× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২৬, ০১:০৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে স্তম্ভিত সিপিডি

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২৬, ০১:০৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য  চুক্তি নিয়ে স্তম্ভিত সিপিডি

বাংলাদেশের আর্থিক খাতের সংস্কার ও গভর্নর নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সরকারের নতুন গভর্নর নিয়োগের পদক্ষেপটি একটি দুর্বল পদক্ষেপ। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার যে বাণিজ্যচুক্তি করেছে তা দেখে হতভম্ব ও স্তম্ভিত হয়েছে গবেষণা সংস্থাটি। কারণ এটি দেশের উন্নয়নে বড় বাধা তৈরি করবে। অন্যদিকে বিকেন্দ্রিয়ায়িত সরকার দেখতে চায় সিপিডি।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) কার্যালয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে ‘নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত : ১৮০ দিন ও তারপর’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১৩টি খাত নিয়ে নতুন সরকারের পরিকল্পনা ও অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘পূর্ববর্তী গভর্নর অত্যন্ত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি আর্থিক খাতের সংস্কারে অনেকগুলো সফল উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যদিও এ ধরনের সংস্কারে সব সময় স্বার্থান্বেষী মহলের বাধা থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে অনেকে তার বিপক্ষে থাকলেও তিনি নিজস্ব যুক্তি দিয়ে কাজ এগিয়ে নিয়েছিলেন। আর্থিক খাতের এই সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে নতুন সরকারের উচিত ছিল তাকেই দায়িত্ব পালনে বহাল রাখা।’

তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ চুক্তি বৈষম্যমূলক। এটি মসৃণ রূপান্তর কৌশল (এসটিএস) বাস্তবায়নে জটিলতা ও দেশের উন্নয়নে বড় বাধা তৈরি করবে। এটি দেশের উন্নয়নে বড় বাধা তৈরি করবে।’

গভর্নর নিয়োগের বর্তমান পরিস্থিতি : বাংলাদেশে গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম বা ‘সিলেকশন ক্রাইটেরিয়া’ নেই। বর্তমানে শুধু ৩৫ বছর বয়স হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকার একটি সাধারণ শর্ত রয়েছে। বর্তমান সরকারের নতুন গভর্নর নিয়োগের পদক্ষেপটি একটি দুর্বল পদক্ষেপ। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ছিল অস্বচ্ছ এবং সরকার চাইলে আরও ভালো কাউকে নিয়োগ দিতে পারত।

উল্লেখ্য, ২৫ ফেব্রুয়ারি সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এ সেক্টরে কাজ করছেন এবং কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএমএ)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবরক্ষণ বিভাগ থেকে বি.কম (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মডেলের সাথে তুলনা : ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ প্রক্রিয়ার উদাহরণ টেনেছে সিপিডি। সেখানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক কমিটি থাকে, যাতে অর্থসচিব এবং প্রাক্তন গভর্নররা সদস্য হিসেবে থাকেন। তারা প্রার্থীদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেন।

দেশটিতে নিয়োগের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ সংশ্লিষ্ট খাতে অন্তত ২০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং বড় কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান চালানোর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। থাকতে হবে মাস্টার্স বা পিএইচডির মতো উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা। এরপর কমিটি কর্তৃক প্রার্থীদের ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকার গ্রহণ।

ভবিষ্যৎ সংস্কারের জন্য সুপারিশ : বাংলাদেশের আর্থিক খাতের বর্তমান দুর্বলতা কাটাতে কঠোর নীতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন। আগামী দিনে গভর্নর বা রাষ্ট্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিনিয়র পদে নিয়োগের জন্য কিছু সুপারিশ করেন। ১. নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আইনবদ্ধ করা এবং সুনির্দিষ্ট সিলেকশন ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করা। ২. যোগ্য প্রার্থীদের শর্টলিস্ট এবং স্ক্রিনিং করা। তবে রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে একটি পেশাদার ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গভর্নর নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সিপিডি।

মার্কিন চুক্তির বিষয়ে সিপিডির বিস্ময় : সাধারণ মানুষকে ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে, শুধু শুল্ক কমানো নিয়ে আলোচনা চলছে, কিন্তু প্রকৃত চুক্তিটি দেখে হতভম্ব ও স্তম্ভিত হয়েছে সিপিডি। একটি অনির্বাচিত সরকার কীভাবে এ ধরনের বৈষম্যমূলক চুক্তির দায়ভার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে, তা নিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পথ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চুক্তির শর্তানুসারে, উভয় পক্ষ সম্মত হলে ৬০ দিনের নোটিশে আলোচনার মাধ্যমে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে বাংলাদেশ। এ ছাড়া চুক্তির কার্যকারিতা শুরু হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নোটিফিকেশনগুলো এখনো সম্পন্ন হয়নি।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট থেকে আসা একটি নির্দেশনার আলোকে এখন চুক্তির পুরো বিষয়টি আলোতে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের এই নির্দেশনার সুযোগ নিয়ে এবং মার্কিন সরকারের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে এবং উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা করে নতুন করে বাণিজ্য চুক্তি করতে পারে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!