ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

আন্দোলনকারীদের হত্যার পর হাসিনার কান্নার নাটক ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায়

আগস্টের শুরুতেই খুলছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর’

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ০৫:৩৮ এএম

আগামী জুলাই মাসের শেষে কিংবা ১ আগস্টের মধ্যেই সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর’ খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার সকালে গণভবনে স্থাপিত এই জাদুঘরটি পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন ‘গণভবন’কে জাদুঘরে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ও সংস্কৃতিমন্ত্রী প্রকল্পটির কাজের অগ্রগতি দেখতে সেখানে যান।

পরিদর্শন শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের হত্যার পর হাসিনার কান্নার নাটক ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে লিখিত থাকবে। হাসিনা ও তার সরকার কত বড় মাফিয়া ও খুনি ছিল, এই জাদুঘর তা প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেবে। শেখ হাসিনার মাফিয়া সাম্রাজ্য ও খুনের নির্দেশনাÑ সবই থাকবে এখানে।  তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা যে তার খুনিদের সরাসরি হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন, তার কল রেকর্ডও এই জাদুঘরে সংরক্ষিত থাকবে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, এই জাদুঘর অনাগত বাংলাদেশের এক বিশাল সম্পদ। যতদিন এটি থাকবে, মানুষ শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ওপর ঘৃণা প্রকাশ করবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান যুগ যুগ ধরে বাঙালিদের অনুপ্রাণিত করবে। স্পিকার আরও জানান, জুলাই জাদুঘরে স্থান পেয়েছে গণভবন দখলের চিত্র, শহিদদের পকেটে রাখা চিঠি এবং হাসিনার খুনের নির্দেশের কল রেকর্ডসহ গণতন্ত্রের জন্য বাঙালির দীর্ঘ আন্দোলনের নানা চিত্র

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তার বক্তব্যে বলেন, এই জাদুঘর ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্তির প্রতিবিম্ব হয়ে থাকবে। গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের কাজ শুরু হওয়ার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এর পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ হয়নি। তবে সংস্কৃতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ে সংস্কার কাজ শেষ করে জুলাইয়ের শেষে বা আগস্টের শুরুতেই এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।