যশোর-বেনাপোল সীমান্তে স্বর্ণ চোরাচালান, অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা এবং মাদক পাচারের মতো অপরাধের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এখন স্থানীয় যুবদল নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা তথ্য মতে, সিন্ডিকেটটি আগে যুবলীগের নেতাকর্মীরা নিয়ন্ত্রণ করতেন। গোয়েন্দা তথ্য মতে, ২০২৪-২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেট চক্র বেনাপোলের পুটখালি, দৌলতপুর, ঘিবা, গোগা এবং সাদিপুর সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ পাচার করে। আর এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছে বিএনপির একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, তারা এক প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে এসব অপকর্ম করে আসছে। তবে এর সঙ্গে সরাসরি যাদের ব্যবহার করা হচ্ছে তারা অধিকাংশ যুবদলের শীর্ষ নেতা। এসব অপকর্ম করে রাতারাতি হয়েছেন কোটিপতি। যশোর ও মাগুরার বেশ কিছু অসাধু নেতাকর্মী এসব অপকর্মে জড়িত বলে গোয়েন্দারা তথ্যে উঠে এসেছে। তবে এসব অপরাধীর ছত্রছায়া এক প্রতিমন্ত্রী সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে বলে জানা গেছে। যদিও সম্প্রতি সংসদ অধিবেশনের আগে ওই প্রতিমন্ত্রী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতাকে নির্দেশ দিয়েছেন গোল্ডপাচারের শীর্ষ যুবদলের যে সব নেতার নাম এসেছেন তাদের শোকজ বা বহিষ্কার করার দরকার নেই। কারণ এসব এলাকার প্রতিমন্ত্রী আমি। আর আমি যেটাই বলব সেটাই হবে। এর বাইরে যাওয়ার দরকার নেই।
সম্প্রতি সরেজমিনে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে যুবদল নেতা রানা, শহীদ ও কল্লোল ও ‘ভাই ভাই সিন্ডিকেট’ নামক একটি চক্রের নামও উঠে এসেছে। যারা দুবাই থেকে ঢাকা হয়ে বেনাপোল দিয়ে ভারতে স্বর্ণ পাঠায় পাশাপাশি বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি রুট তারা ব্যবহার করেন। তারা ৫ আগস্টের পর এসব অপরাধ করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এসব ব্যক্তি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ তারিখের পর এরা এত টাকা-পয়সা নামে-বেনামে গাড়ি-বাড়ি পেল কোথায়। পুুলিশের তথ্য মতে, এসব অপকর্মে যারা জড়িত তারা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। এরা স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এই সিন্ডিকেট কাজ করে, যার ফলে অনেক সময় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে হয়তো।
সূত্র মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিজিবি এবং পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে বাহকদের আটক করলেও মূল পাচারকারীরা থেকে যাচ্ছে অধরা। অনেক ক্ষেত্রে পাচারকারীরা সিসিটিভি ক্যামেরা বা নিরাপত্তাব্যবস্থার ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে রুট পরিবর্তন করে। স্বর্ণের পাশাপাশি অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা এবং মাদকদ্রব্য পাচারও এই সীমান্ত দিয়ে নিয়মিত ঘটছে। বিজিবি সূত্রমতে, সীমান্তে চোরাচালান ঠেকাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে, বিশেষ করে সন্দেহভাজন স্থানগুলোতে।
অন্যদিকে সরকারের এক বিশেষ গোয়েন্দা তথ্য মতে, আগে যুবলীদের নেতাকর্মীরা এসব অপরাধে যুক্ত ছিল। এখন যুবদলের নেতারা জড়িত। এর মধ্যে মাদক ও স্বর্ণ পাচারে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যশোর ও মাগুরা যুবদলের তিন নেতার বিরুদ্ধে। এই পাচার চক্রের মূল হোতা হলেন, যশোর জেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনসারুল হক রানা, যশোরের শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহীদ ওরফে গোল্ড শহীদ এবং আওয়ামী লীগ আমলের স্বর্ণ চোরাচালান ও মাদক সিন্ডিকেটের হোতা বেনাপোলের গোল্ড নাসির। সম্প্রতি যশোর কোতোয়ালি থানায় উদ্ধার হওয়া একটি প্রাইভেটকারের ঘটনায় মাগুরা যুবদলের সভাপতি ওয়াসিকুর রহমান কল্লোলের নাম স্বর্ণ চোরাচালান কারবারে সহায়তাকারী হিসেবে সামনে উঠে এসেছে। এর পরে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি একটি ছায়া তদন্ত করে এবং এর সত্যতা পেয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সীমান্তে যান।
সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে দলীয় হাইকমান্ড : যশোর সীমান্তে গত ৫ এপ্রিল দৈনিক রূপালী বাংলাদেশে ‘রানা শহীদ কল্লোলের গোল্ড সিন্ডিকেট চক্র’ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। ওই সংবাদের পরে চড়েচড়ে বসে দলীয় হাইকমান্ড। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোর সফর করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর গতকাল সোমবার মাদক ও স্বর্ণ পাচারে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে রানা শহীদ কল্লোলের গোল্ড সিন্ডিকেটের (যশোর ও মাগুরা যুবদল) তিন নেতার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
রানা শহীদ কল্লোলের গোল্ড সিন্ডিকেট, অদৃশ্য অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণে এক প্রতিমন্ত্রী : যশোর-বেনাপোল সীমান্তে গড়ে উঠেছে এক অদৃশ্য অপরাধ সাম্রাজ্য। সম্প্রতি ছিনতাই হওয়া একটি প্রাইভেটকার উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে এই চক্রের কার্যক্রম নতুন করে সামনে এসেছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর-মাগুরা-শার্শার যুবদলের নেতা শ্রবণ, কাওসার, বরিন, মানিক, বাপ্পি, ফয়সালসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, রানা শহীদ কল্লোলের গোল্ড সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে এক প্রতিমন্ত্রী কেন? আমরা ওই প্রতিমন্ত্রীর একক আধিপাত্য ও পারিবারিক জিম্মির কারণে খুলনা বিভাগীয় বিএনপি মাঠে হেরেছে এবং রাজনীতির মাঠে মারা (এমপি প্রার্থী রদদবল) গেছে। তিনি একাই এমপি ও একাই মন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন সেটাই হয়েছে। নেতাকর্মীদের কথা কেউ চিন্তা করে না। তাদের দাবি যুবদলের যারা অপকর্ম করছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক সরকার। বিএনপি কারো বাপের দল না। অপরাধীদের কোনো দল নেই।
স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেট আগে যুবলীগ এখন যুবদল : সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ। গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সূত্র মতে, আগে যশোর সীমান্তে স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালান সিন্ডেকেট নিয়ন্ত্রণে ছিল আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। ৫ আগস্টের পর এটি নিয়ন্ত্রণে নেয় বিএনপির শীর্ষ নেতার আশীর্বাদে যশোর জেলা বিএনপি ও যুবদলের নেতারা। কেন্দ্রীয় যুবদলের এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে গোল্ড শহীদ যশোর জেলা যুবদল নেতা রানার মাধ্যমে ইতিমধ্যে গভীর সখ্য গড়ে তুলেছেন বলে জানা গেছে। সূত্র মতে, এই পাচারচক্রের মূল হোতা হলেন যশোর জেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনসারুল হক রানা, যশোরের শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহীদ ওরফে গোল্ড শহীদ এবং আওয়ামী লীগ আমলের স্বর্ণ চোরাচালান ও মাদক সিন্ডিকেটের হোতা বেনাপোলের গোল্ড নাসির। সম্প্রতি যশোর কোতোয়ালি থানায় উদ্ধার হওয়া একটি প্রাইভেট কারের ঘটনায় মাগুরা যুবদলের সভাপতি ওয়াসিকুর রহমান কল্লোলের নাম স্বর্ণ চোরাচালান কারবারে সহায়তাকারী হিসেবে সামনে উঠে এসেছে। তথ্য মতে, সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক অডিওতে শোনা যায়, ‘যুবদল নেতা কল্লোল জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নাম উল্লেখ করে চোরাচালানে জড়িত এক ব্যক্তির স্ত্রীকে বলছেন, আপনার স্বামী নেই, তার রেখে যাওয়া যে গাড়ি রয়েছে সেটা আমরা নিয়ে নেব অথবা আপনার সন্তানকে অপহরণ করা হবে। এসবের পেছনে অমিত ভাই যুক্ত রয়েছে। তিনি আমাকে বিষয়টি (পাচারকৃত গোল্ড) মীমাংসার জন্য চাপ দিচ্ছেন।’ ওই অডিওটি মূলত গোল্ড পাচারের কথোপকথন। সরকারের বিশেষ গোয়েন্দার নজরে আসা অডিওটির তথ্য ও গোল্ড পাচার চক্রের তথ্য নিয়ে সম্প্রতি গোয়েন্দারা কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
গোয়েন্দারা জানান, এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যুবদল নেতা রানা, কল্লোল ও ‘গোল্ড শহীদ’ সরাসরি জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রতিমন্ত্রীর বিষয়টি নিয়ে আরও গভীর তদন্ত করা হচ্ছে। যশোর সীমান্তে ছিনতাই, স্বর্ণ পাচার ও মাদকের অন্ধকার সাম্রাজ্য আগে আ.লীগের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্তমানে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে ধারণা গোয়েন্দাদের। তবে বেশ কিছু জায়গায় প্রতিমন্ত্রী অমিতের নাম ভাঙিয়ে চলছে ক্ষমতার দাপট ও চোরাচালান। সরাসরি তিনি এসবে জড়িত না থাকলেও তার পলিটিক্যাল লোকজনের জড়িত থাকার ঘটনাও কম নয়।
স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক : অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, সংশ্লিষ্টদের অনেকেই স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ, একাধিক দামি গাড়ি ব্যবহার এবং জমি ও নগদ বিনিয়োগে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলোÑ এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রশাসনিক চাপ এড়াতে এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে ‘উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ’ দেখানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাব খাটিয়ে অভিযোগ বা মামলাও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। ফলে এলাকায় এক ধরনের নীরব আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যশোর জেলা যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক ইস্কান্দার আলী জনি এক ফেসবুক লাইভে অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, যশোরে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেই এবং একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনকে প্রভাবিত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে।
জানতে চাইলে খুলনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি এবং এসএমএস করলেও তিনি উত্তর দেননি। জানতে চাইলে এর আগে যশোরের শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহীদ জানান, এসবের সঙ্গে আমি জড়িত নই; হয়তো একটি চক্র জড়িত থাকতে পারে। তবে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্যি নয়।
এই বিষয়ে এর আগে মাগুরা যুবদলের সভাপতি ওয়াসিকুর রহমান কল্লোল রূপালী বাংলাদেশকে জানান, হিরা খাতুনকে চিনলেও গোল্ড শহীদ বা যশোর যুবদল নেতা রানাকে চিনি না এবং এই অপরাধের সঙ্গে আমি জড়িত নই। জানতে চাইলে এর আগে যশোর জেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনসারুল হক রানা রূপালী বাংলাদেশকে জানান, গোল্ড ব্যবসার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। গোল্ড পাচারকারী আলী আহমেদের স্ত্রী হিরা খাতুন নামের কাউকে চেনেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রথমে হিরা খাতুনকে চিনলেও পরে অস্বীকার করে রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, একজন আমার সঙ্গে ঢাকায় দেখা করেছেন, তিনি হিরা খাতুন কি না আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এর আগে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী জানান, বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে যেই অপরাধে যুক্ত হবে বা থাকবে এবং অভিযোগ প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদক ও স্বর্ণ পাচারে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, যশোর ও মাগুরা যুবদলের তিন নেতাকে নোটিশ : যশোর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানাসহ তিনজনকে কারণ দর্শানো নোটিশ (শোকজ) করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। অন্য দুজন হলেন, যশোরের শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম শহীদ ও মাগুরা জেলা যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট ওয়াসিকুর রহমান কল্লোল। সাংগঠনিক দায়িত্বে থেকেও মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালানসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার কারণে তাদের শোকজ করা হয়। গতকাল সোমবার যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে জানান, গাড়ির বিষয়টি (গোল্ড পাচারে ব্যবহার করা প্রাইভেটকার) আমি জানি পরে শুনছি এসব কথা। যদিও এসব বিষয় নিয়ে দরকার হলে পুলিশ তদন্ত করবে, তা ছাড়া কেউ জড়িত থাকলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসব বিষয়ে আপনাদেরও সহযোগিতা কাম্য।
জানতে চাইলে যশোর জেলা যুবদলের বর্তমান সভাপতি এম তমাল আহম্মেদ রূপালী বাংলাদেশকে জানান, যুবদলের কেউ যদি এসব অপকর্মে সরাসরি জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না রূপালী বাংলাদেশকে জানান, যুবদলের কেউ অপরাধ করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা শক্ত অবস্থানে রয়েছি। যশোর সীমান্তে ‘স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেট’ নিয়ে যুবদলের যেসব নেতার নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল আনসারুল হক রানা, শহীদুল ইসলাম শহীদ এবং ওয়াসিকুর রহমান কল্লোল গোল্ড সিন্ডিকেট নিয়ে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়।

