ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

বড় লোকসানের আশঙ্কায় অতিরিক্ত চার্জ মওকুফসহ ৯ দাবি ব্যবসায়ীদের

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৬:৪৯ এএম

টানা ভারি বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরসহ যোগাযোগব্যবস্থায় ভয়াবহ স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পণ্য খালাস ও পরিবহনে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন রপ্তানিকারকেরা। সংকটময় এমন পরিস্থিতিতে রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে বন্দরসংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত চার্জ মওকুফ এবং জরুরি সহায়তা চেয়ে ৯ দফা দাবি জানিয়েছেন পোশাক ও শিল্প খাতের শীর্ষ নেতারা।

গতকাল মঙ্গলবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে পাঠানো এক যৌথ স্মারকলিপিতে ওই দাবিগুলো জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমইএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বন্যা ও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় পৌঁছাতে পারছে না, আবার তৈরি পণ্যও বন্দরে পাঠানো যাচ্ছে না। একদিকে শিপমেন্ট বিলম্বিত হচ্ছে, অন্যদিকে জাহাজ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে কনটেইনার ডেমারেজ ও অতিরিক্ত চার্জের বোঝা চাপানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সময়মতো পণ্য পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দীর্ঘ সময় এভাবে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হলে দেশের অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। বর্তমান এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই শিল্প খাত বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন সংগঠনগুলোর নেতারা। তাই জাতীয় স্বার্থে বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা ও ব্যবসায়ীদের ওপর আরোপিত বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ কমানোর জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

ব্যবসায়ীদের ৯ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ চট্টগ্রাম বন্দর এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও রেলপথ যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান; ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা, যারা ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করবে; পণ্য খালাসে বিলম্বের কারণে উদ্ভূত কনটেইনার ডেমারেজ, পোর্ট রেট, শিপিং চার্জ এবং অন্য সব ধরনের বাড়তি চার্জ সম্পূর্ণ মওকুফ করা; পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো চার্জ আরোপ থেকে বিরত থাকা; দ্রুত পণ্য খালাসে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ও তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করা; কাঁচামাল আমদানি ও রপ্তানি পণ্য খালাসে ব্যবসায়ীদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা। এ ছাড়া, বন্যা ও দুর্যোগজনিত কারণে এলসি, ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো এবং বিলম্বজনিত জরিমানা মওকুফ করা; ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প খাত পুনরুদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ প্রণোদনা বা সরকারি সহায়তা তহবিল গঠন করা এবং আমদানিকৃত কাঁচামাল ও রপ্তানি পণ্য খালাসে কাস্টমস এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সার্বক্ষণিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবিও জানান।