ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

ওসমান হাদি হত্যা 

অস্ত্র মামলায় প্রধান আসামি ফয়সালের ১০ বছরের কারাদণ্ড

‎ রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১২:৫৪ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদকে অস্ত্র আইনের একটি মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মোহসীন এ রায় ঘোষণা করেন।

আসামি ফয়সাল করিম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এর আগে, গত রোববার মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে মাদক কারবারীর সন্দেহে আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে র্যাব অভিযান চালায়।

র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই মাদক কারবারী পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক হয়। পরে আটক ব্যক্তি নিজের নাম ফয়সাল করিম বলে জানান। পালানোর চেষ্টার কারণ জানতে চাইলে, র্যাবকে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

পরে র্যাব জানতে পারে, ওই ব্যক্তি আদাবর থানায় চুরির মামলার এজাহারনামীয় আসামি। র্যাব তার বাসায় তল্লাশি চালায়।

তার দেওয়া তথ্যমতে, সেখান থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে। এ সময় তাকে অস্ত্রের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বললে তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

এ ঘটনায় পরদিন ৮ নভেম্বর র্যাব-২ এর হাবিলদার মো. মশিউর রহমান আদাবর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ফয়সাল করিমকে অভিযুক্ত করে গত বছরের ২৮ মার্চ আদাবর থানার উপপরিদর্শক জাহিদ হাসান আদালতে চার্জশিট জমা দেন।

মামলায় চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে, ফয়সাল করিম এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের মূল হোতা। সে দীর্ঘদিন যাবত সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি, খুন-জখম এবং জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল।

ধর্তব্য অপরাধ সংঘটনের জন্য অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রেখেছিল। মামলার বিচার চলাকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনি প্রচার শেষে দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। এরপরই আলোচনায় আসে ফয়সালের নাম। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৯ ডিসেম্বর মারা যান হাদি।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় ফয়সালকে। তত দিনে ফয়সালের দেশ ছাড়ার খবর আসে সংবাদমাধ্যমে।

তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। তবে ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি নারাজির আবেদন করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।

পরে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন। সম্প্রতি তিনি ভারতে আটক হয়েছেন। সেখানকার কারাগারে রয়েছেন।