ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সম্পদ বেড়েছে উপদেষ্টাদের

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৪:৩৭ এএম
রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

এক বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে এক কোটি ৬১ লাখ চার হাজার ৩৯২ টাকা। সর্বমোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকা। সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী বা মেয়াদি আমানত বৃদ্ধি, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ার ইত্যাদি কারণে মোট সম্পদ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেছে। তবে এই হিসাব ২০২৪-২৫ করবর্ষ হিসাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ২১ জন উপদেষ্টার সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন উপদেষ্টার সম্পদ কমেছে। তাদের স্ত্রী-স্বামীদের সম্পদের ক্ষেত্রেও বৃদ্ধি ও হ্রাস উভয় প্রবণতা দেখা গেছে। ব্যক্তিগত ও ব্যাবসায়িক দায়ও বেড়েছে ও কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ বেড়েছে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের। গত এক বছরে এই উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। যদিও ব্যাবসায়িক সূত্রে সম্পদ বেশি বাণিজ্য উপদেষ্টা বশির উদ্দিনের। যার পরিমাণ ৯১ কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। তবে গত এক বছরে মাত্র ৫৫ লাখ টাকার সম্পদ বেড়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া গত এক বছরে পৌনে এক কোটি টাকার সম্পদ বেড়েছে পরিবেশ উপদেষ্টার সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের। গত বছরের ৪ মার্চ উপদেষ্টা বহরে যোগ দেওয়া শিক্ষা উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে ৫৫ লাখ টাকা। অপরদিকে গত বছরের ডিসেম্বরে পদত্যাগ করা দুই উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ লাখ টাকা। যদিও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে রয়েছে শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ। তবে সম্পদের হিসাব দেননি উপদেষ্টা মর্যাদার অধ্যাপক আলী রীয়াজ ও লুৎফে সিদ্দিক। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ফেসবুকে জানিয়েছেন, ব্যাংকে তার রয়েছে কোটি টাকা ও তিনটি ফ্ল্যাট।

সম্পদের বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ৩০ জুন পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মোট পরিসম্পদ ছিল ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকার। এক বছর আগে তা ছিল ১৪ কোটি এক লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকার। অর্থাৎ, এক বছরে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে এক কোটি ৬১ লাখ চার হাজার ৩৯২ টাকার। সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী বা মেয়াদি আমানতে বৃদ্ধি, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ার ইত্যাদি কারণে মোট সম্পদ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের সম্পদ বিবরণীর তথ্য অনুযায়ী, তার আর্থিক সম্পদ আছে চার লাখ ৫১ হাজার ৮৬০ টাকার। এক বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ৯৫ লাখ ৪১ হাজার ৬৭৯ টাকার। আর তার নন-ফাইনান্সিয়াল সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ২৩ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকার। এক বছর আগে এর পরিমাণ ছিল এক কোটি ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯৫ টাকার। তার বিদেশে কোনো সম্পদ নেই। অধ্যাপক ইউনূসের কোনো দায় না থাকলেও তার স্ত্রীর ১৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকার দায় রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের মোট সম্পদ এক কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬০ টাকার, যা আগের অর্থবছরে ছিল দুই কোটি ১১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৪ টাকার। সে হিসাবে এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ৮৪ লাখ ১৩ হাজার ৯১৪ টাকার। আয়কর আইন অনুযায়ী, একজন করদাতার মালিকানাধীন স্থাবর-অস্থাবর, আর্থিক ও মূলধনি সম্পত্তির সমষ্টি হলো পরিসম্পদ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৩ সালের আয়কর আইন প্রণয়নের সময় ব্যক্তির সম্পদের সংজ্ঞা আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুসারে ঠিক করা হয়। সেখানে আর্থিক সম্পদ বলতে বোঝায়, নগদ টাকার পাশাপাশি ব্যাংকে রাখা টাকা এবং সঞ্চয়পত্র, বিভিন্ন শেয়ার, কোম্পানি থেকে পাওয়া লভ্যাংশ ইত্যাদি। আর নন-ফাইনান্সিয়াল সম্পদ হলো আর্থিক সম্পদের বাইরে থাকা সম্পদ। এ তালিকায় আছে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লটসহ সব ধরনের স্থাবর সম্পদ।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেছিলেন, সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করবেন। পর্যায়ক্রমে এটি সরকারি সব কর্মকর্তার ক্ষেত্রেও নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে প্রতিশ্রুত ন্যায়পাল নিয়োগে অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হবে বলেও তিনি ভাষণে উল্লেখ করেছিলেন। ওই বছরের ১ অক্টোবর ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪’ জারি করা হয়। নীতিমালায় বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি, যারা সরকার বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত, তারা প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের আয় ও সম্পদের বিবরণী জমা দেবেন। স্ত্রী বা স্বামীর পৃথক আয় থাকলে সেটিও জমা দিতে হবে। এই বিবরণী প্রধান উপদেষ্টা নিজ বিবেচনায় উপযুক্ত পদ্ধতিতে প্রকাশ করবেন। কিন্তু এত দিনেও তা প্রকাশ না করায় সমালোচনা হচ্ছিল। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গত সোমবার জানিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী দু-এক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। পরে কয়েক দফায় নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। সংযোজন-বিয়োজনের পর বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১। এ ছাড়া উপদেষ্টা পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চারজন। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার চার বিশেষ সহকারী দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল তাদের সবার সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হয়।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের সম্পদ সাত কোটি ১০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে সাত কোটি ১৬ লাখ ১৫ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। তার স্ত্রী পারভীন আহমেদের সম্পদ বেড়েছে ৭৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সম্পদ এক বছরে এক কোটি ১৩ লাখ ৮২ হাজার টাকা বেড়েছে। তার স্ত্রীর প্রয়াত হওয়ায় তার সম্পদ দেখানো হয়নি। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সম্পদ বেড়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে ৪৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সম্পদ দুই কোটি ৮৬ লাখ টাকা থেকে বেড়েছে ছয় লাখ ২৪ হাজার টাকা। তার স্ত্রী জাহান আরা সিদ্দিকীর সম্পদ ১৩ লাখ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ৬৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলমের সম্পদ এক বছরে ১৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বেড়েছে। তার স্ত্রী লায়লা আরজুর সম্পদ বেড়েছে দুই লাখ টাকা। গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের সম্পদ এক কোটি ৫৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আড়াই কোটির বেশি। তার স্ত্রী ড. সায়রা রহমান খানের সম্পদ ৬৪ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ কোটি ৮৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকায়। শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারের সম্পদ ৫৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত কোটি ৫৭ লাখ ৪৩ হাজার ৪২২ টাকা। তার স্ত্রী অধ্যাপক তাসনিম আরেফা সিদ্দিকীর সম্পদ বেড়েছে ৪৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা। তাদের সম্পদ হয়েছে আট কোটি ২৯ লাখ টাকা। সড়ক, রেল পরিবহন ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সম্পদ ২৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় কোটি ৬৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। তার স্ত্রী দিলরুবা কবিরের সম্পদ ১০ লাখ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ১৭ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজমের সম্পদ ২৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা বেড়ে বর্তমানে দুই কোটি দুই লাখ টাকার কিছু বেশি। তার স্ত্রী শামীমা ফারুখের সম্পদ তিন লাখ টাকা বেড়ে ৩৯ লাখ টাকার কিছু বেশি। নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের সম্পদ ২৬ লাখ ১৩ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ৫১ লাখ টাকা। তার স্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেহানা খানমের সম্পদ কমেছে সোয়া এক লাখ টাকা, বর্তমানে ৩৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের সম্পদ চার লাখ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় কোটি ২৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। তার স্বামী কে এম আসাদুজ্জামানের সম্পদ কমেছে দেড় কোটি টাকা, বর্তমানে এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

প্রাথমিক শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের সম্পদ এক কোটি ৩৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ কোটি ৮৩ লাখ টাকার কিছু বেশি। তার স্ত্রী ডা. রমা সাহার সম্পদ বেড়েছে ২৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা, বর্তমানে তিন কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সম্পদ ২০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা। তার স্বামী এফ এম মজহারুল হকের সম্পদ সাড়ে তিন লাখ টাকার কিছু বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ১০ লাখ ২৩ হাজার টাকা। সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদের সম্পদ সাড়ে ২৮ লাখ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। তার স্বামী হুমায়ুন কাদের চৌধুরীর সম্পদ এক কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট কোটি ৩৫ লাখ টাকার কিছু বেশি। ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের সম্পদ ২৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ১৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা। তার স্ত্রী মিজ কামরুন্নেসা হাসিনার সম্পদ সাড়ে তিন লাখ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ১১ হাজার টাকা। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সম্পদ ৫৪ লাখ ১২ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার কিছু বেশি। তার স্ত্রী ইফসিয়া মাহিনের সম্পদ ২৮ লাখ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজের সম্পদ ৮৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। তার স্ত্রী ঈশিতা সারওয়াতের সম্পদ এক লাখের কিছু বেশি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৬১ লাখ টাকা। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সম্পদ দুই লাখ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর সম্পদের হিসাব বিবরণীতে নেই। পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সম্পদ এক কোটি ১২ লাখ ৯২ হাজার টাকা কমে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ১২ লাখ ৭২ হাজার টাকা। তার স্বামী আবু বকর সিদ্দিকের সম্পদ পৌনে এক লাখ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৯০ লাখ টাকা। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমার সম্পদ ১৬ লাখ ৩৪ হাজার টাকা কমে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। তার স্ত্রী নন্দিতা চাকমার সম্পদ সাড়ে চার লাখ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ লাখ টাকা। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সম্পদ ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা কমে দাঁড়িয়েছে সোয়া দুই কোটি টাকা। তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক কোটি ৫৯ লাখ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৯৯ লাখ টাকার বেশি। কয়েক মাস আগে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করা স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ২০২৪ সালের জুনের সম্পদ না থাকলেও ২০২৫ সালের জুনে তার সম্পদ ১৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। একইভাবে তথ্য উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করা মো. মাহফুজ আলমের সম্পদ এক বছরে ৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। উপদেষ্টা পদমর্যাদায় পরিষদে থাকা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী অবৈতনিক হওয়ায় এক বছরে তাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হয়নি।

জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ একটি ইতিবাচক উদ্যোগ এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে আমরা লক্ষ্য করছি, কিছু ক্ষেত্রে সম্পদ বিবরণ অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ সম্পূর্ণ সম্পদ বিরবণীর তথ্য আসেনি, যা জনস্বার্থের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারকে খর্ব করে। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থিত সম্পদ, দায়ের উৎস এবং করসংক্রান্ত তথ্য আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা জরুরি। যেসব উপদেষ্টার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী অর্থবছরে টিআইএন না থাকার তথ্য এসেছে, সেগুলোও উদ্বেগজনক এবং ব্যাখ্যার দাবি রাখে। সম্পদ বিবরণ কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসাবে নয়, বরং যাচাইযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ তথ্যসহ প্রকাশ করা হলে তবেই জনগণের আস্থা বাড়বে। এ জন্য একটি একক মানদণ্ড ও স্বাধীন যাচাই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।