষোভে চাপে সরকার

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৬:২৯ এএম

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে এক রাইড ভাগাভাগি সেবার মোটরসাইকেলচালকের আত্মাহুতির ঘটনায় দেশজুড়ে নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভে দরিদ্র মানুষের প্রতি প্রশাসনের আচরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করলেও বিক্ষোভ থামেনি।

নিহত যুবক গণেশ নেপালি রাজধানীতে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকাকালে তার মোটরসাইকেলে চাকা আটকে দেওয়া হয় এবং জরিমানা করা হয় বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিত-ার একপর্যায়ে তিনি নিজের শরীরে জ্বালানি ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরদিন তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। রাজধানীর সচিবালয়ের সামনে শত শত তরুণ বিক্ষোভে অংশ নিয়ে দরিদ্র মানুষের প্রতি কঠোর আচরণ বন্ধ, জোরপূর্বক উচ্ছেদ বন্ধ এবং বস্তিবাসীদের মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসনের দাবি জানান। সাম্প্রতিক সময়ে আরও কয়েকজন তরুণের আত্মাহুতির চেষ্টার ঘটনাও জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কাঠমান্ডুর পৌর পুলিশ দীর্ঘদিন ধরেই পথের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকার এবং বস্তিবাসীদের বিরুদ্ধে আইনসিদ্ধ ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞদেরও দাবি, পৌর পুলিশের দায়িত্ব মূলত প্রশাসনিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ; জনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ বা বলপ্রয়োগের ক্ষমতা তাদের নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ক্ষমতায় আসার আগে রাজধানীর মেয়র হিসেবে শহর পরিচ্ছন্নতা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কঠোর উদ্যোগ নিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তবে সমালোচকদের মতে, এসব অভিযানে মানবিকতার অভাব এবং দরিদ্র মানুষের প্রতি কঠোর আচরণ এখন সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ বাড়িয়ে তুলেছে। ঘটনার পর বিরোধী দলগুলোও সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে। সরকার তদন্তের আশ্বাস দিলেও বিক্ষোভকারীরা বলছেন, শুধু তদন্ত নয়, প্রশাসনের আচরণে পরিবর্তন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। কয়েক মাস আগেও তরুণদের বিপুল সমর্থনে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এখন সেই তরুণ প্রজন্মেরই তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েছেন। ফলে নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠছে।