× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান

প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৬, ০৬:৫৬ এএম

হাসিমুখে না বলতে শিখতে হবে

মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান

প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৬, ০৬:৫৬ এএম

হাসিমুখে না বলতে শিখতে হবে

আমাদের সমাজব্যবস্থায় ‘ভদ্রতা’ আর ‘মানিয়ে নেওয়া’ শব্দ দুটি যেন সমার্থক। আমরা বড় হই এক অদৃশ্য শৃঙ্খলের মাঝে, যেখানে অন্যকে খুশি রাখাটাই জীবনের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। বড় কোনো সিদ্ধান্ত হোক বা তুচ্ছ কোনো অনুরোধÑ আমাদের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খায়Ñ না বললে কী মনে করবে?

এই একটি প্রশ্ন আমাদের ভেতরকার নিজস্বতাকে তিলে তিলে মেরে ফেলে। অথচ জীবনকে সুন্দর করতে হলে কখনো কখনো বুক ফুলিয়ে ‘না’ বলাটা সবচেয়ে জরুরি হয়ে পড়ে।

শৃঙ্খল যখন ভদ্রতা

ছোটবেলা থেকেই আমাদের শেখানো হয় ত্যাগ করতে, মানিয়ে নিতে এবং অন্যকে অগ্রাধিকার দিতে। নিজের ইচ্ছা বা সীমার কথা বলাকে অনেক সময় ‘স্বার্থপরতা’ হিসেবে দেখা হয়। ফলে আমরা এমন এক জীবনে অভ্যস্ত হয়ে যাই যেখানে ‘হ্যাঁ’ বলাটা হয়ে দাঁড়ায় সামাজিক বাধ্যকতা, আর ‘না’ বলাটা হয়ে ওঠে এক ধরনের অপরাধবোধ। আমরা ক্লান্ত শরীরেও কাজ করি, অনিচ্ছা সত্ত্বেও দাওয়াতে যাই এবং মন না চাইলেও হাসিমুখে অভিনয় করি। এই অভ্যাস আমাদের মানসিক অবস্থাকে নিঃশব্দে ক্ষয় করতে থাকে।

নারীর কাঁধে প্রত্যাশার পাহাড়

বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই সংকট আরও গভীর। পরিবার, সংসার আর কর্মক্ষেত্রÑ সব জায়গাতেই তাদের হতে হয় ‘সব্যসাচী’। কন্যা, স্ত্রী, মা বা সহকর্মীÑ প্রতিটি ভূমিকায় নিখুঁত হওয়ার চাপে তারা ভুলে যান নিজের অস্তিত্বের কথা। সবাইকে সামলাতে গিয়ে নিজেকে সামলানোর ফুরসতটুকুও তারা পান না।

‘না’ কি তবে নেতিবাচক?

সমস্যাটা আসলে শব্দটিতে নয়, সমস্যা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে। আমাদের বুঝতে হবে : ‘না’ মানে কাউকে অপমান করা নয়; বরং নিজের সীমাকে সম্মান করা। ‘না’ মানে সম্পর্ক ভাঙা নয়; বরং একটি স্বচ্ছ ও সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি গড়া। “যখন আপনি ক্লান্ত, তখন ‘আজ নয়’ বলাটা আপনার নিজের প্রতি দায়বদ্ধতা। যখন আপনার সময় প্রয়োজন, তখন ‘এখন পারছি না’ বলাটা আপনার আত্মসম্মানের প্রকাশ।”

সুস্থ সম্পর্কের জন্য সীমারেখা

আমরা ভাবি সবাইকে খুশি রাখলেই সম্পর্ক টিকে থাকবে। কিন্তু এই জোর করে খুশি রাখার চেষ্টায় মনের ভেতরে ক্ষোভ আর অস্বস্তি জমা হতে থাকে। একসময় সেই চাপা ক্ষোভই বড় কোনো ফাটলের জন্ম দেয়। মনে রাখবেন, যেখানে স্পষ্টতা আছে, সেখানে ভুল বোঝাবুঝি কম। যেখানে নির্দিষ্ট সীমারেখা বা ‘ইড়ঁহফধৎু’ আছে, সেখানেই পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকে।

শিল্পসম্মতভাবে ‘না’ বলার কৌশল

‘না’ মানেই কর্কশ হওয়া নয়। এটি বলারও একটি মার্জিত ও মানবিক উপায় আছে। আপনি শান্তভাবে আপনার অবস্থানটি ব্যাখ্যা করতে পারেন অথবা বিকল্প কোনো প্রস্তাব দিতে পারেন। এতে সম্পর্ক নষ্ট হয় না, বরং আরও পরিণত হয়।

নিজের শান্তি আপনারই দায়িত্ব

সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, আপনি পৃথিবীর সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারবেন না। প্রত্যেকের প্রত্যাশা পূরণ করা কোনো মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। জীবন যেমন ছোট, এর ভেতরে আপনার দায়িত্বও অনেকÑ আর সেই দায়িত্বের একটি বড় অংশ হলো নিজের মানসিক শান্তি রক্ষা করা। আপনি যদি নিজের জন্য সময় না রাখেন, নিজের সীমা নির্ধারণ না করেন, তবে ভিড়ের মাঝে নিজেকেই হারিয়ে ফেলবেন।

তাই নিজের প্রতি ন্যায্য হওয়ার সময় এখনই। শিখতে হবে কখন হাসিমুখে ‘হ্যাঁ’ বলতে হয়, আর কখন দৃঢ়ভাবে ‘না’। কারণ, আপনার সময় যেমন মূল্যবান, তেমনি আপনার শান্তিও আপনারই পবিত্র দায়িত্ব।

লেখক : সিনিয়র শিক্ষক, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!