যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার-বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ। প্রিয় নেতার দেশে ফেরা কেন্দ্র করে উচ্ছ্বসিত বিএনপির নেতাকর্মীরা। শীর্ষ নেতাকে বরণ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। উৎসবমুখর পরিবেশে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। নেতাকর্মীরা নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ঝুলিয়েছেন ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও বিলবোর্ড। বড় অক্ষরে লেখা- ‘লিডার আসছে’, ‘হে বিজয়ী বীর, তোমাকে স্বাগত’ ইত্যাদি স্লোগান। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টন, মৎস্য ভবন মোড়, কাকরাইল, মোহাম্মদপুর, কারওয়ান বাজার, মহাখালী, গুলশান, বাড্ডাসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে লাগানো এসব ব্যানার-বিলবোর্ডে বড় আকারে শোভা পেয়েছে তারেক রহমানের ছবি।
দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশে পা রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এজন্য ঢাকার ৩০০ ফিটে গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছে দলটি। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ৬৩ জেলা থেকেই ঢাকায় রওনা দিচ্ছেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। বিভিন্ন পরিবহনে করে ঢাকায় ছুটছেন তারা। দলের পক্ষ থেকে বেশ কিছু ট্রেনও রিজার্ভ করা হয়েছে
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীরা নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবেই নগরজুড়ে এই প্রচারমূলক কার্যক্রম চলছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন তাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে দলীয় রাজনীতিতে নতুন গতি আসবে। ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংবর্ধনা দিতে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বিশাল মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু করেছে দলটি। এর আগে রোববার দুপুর থেকে বিশ^ রোডে পূর্বাচলমুখী ৩০০ ফিট সড়কের একটি অংশজুড়ে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়।
নেতাকর্মীদের চোখে-মুখে আনন্দের ছাপ :
দীর্ঘ ১৭ বছর তিন মাস ১৫ দিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরছেন। তারেক রহমানকে বরণ করতে প্রস্তুত দেশবাসী, সংবর্ধনা জানাতে তৈরি মঞ্চ। সরেজমিনে দেখা যায়, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান বাংলাদেশে আসাকে কেন্দ্র করে সংবর্ধনা জানাতে রাজধানীর পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় নান্দনিক সভামঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। সভামঞ্চ এলাকা দেখতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ছুটে আসছেন নেতাকর্মীরা। তাদের চোখে-মুখে আনন্দের ছাপ। নেতাকর্মী-সমর্থকসহ সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকার এই ভেন্যুটি গত এক সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় পরিদর্শন করেন বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। গতকাল সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে তারেক রহমানের সভামঞ্চ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে গণসংবর্ধনা জানাতে ৩০০ ফিটে প্রায় অর্ধ কোটি নেতাকর্মীর পাশাপাশি সমর্থকদের সমাগম হবে। এ ছাড়াও গত কয়েকদিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাউদ্দিন আহমদসহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ গণসমাবেশস্থলের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন।
লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে সমাবেশকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা :
জানা যায়, প্রায় ৫০ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের জোয়ার বয়ে চলছে। পূর্বাচলের ৩০০ ফিটের ভেন্যু দেখতে আসা নেতাকর্মীরা বলেন, আমরা এসেছি আমাদের নেতার মঞ্চ দেখতে। আমরা অত্যন্ত খুশি, আমাদের তরুণ প্রজন্মের নেতাকর্মীরা তারেক রহমানকে ১৭ বছর যাবৎ দেখি না, আমরা এতটাই খুশি যে বলারও ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা যায়, তারেক রহমানকে ঘিরে ‘বিশেষ নিরাপত্তাবলয়’ নির্ধারণ হয়েছে। তার প্রত্যাবর্তন ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তেমনি নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রকাশ পাচ্ছে শঙ্কা, বাড়ছে উদ্বেগ। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঢাকায় ছুটছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা :
দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশে পা রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ৬৩ জেলা থেকেই ঢাকায় রওনা দিচ্ছেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। বিভিন্ন পরিবহনে করে ঢাকায় ছুটছেন তারা। দলের পক্ষ থেকে বেশ কিছু ট্রেনও রিজার্ভ করা হয়েছে। রূপালী বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে এসব তথ্য জানা গেছে।
মেহেরপুর জেলা থেকে পাঁচ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে জেলা বিএনপি। জেলা বিএনপির সভাপতি জাবেদ মাসুদ মিল্টন জানান, জেলার তিনটি উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাস, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে ঢাকায় যাবেন। পাশাপাশি অনেক নেতাকর্মী নিজ নিজ সুবিধাজনক সময় ও উপায়ে এরই মধ্যে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। অনেকে সেখানে পৌঁছেছেন।
নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢাকায় যাতায়াতের সুবিধার্থে ১০০টি বাস ভাড়া করেছে নওগাঁ জেলা বিএনপি। জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, দেশনায়ককে বরণ করে নিতে জেলা বিএনপি অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে। নেতাকর্মীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ১০০টি বাস ভাড়া করা হয়েছে। প্রতিটি বাসে ৬০-৬৫ জন করে যেতে পারবেন। এখন পর্যন্ত আমাদের ধারণা, প্রায় সাত হাজার নেতাকর্মী নওগাঁ থেকে ঢাকায় যাবেন।
গাইবান্ধা থেকে বিএনপি-অঙ্গ সংগঠনের অন্তত ২০ হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় যাচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলার ৮১টি ইউনিয়ন এবং চারটি পৌরসভার বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব ইউনিটের নেতাকর্মীরা ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। পাঁচ শতাধিক পরিবহন, বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ভাড়া করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জের দুই উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে ৩০০ গাড়িবহরে নেতাকর্মীরা উপস্থিত হবেন বলে জানানো হয়েছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের জেলা বিএনপির উদ্যোগে শত শত গাড়ি যাবে। তবে গাড়ির সংখ্যা এখনো বলতে পারছি না। প্রার্থীরা নিজ আসনের হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে উপস্থিত হবেন।’
ঢাকায় নেতাকে স্বাগত জানাতে নেত্রকোনা বিএনপির ৫০ হাজার নেতাকর্মী প্রস্তুতি নিয়েছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক বলেন, ‘২৫ ডিসেম্বর একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। ওই দিনে আমাদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটবে। নেতাকে স্বাগত জানাতে বিএনপির পক্ষ থেকেই প্রায় ৫০ হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এজন্য বাস, মাইক্রোসহ বিভিন্ন যানবাহন ভাড়া নেওয়া হয়েছে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে খুলনা বিএনপি। মহানগর ও জেলা শাখার পক্ষ থেকে প্রায় ১২-১৪ হাজার নেতাকর্মী ঢাকা যাবেন। খুলনা মহানগর থেকে শতাধিক এবং জেলা থেকে ৫০টির বেশি বাসে করে তারা রওনা দেবেন। একটি বিশেষ ট্রেন চেয়ে রেল সচিবের কাছে আবেদন করেছেন দলটির নেতারা।
রাজশাহী থেকে ৩৫ হাজারের বেশি নেতাকর্মী ও সমর্থক ঢাকায় যাবেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ট্রেন, বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে করে ঢাকায় যাবেন তারা। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, রাজশাহী-৬ আসন থেকে ৪-৫ হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় যাবেন। সবচেয়ে বেশি এই আসন থেকে যাবেন। এছাড়া রাজশাহীর সব উপজেলা থেকে সব মিলিয়ে ২২-২৫ হাজার নেতাকর্মী যাবেন।
রংপুর থেকে অন্তত ৫০ হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম জানান, রংপুর থেকে ৫০ হাজার মানুষ ঢাকা যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর থেকে ২০ হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় যাবেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সড়ক ও নদীপথে তারা ঢাকা যাবেন। বাকিরা বুধবার ২৪ ডিসেম্বর রাতের মধ্যে পৌঁছে যাবেন। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান জানান, তারেক রহমানকে দেখতে লক্ষ্মীপুর থেকে বিএনপির ২০ হাজার নেতাকর্মীর ঢাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সাতক্ষীরা জেলা থেকে ১০-১২ হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় যাবেন বলে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিবহন সংকটের কারণে অনেক নেতাকর্মী ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
বাগেরহাট জেলার ৯টি উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মী ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ উপলক্ষে বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ভাড়া করা হয়েছে। বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, বাগেরহাট থেকে চারটি ও কচুয়া থেকে ছয়টি বাসসহ প্রতিটি উপজেলা থেকে বিভিন্ন পরিবহন ভাড়া করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন