দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান ভাইয়া গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, তৎকালীন বৃহত্তর লাকসাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও লাকসাম হাউজিং এস্টেটের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মোকছোদ আলীর ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। মানবহিতৈষী, ক্ষণজন্মা এই দানবীর ৫৪ বছর বয়সে ২০০৬ সালের ২৮ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।
আলহাজ্ব মোকছোদ আলী কুমিল্লা জেলার লাকসাম পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের ডুরিয়া বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত আলহাজ্ব জুলফে আলী ও আলহাজ্ব মোমেনা খাতুনের ঘরে ১৯৫২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের শিল্প বিপ্লবের প্রথম সারির একজন শিল্পযোদ্ধা। গত শতাব্দীর আশি ও নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে হাতেগোনা যে কয়েকজন শিল্পোদ্যোক্তা ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আলহাজ্ব মোকছোদ আলী। তার হাতে সে সময়ে ভাইয়া গ্রুপের অধীনে একে একে গড়ে উঠেছিল প্রায় ৩০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। একদিকে তিনি ছিলেন শিল্পোদ্যোক্তা, একই সঙ্গে তিনি দানবীর হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ৫৪ বছরের জীবনকালে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করে গেছেন তা থেকে আজও হাজার হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে যাচ্ছে।
মোকছোদ আলীর জীবন ছিল বৈচিত্র্যময়। তিনি একজন সফল শিল্পোদ্যোক্তা। তার প্রতিষ্ঠিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান হলো- নাবিস্কো বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড ফ্যাক্টরি, ঢাকা ম্যাচ, দাদা ম্যাচ, সাত্তার ম্যাচ, ইউনিয়ন ম্যাচ, হামিদিয়া অয়েল অ্যান্ড ক্রিসেন্ট সোপ ফ্যাক্টরি। তার সৃজনশীলতার আরেকটি উদাহরণ হলো প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। এসব কোম্পানি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি ভাইয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান ছিলেন। ভাইয়া গ্রুপ আজ একটি অনন্য ও অনুকরণীয় গ্রুপে পরিণত হয়েছে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং যোগ্য নির্দেশনার কারণে। ব্যবসা-বাণিজ্যে অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাকে সিআইপি হিসেবে সম্মানিত করেছে এবং এর মাধ্যমে তিনি একদিকে দেশের শিল্পক্ষেত্রকে মহিমান্বিত করেছেন, অন্যদিকে ভাইয়া গ্রুপের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। এ ছাড়া এফবিসিসিআইর সদস্য, বিসিআইর পরিচালক এবং বাংলাদেশ ম্যাচ ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন মোকছোদ আলী।
১৯৮৬ সালে তিনি লাকসামের প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সুদক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিনি লাকসাম উপজেলাকে একটি আধুনিক উপজেলায় রূপান্তর করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। মোকছোদ আলী লাকসাম হাউজিং এস্টেট প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ কুমিল্লায় বেশ কয়েকটি স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
আলহাজ্ব জুলফে আলী ও আলহাজ্ব মোমেনা খাতুন এতিমখানা কমপ্লেক্সের অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মানব ও দেশপ্রেমী আলহাজ্ব মোকছোদ আলী এই এতিমখানা কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি এ অঞ্চলের দুঃখী মানুষের কথা চিন্তা করে সমাজ থেকে অন্ধকার দূর করতে ধর্মীয় এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা তার প্রতিষ্ঠিত আলহাজ্ব জুলফে আলী ও আলহাজ্ব মোমেনা খাতুন এতিমখানা কমপ্লেক্সের আয়োজনে কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। মহান রব যেন এই মানবদরদীকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন