× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মিনহাজুর রহমান নয়ন

প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২৬, ০৬:০৭ এএম

দেয়ালের ভালো-মন্দ

মিনহাজুর রহমান নয়ন

প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২৬, ০৬:০৭ এএম

দেয়ালের ভালো-মন্দ

ঘরের দেয়ালে রং করা মানে শুধু নতুন একটা রঙের প্রলেপ দেওয়া নয় এটা পুরো বাসার আবহ, আরাম, এমনকি মানসিক অবস্থারও পরিবর্তন এনে দেয়। অনেক সময় হুট করে পছন্দের রং বেছে নিয়ে দেয়াল রাঙানো হয়, কিন্তু কিছুদিন পরই বোঝা যায় সেটি পরিবেশের সঙ্গে মানাচ্ছে না বা টেকসই হচ্ছে না। তাই রং করার আগে দরকার পরিকল্পনা, পর্যবেক্ষণ এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতনতা। আপনে যদি সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন তবে ঘরের রং আপনাকে অনেকভাবে প্রভাবিত করবে। তাই আপনার মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বুঝে বাড়িঘরের রং করা উচিত।

রং বাছাই : নান্দনিকতা ও বাস্তবতার সমন্বয়

দেয়ালের রং বাছাই করার সময় সবচেয়ে বড় ভুল হয় আসবাব বা ইন্টেরিয়র বিবেচনায় না রাখা। একটি ঘরে যদি গাঢ় রঙের সোফা বা কাঠের ফার্নিচার থাকে, সেখানে খুব উজ্জ্বল বা বেমানান রং ব্যবহার করলে তা চোখে খটকা লাগবে। তাই রং নির্বাচনের আগে ঘরের বিদ্যমান উপাদানÑ ফার্নিচার, পর্দা, কার্পেট সবকিছুর সঙ্গে মিল রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। এ ছাড়া সব ঘরে একই রং ব্যবহার করলে তা একঘেয়ে হয়ে যায়। ঘরের ব্যবহার অনুযায়ী রং নির্বাচন করলে তা অনেক বেশি কার্যকর হয়। যেমনÑ কাজের জায়গায় একটু প্রাণবন্ত রং, আর বিশ্রামের জায়গায় শান্ত রংÑ এই ভারসাম্য ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোÑ প্রাকৃতিক আলো। যেসব ঘরে সূর্যের আলো বেশি ঢোকে, সেখানে হালকা বা প্যাস্টেল শেড দারুণ লাগে। কিন্তু আলো কম ঢুকলে উজ্জ্বল বা উষ্ণ রং ব্যবহার করলে ঘর প্রাণ ফিরে পায়।

সবশেষে, সরাসরি পুরো দেয়াল রাঙানোর আগে ছোট একটি অংশে রং পরীক্ষা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ আলো, দেয়ালের টেক্সচার সবকিছু মিলিয়ে বাস্তবে রং অনেক সময় ভিন্ন দেখাতে পারে।

আধুনিক ট্রেন্ড : টেক্সচার ও ফোকাল ওয়াল

বর্তমান সময়ে ইন্টেরিয়র ডিজাইনে টেক্সচার পেইন্ট ও স্ক্রিন পেইন্ট বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আগের মতো শুধু এক রঙে পুরো ঘর রাঙানোর বদলে এখন একটি দেয়ালকে আলাদা করে তোলা হচ্ছে।

সাধারণত তিনটি দেয়াল হালকা বা নিরপেক্ষ রঙে রেখে একটি দেয়ালে টেক্সচার পেইন্ট করা হয়। এই টেক্সচার দেয়ালে একটি ত্রিমাত্রিক অনুভূতি তৈরি করে, যা ঘরের ফোকাল পয়েন্ট হয়ে ওঠে।

এই ধরনের দেয়ালে পারিবারিক ছবি, পেইন্টিং বা ডেকোর আইটেম রাখলে তা আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এতে খুব বেশি খরচ ছাড়াই ঘরের লুক পুরো বদলে ফেলা সম্ভব।

ঘরভেদে রঙের ব্যবহার : অনুভূতির বিজ্ঞান

প্রতিটি ঘরের আলাদা ব্যবহার রয়েছে, তাই সেই অনুযায়ী রং নির্বাচন করা উচিত।

ড্রয়িংরুম হলো অতিথিদের জন্য উন্মুক্ত জায়গা। এখানে উজ্জ্বল ও সতেজ রং যেমন রোজ বেরি, ওশান গ্রিন বা লেমন ইয়েলো ব্যবহার করলে ঘর প্রাণবন্ত লাগে এবং ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি হয়। ডাইনিং রুমে উষ্ণ রং যেমন হলুদ বা কমলা ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করে এবং খাবারের পরিবেশকে আনন্দদায়ক করে তোলে। চাইলে ফ্লোরাল মোটিফ বা ডিজাইন ব্যবহার করে এটিকে আরও নান্দনিক করা যায়।

বেডরুমে দরকার শান্তি ও স্বস্তি। তাই হালকা সাদা, অফ-হোয়াইট, লাইট গ্রিন বা হালকা ভায়োলেটের মতো রং ঘুমের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। শিশুদের ঘর সবচেয়ে সংবেদনশীল। এখানে রং তাদের মানসিক বিকাশে প্রভাব ফেলে। তাই শিশুর পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে, প্রয়োজনে তাদের প্রিয় চরিত্র বা থিম ব্যবহার করে ঘর সাজানো যেতে পারে।

ড্যাম্প সমস্যা : অদৃশ্য কিন্তু ক্ষতিকর

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় দেয়ালের সবচেয়ে বড় শত্রু হলোÑ ড্যাম্প বা স্যাঁতসেঁতে ভাব। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। টানা বৃষ্টির পানি দেয়ালের ফাটল দিয়ে ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। আবার বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতা দেয়ালে জমে ঘনীভূত হয়ে স্যাঁতসেঁতে ভাব তৈরি করে। অনেক সময় মাটির নিচ থেকে পানি উঠে এসে দেয়ালের ভেতর দিয়ে উপরে উঠে যায়। এ ছাড়া বাথরুম বা রান্নাঘরের পাইপ লিকেজ থেকেও দেয়াল ভিজে যেতে পারে। এসব কারণে দেয়ালের রং উঠে যায়, দেয়াল ফুলে ওঠে এবং কালো দাগ পড়ে। দীর্ঘদিন এমন থাকলে ফাঙ্গাস তৈরি হয়, যা শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি সতর্কতা

ঘরের কিছু জায়গা আছে, যেখানে ড্যাম্প হওয়ার ঝুঁকি বেশি, এসব জায়গায় বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি। ওয়াশরুম সব সময় আর্দ্র থাকে। তাই এখানে ভালো মানের ওয়াটারপ্রুফ কোটিং ব্যবহার না করলে দ্রুত ফাঙ্গাস ছড়াতে পারে।

ছাদ ও পানির ট্যাংক সব ধরনের আবহাওয়ার সরাসরি প্রভাব নেয়। তাই এখানে ফাটল বা লিকেজ থাকলে তা দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। অন্দর দেয়াল, বিশেষ করে বাথরুমসংলগ্ন দেয়ালগুলোতে ড্যাম্প বেশি হয়। এসব জায়গায় রং করার সময় অবশ্যই ওয়াটারপ্রুফ পেইন্ট ব্যবহার করা উচিত।

দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষায় করণীয়

দেয়াল রং করার আগে কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে অনেক ঝামেলা এড়ানো যায়। প্রথমেই দেয়ালের ফাটল বা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করতে হবে। এরপর ভালো মানের, পরিবেশবান্ধব এবং ওয়াটারপ্রুফ পেইন্ট নির্বাচন করা উচিত।

প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ দিয়ে দেয়ালের অবস্থা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া যেতে পারে, যাতে ড্যাম্পের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে সমাধান করা যায়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করলে দেয়ালের সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব অনেকদিন বজায় থাকে। দেয়াল রং করা মানে শুধু ঘর সাজানো নয় এটি আপনার জীবনযাত্রার মান উন্নত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সঠিক রং নির্বাচন, আধুনিক ট্রেন্ডের ব্যবহার এবং ড্যাম্প প্রতিরোধের ব্যবস্থা এই তিনের সমন্বয়ই পারে একটি ঘরকে করে তুলতে আরামদায়ক, সুন্দর এবং দীর্ঘস্থায়ী।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!