- বন্যা-ভূমিধসে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তার পাশাপাশি দেশের বাইরে থাকা শ্রীলঙ্কানদের আর্থিক সহযোগিতা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ
শ্রীলঙ্কায় সাইক্লোন ডিটওয়াহর আঘাতে প্রবল বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় কমপক্ষে ১৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুই শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, দুই শতাধিক মানুষ নিখোঁজ এবং ২০ হাজারের বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং সরকারি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ। দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা বিদ্যুৎ ও পানির সমস্যার মধ্যে রয়েছে, তাই সর্বাত্মক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলো হলো ক্যান্ডি ও বাদুল্লা, যেখানে অনেক এলাকা এখনো সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।
বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অনুরাধাপুরায় একটি ডুবে যাওয়া বাস থেকে ৬৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, পাশাপাশি বাড়ি ও মন্দিরে আটকা পড়া মানুষকে উদ্ধার করা হচ্ছে। মৃতের মধ্যে কুরুনেগালার একটি বন্যাকবলিত বৃদ্ধাশ্রমের ১১ জন রয়েছেন।
বন্যা-ভূমিধসে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তার পাশাপাশি দেশের বাইরে থাকা শ্রীলঙ্কানদের আর্থিক সহযোগিতা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহর দ্বীপরাষ্ট্রটির পূর্ব উপকূলে আঘাত হেনেছিল, তবে পরে সরে গেছে। তবে এখনো সেখানে মৌসুমি বৃষ্টি চলছে। শ্রীলঙ্কায় এত ভয়াবহ আবহাওয়া খুবই বিরল বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
শ্রীলঙ্কার চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল ২০০৩ সালের জুনে। আসেময় ২৫৪ জনের প্রাণহানি হয়েছিল।
শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। গত শনিবার পর্যন্ত শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই ৩০০ জনের বেশি এবং থাইল্যান্ডে ১৬০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মালয়েশিয়ায়ও কয়েকজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।

