ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মধ্যরাতের আঁচড়

মেহরুন নিশি
প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬, ০২:৪৩ এএম

রাত তখন দুটো বাজে। নিঝুম অন্ধকার। বাইরে ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছে, আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বইছে ঝড়ো হাওয়া। জানলার কাচে বৃষ্টির ঝাপটা লেগে একটা অদ্ভুত ‘তড়তড়’ শব্দ হচ্ছে। তন্ময় কম্বলটা গলার কাছে টেনে কুঁকড়ে শুয়ে ছিল। হঠাৎ তার মনে হলো, খাটের নিচে কেউ কান্না করছে।

তন্ময়ের শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। সে চোখ বুজে ভাবল, হয়তো মনের ভুল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই সে অনুভব করল, তার খাটের নিচ থেকে একটা বরফ-শীতল হাত বেরিয়ে এলো। হাতটা একদম হাড়ের মতো শক্ত এবং হিমশীতল। হাতটা ধীরে ধীরে তন্ময়ের গোড়ালিটা চেপে ধরল। তন্ময় আতঙ্কে পাথর হয়ে গেল। সে চিৎকার করতে চাইল, কিন্তু গলা দিয়ে শব্দ বেরোলো না। সে অনুভব করল, সেই ঠান্ডা হাতের আঙুলগুলো তার চামড়ায় বিঁধে যাচ্ছে। ঘরের ভেতরটা যেন হুট করে আরও বেশি ঠান্ডা হয়ে গেল। সে স্পষ্ট শুনতে পেল খাটের নিচ থেকে কেউ একজন খুব ভারি গলায় নিঃশ্বাস ফেলছে। ভয়ে চোখ ফেটে জল বেরিয়ে আসার উপক্রম। কিন্তু তখনই তন্ময়ের মনে পড়ল তার বাবার কথাÑ ‘ভয় পেলে মানুষ ভুল দেখে, সাহস করে আলো জ্বালালে ভূত পালায়।’

তন্ময় সর্বশক্তি দিয়ে ঝটকা মেরে পা সরিয়ে নিল এবং এক লাফে সুইচবোর্ডের কাছে গিয়ে লাইটটা জ্বালিয়ে দিল। লাইট জ্বলতেই ঘরটা আলোয় ভরে গেল। তন্ময় হাঁপাতে হাঁপাতে খাটের দিকে তাকাল। কিন্তু খাটের ওপর বা নিচে কোনো ভূত নেই! তবে মেঝেতে দেখলো পানি আর তাতে একটা কালো ছায়া নড়াচড়া করছে।

তন্ময় ভালো করে লক্ষ্য করে দেখল, খাটের ঠিক ওপরেই জানালার পাল্লাটা বৃষ্টির বাতাসে একটু ফাঁক হয়ে গেছে। সেই ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির ঠান্ডা ঝাপটা সরাসরি তন্ময়ের পায়ের ওপর এসে পড়ছিল, যা মনের ভুলে তার মনে হয়েছে বরফ-শীতল হাত।

আর কান্নার শব্দ এবং ভারি নিঃশ্বাস? আসলে তন্ময়ের পোষা বিড়াল ‘মিনি’ খাটের নিচে গুটিসুটি মেরে শুয়ে ছিল। হঠাৎ ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টির ছাঁট দেখে সে ভয়ে গোঙাচ্ছিল।

তন্ময় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। জানালাটা ভালো করে আটকে দিয়ে সে যখন আবার শুতে গেল, তখন আর ভয় নয়, বরং নিজের বোকামি দেখে তার হাসি পেল।