দেশের ডিজিটাল মার্কেটিং অঙ্গনের সেরা ক্যাম্পেইনগুলোকে স্বীকৃতি জানিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল নবম ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডের গালা। এ আসরে ২৬টি আলাদা ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয় ৮৯টি ক্যাম্পেইন। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের উদ্যোগে এবং মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজে (এমজিআই) পরিবেশনায় ও ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন দেশের ডিজিটাল মার্কেটার, বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ড পেশাজীবী, এজেন্সি নেতারা, মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিস্ট ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে এই অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়। রোববার (২১ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ১ নভেম্বর ২০২৪ থেকে ২৫ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চালু থাকা ক্যাম্পেইনগুলো মনোনয়নের জন্য বিবেচিত হয়। এবার প্রতিযোগিতার উত্তাপ ছিল রেকর্ড পর্যায়ে। ৬৬টি প্রতিষ্ঠান থেকে জমা পড়ে ১ হাজার ৭২টি মনোনয়ন।
সেরা ক্যাম্পেইন বাছাইয়ে অনুসরণ করা হয় সুনির্দিষ্টভাবে সাজানো দুই ধাপের জুরি মূল্যায়ন প্রক্রিয়া। প্রথম ধাপে শর্ট লিস্টিং পর্বে আটটি জুরি প্যানেলে ১১৩ জন বিশিষ্ট জুরি ক্যাম্পেইনগুলো যাচাই-বাছাই করে সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেন। এরপর শর্ট লিস্ট হওয়া ক্যাম্পেইনগুলো ওঠে অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ গ্র্যান্ড জুরি পর্বে। সেখানে আটটি গ্র্যান্ড জুরি সেশনে ১১০ জন স্বনামধন্য ক্যাটাগরি বিশেষজ্ঞ চূড়ান্ত মূল্যায়নের মাধ্যমে বেছে নেন সেরাদের সেরা।
চূড়ান্ত বিজয়ীদের মধ্যে ৬৩টি ক্যাম্পেইন ব্রোঞ্জ, ২০টি ক্যাম্পেইন সিলভার এবং ৬টি ক্যাম্পেইন গোল্ড অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। উৎকর্ষের সর্বোচ্চ মান অটুট রাখার প্রতিশ্রুতি থেকে এবার কোনো গ্র্যান্ড প্রিক্স দেওয়া হয়নি। জমকালো এই গালায় উপস্থিত ছিলেন পাঁচ শতাধিক ডিজিটাল মার্কেটিং ও ব্যবসায়িক পেশাজীবী।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছর ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ড আমাদের মনে করিয়ে দেয়Ñ আমাদের খাত কত দূর এগিয়েছে, আর কত দূর এগোনো সম্ভব। মার্কেটিং এখন আর কেবল গল্প বলা নয়; এটি এখন রিয়েল-টাইম এনগেজমেন্ট, হাইপার-পারসোনালাইজেশন এবং তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়।
‘আজ যাদের আমরা সম্মান জানাচ্ছি, সেই ক্যাম্পেইনগুলোই প্রমাণ করে, বাংলাদেশের মার্কেটাররা বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে চলতে পারে। এ অ্যাওয়ার্ড শুধু উৎকর্ষের স্বীকৃতি নয়; এটি আমাদের সবার প্রতি এক চ্যালেঞ্জÑ উদ্ভাবন চালিয়ে যাওয়ার, নতুন কিছু পরীক্ষা করার এবং বাংলাদেশে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সম্ভাবনাকে নতুন করে গড়ার।’ অ্যাওয়ার্ড পর্বের আগে একই ভেন্যু লা মেরিডিয়ান ঢাকায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ১২তম ডিজিটাল সামিট। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের আয়োজনে এই সামিটে বক্তা ও অংশগ্রহণকারী হিসেবে যোগ দেন দেশের ডিজিটাল মার্কেটার, বিজ্ঞাপন ও ক্রিয়েটিভ পেশাজীবী, ব্র্যান্ড ও কমিউনিকেশন নেতারা, মিডিয়া ও মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিস্ট, এজেন্সি নির্বাহী এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
‘রি-থিংকিং ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি, স্টোরি অ্যান্ড সায়েন্স’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবারের সামিটের আলোচনায় উঠে আসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বদলে যাওয়া ভোক্তা প্রত্যাশা, প্ল্যাটফর্ম ডিসরাপশন (দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন) এবং সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান সম্মিলনে প্রতিষ্ঠানগুলোর পথচলার নানা দিক। সামিটে ছিল তিনটি কিনোট সেশন, তিনটি প্যানেল ডিসকাশন, তিনটি ইনসাইট সেশন, দুটি কেস স্টাডি এবং একটি এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ।
দিনব্যাপী আলোচনায় উঠে আসে ভোক্তার পুরো যাত্রাপথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান প্রভাব, অ্যাটেনশন-ড্রিভেন মার্কেটিং (মনোযোগনির্ভর বিপণন) থেকে ইন্টেলিজেন্স-ড্রিভেন এনগেজমেন্টে (তথ্যনির্ভর সম্পৃক্ততা) রূপান্তর, নতুন ডিসকভারি ইকোসিস্টেমের (তথ্য ও পণ্য আবিষ্কারের নতুন ডিজিটাল পরিবেশ) উত্থান, ক্রিয়েটর ইকোনমি এবং তথ্য, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির সমন্বিত প্রয়োগের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব। এসব বিষয় দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের এই যুগে ব্র্যান্ডের প্রাসঙ্গিক থাকা এবং ভোক্তার সঙ্গে আরও দৃঢ় সম্পর্ক গড়ার পথ দেখায়। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ৯ম ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ড ও ১২তম ডিজিটাল সামিটের পরিবেশনায় ছিল মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই); সঞ্চালনায় ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর; স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে ছিল অ্যালেফ গ্রুপ, ইনক., বিবিএফ সিএমও ক্লাব, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভার্টাইজিং অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (আইএএবি) ও এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশন (এএমএফ)। নলেজ পার্টনার ছিল মার্কেটিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এমএসবি), হসপিটালিটি পার্টনার লা মেরিডিয়ান ঢাকা, অফিশিয়াল ক্যারিয়ার পার্টনার টার্কিশ এয়ারলাইনস এবং পিআর পার্টনার ব্যাকপেজ পিআর।

