× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রুবেল রহমান

প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬, ০৫:২৬ এএম

সরকারের ৯০ দিন

ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের পথে সরকার

রুবেল রহমান

প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬, ০৫:২৬ এএম

ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র  সংস্কারের পথে সরকার

একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণের পর দেখতে দেখতে রাষ্ট্র পরিচালনার ৯০ দিন তথা তিন মাস পার করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে ২১৩টি আসনে জয়লাভের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠন করা হয় ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদের পরিধি বাড়ানোর গুঞ্জনও আছে রাজনীতির মাঠে। দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফেরা দলটির সামনে শুরুতেই নানা চ্যালেঞ্জ। বিধ্বস্ত অর্থনীতি, ভঙ্গুর প্রশাসনিক কাঠামো এবং ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলার এক বিশাল জঞ্জাল।

সরকার গঠনের পরপরই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৮০ দিনের একটি স্বল্পমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। প্রথম ৯০ দিনে সেই পরিকল্পনার কতটুকু বাস্তবায়ন হলো, জনগণের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণটি কেমনÑ তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। দায়িত্বশীল মন্ত্রী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এক অভূতপূর্ব সংকটের মধ্যে দায়িত্ব নিলেও প্রথম তিন মাসে সরকারের অভিযাত্রা সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক এবং গতিশীল। নির্বাচনের আগে তারেক রহমান যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রথম ৯০ দিনের তার বেশির ভাগেরই শুভসূচনা করতে পেরেছে সরকারপ্রধান। নানামুখি চ্যালেঞ্জের মধ্যের এমন সূচনাকে আশার আলো হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

১৮০ দিনের রোডম্যাপ ও প্রথম তিন মাসের দৃশ্যমান অগ্রগতি : ক্ষমতা গ্রহণের পরদিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। প্রথম ৯০ দিনে এসে সেই পরিকল্পনার বেশকিছু বড় উদ্যোগ এখন দৃশ্যমান। খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের পর অনুমোদন দিয়েছেন পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও অববাহিকার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনের আলোচিত ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ অনুমোদন দিয়েছে বর্তমান সরকার, যা এই মেয়াদের অন্যতম প্রধান একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। কৃষির পুনরুজ্জীবনে দেশব্যাপী খালখনন কর্মসূচি এবং ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নি¤œবিত্তের সামাজিক সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম ২৫টি কার্যদিবসেই রেকর্ড ৯৪টি বিল পাস করা হয়েছে, যা আইনি সংস্কারের গতিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও মুখপাত্র সালেহ শিবলী বলেছেন, ‘অতীতে আমরা কখনো দেখিনি যে, একটি সরকার নির্বাচনের সময় জনগণের কাছে দেওয়া ইশতেহার ধরে ধরে সময় মেপে বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতা গ্রহণের এক সপ্তাহের মধ্যেই ইশতেহার বাস্তবায়নে হাত দিয়েছেন। এটি জনগণের রায়ের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান।’

স্বরাষ্ট্র ও প্রশাসন : ভেঙে পড়া কাঠামো পুনর্গঠনের লড়াই : সরকার গঠনের সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া তথ্যমতে, গত ৯০ দিনে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে থানাগুলোকে শতভাগ সচল করা সম্ভব হয়েছে। পেশাদারিত্ব ও জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করতে প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল ও সংস্কার কার্যক্রম এখনো চলমান। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তারে দেশব্যাপী যৌথবাহিনীর অভিযান সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। বিশেষ করে সড়ক, মহাসড়ক এবং বাজারগুলোয় দীর্ঘদিনের কায়েমি চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কিছু কিছু পকেটে এখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাক্সিক্ষত উন্নতি হতে বাকি আছে।

অর্থনীতি ও আর্থিক খাত : স্থিতিশীলতার খোঁজে : ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি এবং তীব্র রিজার্ভ সংকটের মধ্যে দায়িত্ব নেওয়া অর্থমন্ত্রণালয় প্রথম ৯০ দিনে বেশকিছু জরুরি ফিসকাল নীতি গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া, সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে চাল, ডাল, তেল ও পেঁয়াজের মতো জরুরি নিত্যপণ্যের শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা হয়েছে। অবৈধ মজুতদার ও কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার। টিসিবির মাধ্যমে সুলভমূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পরিধি ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফেরাতে এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে একটি স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত চলছে এবং প্রবাসীদের জন্য রেমিট্যান্সের প্রণোদনা নিশ্চিত করায় প্রবাসী আয়ের গ্রাফ এখন ঊর্ধ্বমুখী।

পররাষ্ট্রনীতি ও অন্যান্য সংস্কার : নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’Ñ এই নীতির ভিত্তিতে বৈশ্বিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সফল বৈঠকের পর বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি মিলেছে। এ ছাড়া বিগত আমলে তৈরি হওয়া বিতর্কিত শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা করে দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মমুখী শিক্ষাক্রম প্রণয়নের জন্য একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র মেরামত : রাজনৈতিক মূল্যায়ন : বিএনপি সরকারের প্রথম ৯০ দিনের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে বলতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা এক গভীর সংকটময় পরিস্থিতিতে যাত্রা শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এই ৯০ দিনে শুধু সরকার পরিচালনা করিনি, বরং একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র মেরামতের কাজ শুরু করেছি। বিগত স্বৈরাচারী সরকার রাষ্ট্রের প্রতিটি রন্ধ্রে দুর্নীতি আর অনিয়ম ঢুকিয়ে দিয়ে গেছে। এই ১৭ বছরের জঞ্জাল তিন মাসে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। একটি কুচক্রী মহল এখনো স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে ষড়যন্ত্র করছে। আমরা দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানাই।’

সামনে যেসব বড় চ্যালেঞ্জ : রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম ৯০ দিনের মধুচন্দ্রিমা পেরিয়ে বর্তমান সরকারের সামনে এখন আসল পরীক্ষা। আগামী দিনগুলোতে তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবেÑ ১. বাজারমূল্য তথা মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পুরোপুরি নামিয়ে আনা। ২. আসন্ন বাজেটে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এবং অভ্যন্তরীণ ঋণনির্ভরশীলতা কমানো। ৩. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধান করা। ৪. বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, মাত্র তিন মাস সময়কাল একটি রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট না হলেও, প্রথম ৯০ দিনে বিএনপি সরকার যে সংস্কারের সুনির্দিষ্ট এবং সঠিক ট্র্যাকে যাত্রা শুরু করেছে; ১৮০ দিনের বাকি ৯০ দিনে এই সংস্কার প্রক্রিয়া কতটা বেগবান হয়, তার ওপরেই নির্ভর করবে বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের দীর্ঘমেয়াদি আস্থার পরিমাপ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, পতিত স্বৈরাচার লুটপাট করে বিদেশে টাকা পাচার করে দেশের অর্থনীতি খাদের কিনারে ফেলে দিয়ে গেছে। নতুন সরকার চাইলেই রাতারাতি সব করে ফেলতে পারবে না। তবে নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল গুরুত্ব বিবেচনায় সবই শুরু করেছে। বাজেটে বরাদ্দ হলে কাজের গতি আরও বাড়বে। আশা করি, মানুষের প্রত্যাশা ছুঁতে পারবে বিএনপি সরকার।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!