ঢাকা সোমবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫

ইসরায়েলি আগ্রাসন

গুলি, ক্ষুধা আর অপুষ্টি সঙ্গী এখন গাজাবাসীর

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১, ২০২৫, ০৪:২৩ এএম
  • নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৭০ হাজার ১০০। যুদ্ধবিরতির পর ৩৫০ জনেরও বেশি মৃত্যু
  • গাজায় পাঁচ বছরের কম বয়সি অন্তত ৯ হাজার ৩০০ শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে
  • হাজারো বাস্তুচ্যুত পরিবার ঠান্ডা, বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে অস্থায়ী তাঁবুতে মানবেতর জীবনযাপন করছে

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি চললেও তা মানছে না দখলদার ইসরায়েল। প্রায় প্রতিদিনই অবরুদ্ধ এ উপত্যকা থেকে মৃত্যুর খবর আসছে। এ ছাড়া খাদ্যসংকট, অপুষ্টিও গাজাবাসীর অন্যতম শত্রু। এখানকার বাসিন্দাদের নিয়তিই যেন গুলি, ক্ষুধা আর অপুষ্টি।  এদিকে নিয়মিত হামলায় গাজায় প্রাণহানি ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানায় এই অঞ্চলের স্বাস্থ্য বিভাগ।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা এখন ৭০ হাজার ১০০, যার মধ্যে ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতির পর ৩৫০ জনের বেশি মারা গেছে।

গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ করে হামলা চালায় হামাস। ওই হামলায় অন্তত ১ হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করে আসছে নেতানিয়াহু সরকার। ওই হামলার জবাবে হামাসকে নির্মূলের শিখ-ী খাড়া করে গাজায় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের (এমওএইচ) তথ্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এগুলোকে নির্ভরযোগ্য বলে ঘোষণা করে। তবে ইসরায়েল নিয়মিতভাবে এসব তথ্যের যথার্থতা নিয়ে বিরোধিতা করে আসছে।

বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে গাজায় প্রবেশে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই দুই পক্ষের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় গত শনিবারও বহু মানুষ নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই সহোদর শিশুÑ ফাদি ও জুমা আবু আসি ছিল বলে জানা গেছে। পরিবারের বরাতে জানানো হয়, তারা কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিল।

অবশ্য ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বিবিসিকে জানায়, তারা ‘হলুদ রেখা’ অতিক্রম করা দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

চলতি বছরের ১০ অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় যে নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, এই কথিত রেখা সেই সীমা নির্দেশ করে, যেখানে চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছিল।

এদিকে গাজায় পাঁচ বছরের কম বয়সি অন্তত ৯ হাজার ৩০০ শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে। গত শনিবার জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এমন তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শীতের শুরুতে রোগব্যাধির বিস্তার এবং অনিরাপদ আশ্রয়ের কারণে এসব শিশুর প্রাণহানির ঝুঁকি ভয়াবহভাবে বাড়ছে।

ইউনিসেফ জানায়, সংস্থা ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো অক্টোবর মাসে যে পুষ্টিস্ক্রিনিং পরিচালনা করেছে, সেখানে পাঁচ বছরের নিচে ৯ হাজার ৩০০ শিশুর তীব্র অপুষ্টি ধরা পড়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিপুল পরিমাণ শীতবস্ত্র, কম্বল ও জরুরি সরঞ্জাম গাজার সীমান্তে আটকে রয়েছে। ফলে হাজারো বাস্তুচ্যুত পরিবার ঠান্ডা, বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে অস্থায়ী তাঁবুতে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভারী বর্ষণে পয়োনিষ্কাশনের বর্জ্য ও নোংরা পানি প্লাবিত হয়ে বসতিগুলোর ভেতরে ঢুকে পড়েছে, যা রোগের ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, প্রচেষ্টা সত্ত্বেও গাজায় পাঁচ বছরের নিচে হাজারো শিশু এখনো তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। আরও বহু শিশু রয়েছে যথাযথ আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও শীত থেকে সুরক্ষা ছাড়া।

ইউনিসেফের তথ্যমতে, এ যুদ্ধে ২০ হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ৪২ হাজারের বেশি শিশু, যাদের মধ্যে অন্তত ২১ হাজার শিশু স্থায়ীভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।