তপ্ত দুপুরে বাইরে বের হলেই রোদের তাপ চোখে-মুখে এসে লাগে। কেবল ত্বক নয়, তীব্র রোদের প্রভাব পড়ে আমাদের চোখের ওপরও। ফ্যাশন সচেতন মানুষের কাছে সানগ্লাস যেমন স্টাইল স্টেটমেন্ট, চিকিৎসা-বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি চোখের সুরক্ষার অন্যতম ঢাল। রোদের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চোখকে বাঁচাতে এবং দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা বজায় রাখতে সানগ্লাসের গুরুত্ব অনেক।
চোখের ঝুঁকি
সূর্যের আলোতে থাকা আলট্রাভায়োলেট বা অতিবেগুনি রশ্মি চোখের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দীর্ঘক্ষণ সরাসরি রোদে থাকলে এই রশ্মি চোখের কর্নিয়া ও লেন্সের ক্ষতি করতে পারে। সাধারণ অস্বস্তি থেকে শুরু করে ছানি পড়া কিংবা রেটিনার সমস্যা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। বিশেষ করে যারা দিনের বড় একটা সময় বাইরে কাটান, তাদের জন্য মানসম্মত সানগ্লাস ব্যবহার করা বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। একটি ভালো মানের পোলারাইজড সানগ্লাস সূর্যের প্রতিফলিত আলোকে নিয়ন্ত্রণ করে চোখের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে সাহায্য করে।
বাঁচার উপায়
তীব্র রোদে চোখ কুঁচকে হাঁটাচলা করা কেবল অস্বস্তিকরই নয়, এটি চোখের চারপাশের পেশিতেও চাপ সৃষ্টি করে। ফলে দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে মাথাব্যথা বা চোখ জ্বালাপোড়া করার মতো সমস্যা দেখা দেয়। সানগ্লাস পরলে চোখের মণি সরাসরি আলোর তীব্রতা থেকে রক্ষা পায়, যা চোখের স্নায়ুকে শান্ত রাখে। ধুলাবালি ও গরম বাতাসের ঝাপটা থেকেও এটি রক্ষা দেয়। যারা ড্রাইভিং করেন বা বাইক চালান, তাদের জন্য রাস্তার ওপর রোদের ঝিলিক এড়িয়ে নিরাপদে পথ চলায় সানগ্লাস বিশ্বস্ত সঙ্গী।
সঠিক ফ্রেম নির্বাচন
সানগ্লাসের কথা আসবে আর মানানসই ফ্রেমের কথা হবে না, তা কি হয়? সানগ্লাস কেনার সময় নিজের মুখের গড়ন বুঝে ফ্রেম বেছে নেওয়া জরুরি। দেখে নিন আপনার জন্য কেমন ফ্রেম মানানসই হবে-
গোলাকার মুখ : যাদের মুখ গোলাকার, তারা একটু চৌকো বা রেক্ট্যাঙ্গুলার ফ্রেম বেছে নিতে পারেন। এটি মুখে একটি শার্প লুক নিয়ে আসে।
চৌকো মুখ : আপনার চিবুক বা চোয়াল যদি একটু চওড়া হয়, তবে রাউন্ড বা ওভাল শেপের ফ্রেম ব্যবহার করুন। এতে মুখের কঠিন ভাব অনেকটা কোমল দেখায়।
ডিম্বাকৃতি মুখ : এই রকম মুখে প্রায় সব ধরনের ফ্রেমই মানিয়ে যায়। তবে এভিয়েটর বা ওয়েফেয়ারার স্টাইল সবসময়ই ক্ল্যাসিক।
হার্ট শেপ : কপাল চওড়া এবং চিবুক সরু হলে ক্যাট-আই বা বটম-হেভি ফ্রেম বেশ ভালো দেখায়।
রঙের বৈচিত্র্য
সানগ্লাসের লেন্সের রঙের ওপরও নির্ভর করে আপনি কতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। কালো বা ধূসর লেন্স রঙের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখে এবং চোখের ক্লান্তি কমায়। বাদামি বা অ্যাম্বার রঙের লেন্স কন্ট্রাস্ট বাড়াতে সাহায্য করে, যা মেঘলা দিনে বা আউটডোর স্পোর্টসের জন্য উপযোগী। তবে ফ্যাশনের খাতিরে অনেকে নীল, সবুজ বা আয়নাযুক্ত লেন্স পছন্দ করেন। লেন্সের রং যাই হোক না কেন, সেটি যেন শতভাগ ইউভি প্রোটেকশন নিশ্চিত করে সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
যত্নে থাকুক প্রিয় সানগ্লাস
সানগ্লাস কেবল কিনলেই হয় না, তার সঠিক যতœ নেওয়াও প্রয়োজন। ব্যবহারের পর সবসময় নির্দিষ্ট কেস বা বক্সে রাখুন। যেখানে সেখানে ফেলে রাখলে লেন্সে স্ক্র্যাচ পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে, যা দৃষ্টির ক্ষতি করতে পারে। লেন্স পরিষ্কার করার জন্য টিস্যু বা সাধারণ কাপড় ব্যবহার না করে চশমার সঙ্গে দেওয়া মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করুন। গরমের দিনে গাড়ির ড্যাশবোর্ডে দীর্ঘক্ষণ সানগ্লাস ফেলে রাখা ঠিক নয়, কারণ অতিরিক্ত তাপে ফ্রেমের আকার নষ্ট হতে পারে বা লেন্সের কোটিং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফ্যাশন এবং উপযোগিতা- এই দুইয়ের দারুণ সমন্বয় হলো সানগ্লাস। কেবল সুন্দর দেখানোর জন্য নয়, চোখের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার কথা ভেবেই আপনার সংগ্রহে অন্তত একটি ভালো মানের রোদচশমা থাকা উচিত। এই গরমে ধুলোবালি আর রোদের তাপ এড়িয়ে চোখকে সতেজ রাখতে সানগ্লাস ব্যবহারের বিকল্প নেই। তাই রোদে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিনের পাশাপাশি প্রিয় সানগ্লাসটি নিতে ভুলবেন না। আপনার চোখ জোড়া শান্ত থাকলে এই তপ্ত গ্রীষ্মও হয়ে উঠতে পারে আনন্দময়।

