মিয়ানমারের সাবেক রাষ্ট্রনেত্রী অং সান সু চির অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ২০২২ সালের শেষ দিকে সর্বশেষ তাকে জনসমক্ষে দেখা গেলেও এরপর থেকে তার সঙ্গে আইনজীবী, পরিবার কিংবা আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের কাউকেই দেখা করার সুযোগ দেয়নি সামরিক সরকার। ফলে তিনি জীবিত আছেন কি না, তা নিয়েও নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে। সু চির ছেলে কিম অ্যারিস বিভিন্ন দেশের নেতাদের কাছে তার মায়ের জীবিত থাকার প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানাচ্ছেন। তার অভিযোগ, সামরিক সরকার সু চিকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। সরকার দাবি করলেও যে তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন, তার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘের বিশেষ দূত পৃথকভাবে সু চির সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চাইলেও সামরিক সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। কূটনৈতিক মহলের একাংশের আশঙ্কা, সু চির শারীরিক অবস্থা গুরুতর হতে পারে।
তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, তার মৃত্যু হলে এত দিন তা গোপন রাখা কঠিন হতো। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। হাজারো রাজনৈতিক বন্দি এখনো কারাগারে রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সু চির অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা যেমন আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াচ্ছে, তেমনি দেশটির চলমান মানবাধিকার সংকটও নতুন করে বিশ্ববাসীর নজর কাড়ছে।

