ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

প্রবাসে তোলপাড়

ক্রিকেটার নাসুমকে হুন্ডিতে টাকা পরিশোধের আশ্বাস 

জুবায়ের আহমেদ, লন্ডন
প্রকাশিত: মে ১১, ২০২৬, ০৫:০৬ এএম

বিপিএলে সিলেট সিক্সার্সের জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাসুমের টাকা পরিশোধে হুন্ডির কথা উল্লেখ করেছেন ফ্রাঞ্চাইজির মালিক মাহিদুল সামি। বর্তমানে ইংল্যান্ডের ব্রাডফোর্ডে বসবাসকারী সামির এমন কথায় প্রবাসে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নাসুমের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের একপর্যায়ে সামি হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানোর কথা বলেন। প্রবাসীরা বলেন, নিজের উপার্জিত টাকা বৈধ পন্থায় পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছেন তারা। অন্যদিকে ক্ষমতাবান মানুষরা দেশে টাকা পাঠানোর মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন অবৈধ হুন্ডি। এটা অবশ্যই বড় ধরনের অপরাধ। সরকারের উচিত বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।

জানা যায়, সিলেট টাইটান্সের হয়ে খেলার পর ক্রিকেটার নাসুমের উল্লেখযোগ্য অঙ্কের টাকা এখনো বকেয়া রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের পাওনা নিয়ে একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাসুম। তিনি জানান, ৩৫ লাখ টাকা পেয়েছেন; কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী তার মোট পারিশ্রমিক ছিল ৭০ লাখ টাকা। অর্থাৎ, আরও ৩৫ লাখ টাকা এখনো পাওনা রয়েছে বলে দাবি করছেন তিনি। এই দাবির পক্ষে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো একটি চুক্তিপত্রও প্রকাশ করেন নাসুম। 

নিজের পোস্টে ক্ষোভ ঝেড়ে নাসুম লেখেন, ‘হ্যালো টাইটান্স। আমার ৩৫ লাখ টাকা তো দিয়েছেন, সরাসরি চুক্তির বাকি ৩৫ লাখ টাকা কি দিবেন? নাকি মরার পর চল্লিশার সময় দিবেন? দিলেও সেটা আমাকে জানাবেন দয়া করে, যেন আমি আমার ফ্যামিলিকে বলে যেতে পারি, সিলেট টিম মালিক মাহিদুল ইসলাম সামি আমার টাকা দিবে আমি মরার পর।’

হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটের স্ক্রিনশট নিজের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন নাসুম। সেখানে দেখা যায় মাহিদুল সামি বলেন, ‘এভাবে মানুষকে সামনে এনে আমাকে বেইজ্জত করার মানে কি? মিডিয়া ডেকে যাকে খুশি তাকে বলে শান্তি হয়ে যাও।’ প্রতি উত্তরে নাসুম বলেন, ‘কাল থেকে আপনাকে সাদি ভাইকে কল দিতেছি, কোনো রিপ্লাই দিচ্ছেন না। আর কার কাছে আমি ইজ্জত মারলাম?’ নাসুমের এমন কথার জবাবে সামি বলেন, ‘আমি তোমাকে শনিবারে বুঝিয়ে বলেছি যে, রবিবারে হুন্ডি না দিতে পারে, তাহলে সোমবারে দিব।’

এ বিষয়ে কথা বলতে মাহিদুল সামির ইংল্যান্ডের নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি।

লন্ডন প্রবাসী কমিউনিটি নেতা তাজুল ইসলাম বলেন, হুন্ডি একধরনের অর্থ পাচার, যা রাষ্ট্রীয় আইনে দ-নীয় অপরাধ। হুন্ডির মতো অবৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স লেনদেনের কথা বলছেনÑ এটা সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত। মাহিদুল সামি শুনেছি সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম ফারুকের ছেলে। তারা ক্ষমতায় আসার পরে যদি সরকারকে সহযোগিতার বদলে রাজস্ব ফাঁকি দেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না?

স্পেন প্রবাসী সাবেক ক্রিকেটার আমিরুল ইসলাম খান বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ বা মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়লে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়, যা আমদানি ব্যয় মেটাতে সাহায্য করে। সমাজের বড় ব্যক্তিরা যদি ঘোষণা দিয়ে অবৈধ হুন্ডি বেছে নেয় আর সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। রেমিট্যান্স হচ্ছে দেশের অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তি। বিএনপি নেতার ছেলে ও সরকারের বড় এক কর্তাব্যক্তির ছত্রছায়ায় তারা যেন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এখনই লাগাম না ধরলে আরও বড় দুর্নীতি করে তারা পার পেয়ে যাবে।