শত শত গ্রাহক এবং ট্রাভেল এজেন্টের হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে এরই মধ্যে পালিয়েছে ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’ ও ‘ফ্লাই ফার’ নামে দুটি ট্রাভেল এজেন্সি। তাদের মতো আরেক প্রতারক দোয়েল এয়ারওয়েজ লিমিটেডের সন্ধান পাওয়া গেছে। বেশ কিছু স্বনামধারী এয়ারলাইনস, এয়ারলাইনসের জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ), ট্রাভেল এজেন্সি এবং যাত্রী পর্যায়ে টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে দোয়েলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জি কে এম সাদিকুল আমিন ওরফে আনন্দের বিরুদ্ধে। কে বাংলা ট্রাভেলস লিমিটেডের সিইও হিসেবে একটি এয়ারলাইনসের পরিবহনকৃত যাত্রীসংখ্যা গোপন করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (ক্যাব) বিভিন্ন ধরনের ফি বাবদ কম রাজস্ব পরিশোধ করেছেন আনন্দ। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাও ফেলেছেন ঝুঁকিতে। আবার বিক্রি নিষিদ্ধ টিকিটসহ শত শত ভুয়া টিকিট বিভিন্ন এজেন্সির কাছে বিক্রির বিনিময়ে হাতিয়েছেন বিপুল অর্থ।
অ্যাভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দোয়েল এয়ারওয়েজের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে প্রতিষ্ঠান ও এর উদ্যোক্তা সাদিকুল আমিনের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করা উচিত কর্তৃপক্ষের।
২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল এবং ঢাকার মধ্যে নন-শিডিউলড চার্টার ফ্লাইট পরিচালনা করে ‘এয়ার প্রিমিয়া’। এ ধরনের ফ্লাইট পরিচালনার অন্যতম শর্ত হলো, এয়ার প্রিমিয়া অথবা তার কোনো প্রতিনিধি বাংলাদেশে এই রুটের ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রচার করতে পারবে না। এয়ার প্রিমিয়ার জিএসএ তথা বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে শুরু থেকেই কাজ করছিল কে বাংলা ট্রাভেলস লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আনন্দ এবং চেয়ারম্যান মাহবুবা খাতুন। মাহবুবা এয়ার প্রিমিয়ার কোরিয়ার চার্টারার ‘কেবি অ্যাভিয়েশন’-এর চেয়ারম্যান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কোরীয় নাগরিক আবু বকর সিদ্দিকের স্ত্রী।
তথ্য অনুসারে, এয়ার প্রিমিয়া পরিচালিত ফ্লাইটে ‘প্যাসেঞ্জার ম্যানিফেস্টো’ বা ‘যাত্রীর তথ্যবিবরণী’তে ভয়াবহ প্রতারণা করেছেন আনন্দ। বাংলাদেশ থেকে বহির্গামী ফ্লাইটে এয়ারলাইনসকে যাত্রীপ্রতি নির্দিষ্ট ফি দিতে হয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক)। প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক প্রতি যাত্রীর জন্য এই ফি’র পরিমাণ যথাক্রমে ২৮ দশমিক ৭৫ এবং ২৩ মার্কিন ডলার। উড্ডয়নের আগে এবং বোর্ডিং গেট বন্ধের পরই উড়োজাহাজের যাত্রী ও ক্রু সংখ্যার হিসাব হয়। এজন্য উড্ডয়ন-পরবর্তী সময়ে ওই ফি পরিশোধ করে জিএসএ।
রূপালী বাংলাদেশের অনুসন্ধানে এয়ার প্রিমিয়ার এমন কিছু ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য এবং তার জিএসএ ‘কে বাংলা’র পরিশোধিত ফির মধ্যে গরমিল পরিলক্ষিত হয়। ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে সিউলের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্যবিবরণীতে পাইলট উল্লেখ করেছিলেন, তার উড়োজাহাজে ২৬৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ, মোট ২৭৮ জন যাত্রী (ক্রু ব্যতীত) রয়েছেন। কিন্তু এই ফ্লাইটের বিপরীতে ২০ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী কম দেখিয়ে ফি দেয় কে বাংলা। ফলে ৫৭৫ মার্কিন ডলার বা ৬৯ হাজার টাকা ফি কম পায় বেবিচক। একই বছরের ১৭ নভেম্বরের ফ্লাইটে ককপিট থেকে দেওয়া তথ্যানুযায়ী উড়োজাহাজে ২৬০ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৬ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক, মোট ২৭৬ জন যাত্রী ছিল। কিন্তু পরে শুধু ২৪৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১১ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক যাত্রীর নির্ধারিত ফি পরিশোধ করা হয়। অর্থাৎ, ১৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী কম দেখিয়ে আবারও ৫৭৫ ডলার বা ৬৯ হাজার টাকা কম ফি দেওয়া হয় বেবিচককে। একই বছরের ২০ অক্টোবরের আরেকটি ফ্লাইটের ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক যাত্রীর সংখ্যা ঠিক থাকলেও হেরফের করা হয় প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রীর ক্ষেত্রে। প্রকৃত ২৯৫ জন যাত্রীর বদলে বেবিচককে ২৭১ জন যাত্রীর ফি পরিশোধ করা হয়। অর্থাৎ, ৬৯০ ডলার বা প্রায় ৮৩ হাজার টাকার ফি ফাঁকি দেয় ‘কে বাংলা’। এভাবে কতগুলো ফ্লাইটে আনন্দ মোট কত যাত্রী কম দেখিয়েছেন, তার কোনো হিসাব নেই। তথ্য অনুসারে, কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৬০টিরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে এয়ার প্রিমিয়া।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই প্রতারণার মূল ‘মাস্টারমাইন্ড’ কে বাংলার প্রধান নির্বাহী আনন্দ। বিষয়টি আঁচ করে ২০২৫ সালের মে মাসে আনন্দকে সাময়িক বরখাস্ত করে অভ্যন্তরীণ তদন্তের উদ্যোগ নেন কে বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহসিনুল বারী শাকির। তবে চেয়ারম্যান মাহবুবা খাতুনের হস্তক্ষেপে উলটো এয়ার প্রিমিয়ার বাংলাদেশের জিএসএ চুক্তি হারায় কে বাংলা; বেঁচে যান আনন্দ।
রূপালী বাংলাদেশের কাছে যাত্রীসংখ্যা কমিয়ে বেবিচকের ফি ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন আনন্দ। তবে এর জন্য নিজে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী নন, বরং কে বাংলা দায়ী বলে দাবি করেন তিনি। যদিও রূপালী বাংলাদেশের হাতে আসা কে বাংলার এমডি শাকির এবং সিইও আনন্দের মধ্যকার একটি অডিওতে স্পষ্ট যে, গরমিলের বিষয়টি শাকিরকে গোপন রাখতে বলেন আনন্দ।
অ্যাভিয়েশন খাতের নিরাপত্তা ও তদারকি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে যাত্রীর তথ্য গোপন করা শুধু আর্থিক ফৌজদারি অপরাধ নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং অপরাধমূলক তদন্তে বাধা। অ্যাভিয়েশন খাতের নিরাপত্তা ও তদারকি বিভাগে দীর্ঘদিন কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যুক্তরাজ্য ইমিগ্রেশন ও বর্ডার কন্ট্রোল অফিসার তানভীর আহমেদ পিয়াল রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রীদের তালিকায় হেরফের করা বা যাত্রীর সংখ্যা কম দেখানো এমন ফলাফলের জন্ম দেয়, যা রাষ্ট্রের আর্থিক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি এবং নিরাপত্তা স্তরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যদি কোনো উড়োজাহাজ সংস্থা প্রকৃতপক্ষে বহন করা যাত্রীসংখ্যার চেয়ে কম দেখায় বা রিপোর্ট দেয়, তাহলে বেবিচক বৈধ রাজস্ব হারায়। অন্যদিকে যাত্রীদের তথ্য ইমিগ্রেশন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিনিময় করার নিয়ম রয়েছে। এর লক্ষ্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের শনাক্ত, মানব পাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অভিবাসন পর্যবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ে দেশের সংস্থাগুলোর শতভাগ সফলতা নিশ্চিত করা। যদি তালিকায় হেরফের করা হয়, তাহলে একজন ‘ওয়ান্টেড’ বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি দেশ ত্যাগ করতে পারেন এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মিথ্যা তথ্য দ্বারা বিভ্রান্ত হতে পারে, যা হুমকি মূল্যায়নে তাদের ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। জরুরি পরিস্থিতিতে, উদাহরণস্বরূপ দুর্ঘটনার সময়, ভুল তালিকা উদ্ধার অভিযান এবং তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করে। অধিকন্তু, যাত্রীদের মিথ্যা তথ্য প্রদান আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ভুল পথে পরিচালিত করে, আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সহযোগিতার ক্ষতি করে ও অপরাধী গোষ্ঠীকে সহায়তা করে। আর্থিক ক্ষতি, জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষতি এবং অপরাধমূলক তদন্তে বাধা সৃষ্টির এই সম্মিলিত প্রভাবের কারণে এ ধরনের হেরফের কেবল একটি প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) মানদ-ে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।
জানা গেছে, আনন্দের প্রতারণার এখানেই শেষ নয়। কে বাংলার চুক্তিভিত্তিক সিইও থাকাকালে নিজেকে কখনো মালিকপক্ষ, কখনো পরিচালক, আবার কখনো এমডি পরিচয় দিতেন তিনি। আর্থিক লেনদেনে ব্যবহার করতেন বিভিন্ন বেনামি প্রতিষ্ঠান তথা শেল কোম্পানির ব্যাংক হিসাব। কে বাংলার পরিচালক পরিচয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানকে ‘ম্যানেজ’ করে বাকি পার্টনারদের না জানিয়েই ২০২৪ সালের জুনে দেশের স্বনামধন্য একটি এয়ারলাইনসের মালিকানাধীন অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির (ওটিএ) সঙ্গে চুক্তি করেন আনন্দ। ওই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে টিকিট বিক্রির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ‘টি’ আদ্যাক্ষরযুক্ত ওটিএ প্ল্যাটফর্মটির কাছে ঢাকা-সিউল-ঢাকা রুটের একক ও রিটার্ন যাত্রার ১০০টি টিকিট অগ্রিম বিক্রি করা হয়। টিকিটের মূল্য বাবদ অগ্রিম ৫০ লাখ টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও কে বাংলার ব্যাংক হিসাবে সেই অর্থ কখনো আসেনি। প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত এমডি শাকিরের আশঙ্কা, ওই অর্থ নিজ প্রতিষ্ঠান দোয়েলের অ্যাকাউন্টে নিয়েছেন আনন্দ।
একইভাবে ‘আ’ আদ্যাক্ষরযুক্ত আরেক ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যাত্রী ও মালামাল পরিবহনে কে বাংলার সিইও ও পরিচালক পরিচয়ে চুক্তি করেন আনন্দ। ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকা ওই চুক্তিপত্রে অর্থ গ্রহণের জন্য আনন্দ ‘লোডস্টার অ্যাভিয়েশন লিমিটেড’-এর ব্যাংক হিসাবের তথ্য দাখিল করেন। সেখানে লোডস্টারকে কে বাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই লোডস্টারের এমডি পরিচয়ে ‘এম’ আদ্যাক্ষরযুক্ত লজিস্টিক্স খাতের দেশের অন্যতম শীর্ষ আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পণ্য পরিবহনের চুক্তি করেন আনন্দ। এই চুক্তিপত্রে লোডস্টারকে এয়ার প্রিমিয়ার কার্গো জিএসএ হিসেবে দেখানো হয়। তবে আর্থিক লেনদেনের বিবরণীতে দেওয়া হয় ‘দোয়েল এয়ারওয়েজ’-এর ব্যাংক হিসাব। এই চুক্তিতে আবার দোয়েলকে লোডস্টারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানো হয়। অর্থাৎ, বিভিন্ন শেল কোম্পানি খুলে সেগুলো একে অপরের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখিয়ে চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত টাকা নিজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে নেওয়ার ভয়াবহ র্যাকেট বা অবৈধ ব্যবসা চালাচ্ছেন আনন্দ। আনন্দের এই প্রতারণা নজরে এলে ২৭ লাখ টাকার পেমেন্ট স্থগিত রাখে লজিস্টিক কোম্পানিটি। অবশ্য প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে একে অপরের ‘সিস্টার কনসার্ন’- জানতে চাইলে রূপালী বাংলাদেশকে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি আনন্দ।
ধর্মপ্রাণ ওমরাহ-যাত্রীরাও আনন্দের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অ্যাভিয়েন্স বিডি লিমিটেডের পরিচালক পরিচয়ে চট্টগ্রামের নুর-এ-ফাতিমা হজ কাফেলা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের কাছে ফ্লাই এ ডিল এয়ারলাইনসের ৩৫০টি টিকিট বিক্রি করেন আনন্দ। ওই সব টিকিটের বিপরীতে অগ্রিম ৫০ লাখ টাকা দোয়েল এয়ারওয়েজের হিসাবে নিলেও যাত্রীদের জন্য কোনো টিকিট ইস্যু করেননি তিনি। পরে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টিকিটগুলো ভুয়া প্রমাণিত হয়। ফ্লাই এ ডিলের জিএসএ অ্যাভিয়েন্সের নির্বাহী পরিচালক ইমরান জাহান জানান, ‘থার্ড পার্টি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পাইলট ও ক্রুদের সঙ্গে ছবি তুলতেন আনন্দ। এয়ারলাইনসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসেও ভিআইপিদের সঙ্গে সেলফি তুলেছেন। সেগুলো ব্যবহার করেই নিজেকে অ্যাভিয়েন্সের পরিচালক পরিচয় দিতেন তিনি। এ ঘটনায় বনানী থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তার কাছে ৫০ লাখ টাকা পাই, যার বিপরীতে দেওয়া চেক বাউন্স করেছে। আগামী সোমবার পর্যন্ত সময় চেয়েছেন আনন্দ। এর মধ্যে টাকা পরিশোধ না হলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবগত আছে।’
এদিকে আনন্দের প্রতারণা ধরতে পেরে আদালতে মামলা করেন কে বাংলার এমডি বারি শাকির। মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর ওয়াজেদ আলী জানান, তদন্তে আনন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। রূপালী বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘মামলায় আনন্দের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে, তার বেশির ভাগেরই সত্যতা পাওয়া গেছে। শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ওয়ারেন্টের আবেদন করব। মামলাটি যেহেতু আদালতে রুজু হয়েছিল, তাই আদালত থেকে ওয়ারেন্ট ইস্যু হলে তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে।’
এই মামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ‘উকিল কাজ করছে’ বলে রূপালী বাংলাদেশকে জানান আনন্দ।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন