× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রুবেল রহমান

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ১১:০৩ পিএম

প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করতে প্রস্তুতি, নিরাপত্তায় জোর

রুবেল রহমান

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ১১:০৩ পিএম

রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টা ধরে ক্ষণ গণনায় সময় পার করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। কারণ, কয়েকদিন পরেই দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলটির নেতারা মনে করেন, প্রিয় নেতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় শুধু দল নয়, প্রহর গুনছে পুরো দেশ। বিএনপি মনে করছে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবসান হতে চলেছে তারেক রহমানের নির্বাসিত জীবনের। কাটা হয়েছে উড়োজাহাজের টিকিট। তিনি হাতে পেয়েছেন ‘ট্রাভেল পাস’। এখন শুধু দেশের মাটিতে পা রাখার অপেক্ষা। ১৭ বছরের বেশি সময় পর যুক্তরাজ্য থেকে আগামী ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।

এদিকে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তেমনি নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে রয়েছে শঙ্কাও। মূলত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনার পরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, সব রাজনৈতিক নেতা যাতে নিরাপদে থাকেন, সে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না; তবে, সরকারের দায়িত্ব আছে, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব আছে। জনগণের সচেতনতাও জরুরি।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের যেকোনো নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান দেশে এলে তার নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ কোনো ঝুঁকির তথ্য নেই, তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তির দেশে ফেরা সব সময়ই একটি সংবেদনশীল বিষয়। সে কারণে আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তারেক রহমানসহ দেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পুলিশ বলছে, দেশে ফেরার পর তারেক রহমান এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গমনাগমনের সময় পাবেন পুলিশ প্রটেকশনসহ বিশেষ নিরাপত্তা। এছাড়া তারেক রহমানের বাসভবন ও অফিসেও থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়া কাউকে তার ধারেকাছে ভিড়তে দেবে না পুলিশ। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও ছদ্মবেশে গোয়েন্দারা তারেক রহমানের নিরাপত্তার দিকটি দেখভাল করবেন। বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে। তারা আশা প্রকাশ করেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ও যথাযথ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনি দেশে ফিরবেন।

বিমান সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, তারেক রহমান তার মেয়েসহ পরিবারের তিনজন সদস্য, ব্যক্তিগত সরকারি ও প্রেস সচিবসহ মোট ছয়জনের জন্য রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে ওয়ানওয়ে টিকিট সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া তারেক রহমানের আগমন ঘিরে ঢাকা-লন্ডন রুটে বিমানের সব টিকিট বিক্রি হয়েছে মুহূর্তেই। তার আগমন ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভ্রমণের কারণে টিকিটের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালক (বিপণন ও বিক্রয়) আশরাফুল আলম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘সাধারণত বছরের এই সময়ে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার রুটগুলোয় যাত্রীদের চাপ বেশি থাকে। বড়দিনের ছুটিতে অনেক প্রবাসী দেশে ফেরেন।’

তারেক রহমানের আগমন ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভ্রমণের কারণে টিকিটের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আশরাফুল আলম বলেন, ‘এটি একটি কারণ হতে পারে। তবে সচরাচর বছরের এই সময়ে আমাদের এসব রুটে যাত্রীদের অনেক চাপ থাকে।’ এরই মধ্যে নিরাপত্তার স্বার্থে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যে ফ্লাইটে ঢাকা আসবেন সেটির দায়িত্বে থাকা দুই কেবিন ক্রুকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন, জুনিয়র পার্সার মো. সওগাতুল আলম সওগাত ও ফ্লাইট স্টুয়ার্ডস জিনিয়া ইসলাম। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্যের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরিয়ে দেওয়া দুই কেবিন ক্রুর সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের অসংখ্য ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা দুইজন নিয়মিত শেখ সেলিমের ফ্লাইট পরিচালনা করতেন বলে জানা গেছে।

এদিকে তারেক রহমানকে বহন করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইটটি আগামী বুধবার সন্ধ্যায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। ফ্লাইটটিতে তারেক রহমানের পরিবারের সদস্য ও বিএনপির শীর্ষ নেতারাও থাকবেন বলে জানা গেছে। বিমান সূত্র জানায়, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দুইজনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ভিআইপি যাত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা উল্লেখ থাকায় তাদের দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাদের পরিবর্তে ফ্লাইট পার্সার মোস্তফা ও ফ্লাইট স্টুয়ার্ডেস আয়াতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমানের ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগ।

আরেকটি সূত্র জানায়, তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখার পর তাকে বহনকারী গাড়ির আগে-পিছে পুলিশ প্রটেকশন দেবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশ প্রটেকশনের গাড়িসহ তারেক রহমানের ধারেকাছে যারা ডিউটি করবেন, তাদের সিকিউরিটি ভেটিং শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। তাদের রাজনৈতিক আদর্শ এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে তদন্তের পর তারেক রহমানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএমপি।

গোয়েন্দা তদন্তে যেসব পুলিশ সদস্যের বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া যাবে না, তাদের তারেক রহমানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত করা হবে না। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও ছদ্মবেশে গোয়েন্দারা তারেক রহমানের নিরাপত্তার দিকটি দেখভাল করবেন। জানা যায়, তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে গুলশানে আসার পথে কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওইদিন তার নিরাপত্তা উপলক্ষে মাঠে থাকবে ঢাকা মহানগর পুলিশের সোয়াট টিম, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। তার বাসা ও অফিস ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে পুলিশ।

প্রায় দেড় যুগ পর প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরছেন দেশের রাজনীতির অন্যতম বরপুত্র। তাই তো বরণে প্রস্তুতির কমতি নেই। দলীয় শীর্ষ নেতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসটি স্মরণীয় করে রাখতে স্মরণকালের বৃহত্তম গণজমায়েতের পরিকল্পনা করছে দলটি। তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানাতে ৩০০ ফিটে জনসমাবেশ আয়োজন করবে বিএনপি। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুইয়া রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রিয় নেতা অবতরণের পর প্রথমেই আমার নিজ এলাকায় সংবর্ধনাÑ তাকে পেয়ে স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ অভ্যর্থনা জানাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। উদযাপন কমিটি যেভাবে চাইবে সর্বোচ্চটা দিয়ে আমরা সহযোগিতা করব। আয়োজনে কোনো কমতি থাকবে না।’

এরই মধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে যাতায়াত পথ। বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সংবর্ধনাস্থল, এভারকেয়ার হাসপাতাল এবং ফিরোজার সামনের সড়কে নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খল অবস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। রূপালী বাংলাদেশকে এমনটি জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ রূপালী বাংলাদেশকে জানিয়েছেন বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমান সরাসরি যাবেন পূর্বাচলে। যেখানে দেওয়া হবে স্মরণকালের সেরা সংবর্ধনা। পরে তিনি অসুস্থ মাকে দেখতে যাবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে। বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসভবন পর্যন্ত যাত্রাপথে গড়ে তোলা হবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয়। শুধু ঢাকা নয়, দেশের সব জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায় থেকে সংবর্ধনায় যোগ দেবেন দলের লাখো নেতাকর্মী। বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে তাদের জন্য।

সারা দেশ থেকে কর্মীরা আসবে- তাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষকে। কক্সবাজার-ঢাকা, সিলেট-ঢাকা, জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা, টাঙ্গাইল-ঢাকা, চাঁপাইনব্বাগঞ্জ-রাজশাহী-ঢাকা, পঞ্চগড়-নীলফামারী-পার্বতীপুর-ঢাকা ও কুড়িগ্রাম-রংপুর-ঢাকা রুটের জন্য একটি করে স্পেশাল ট্রেন/অতিরিক্ত বগি রিজার্ভ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এসব ট্রেনের ভাড়া বিএনপি পরিশোধ করবে বলে জানা গেছে। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে অবসান ঘটতে যাচ্ছে নির্বাসিত জীবনের। ফিরবেন প্রিয়নেতা। যার জন্য চাতকের মতো অপেক্ষায় পুরো দেশ।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!