ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ওসমান হাদি হত্যা

মূল পরিকল্পনাকারী কারা মমতার বক্তব্যে তোলপাড়

সাইফ বাবলু ও মোস্তাফিজুর রহমান সুমন
প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ০৫:২৯ এএম

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার নেপথ্যে কারা রয়েছেন, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বিস্ফোরক মন্তব্যে। পাঁচ মাস আগে চ্যাঞ্চল্যকর এ হত্যাকা-ের পর তখনই গুঞ্জন উঠে দেশি-বিদেশি পরিকল্পনায় ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ছক আঁকা হয়েছিল। হত্যার মধ্যে অন্যতম কারণ ছিল ভারতবিরোধী অবস্থান এবং আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে নিষিদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া। হত্যাকা-ের পর পুলিশ মূল হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও সহযোগী কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে নেপথ্যের পরিকল্পনকারী ও অর্থদাতাদের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। এর মধ্যেই ভারতে গ্রেপ্তার হন ওসমান হাদীকে হত্যায় অংশ নেওয়া দুই খুনি। ঘটনার ৫ মাস ১২ দিন পার হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যে এখন হত্যায় ভারতের একটি গোয়েন্দা সংস্থার যোগসূত্র নিয়ে বেশ চ্যাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আসলেই কি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনায় হাদিকে হত্যা করা হয়েছে? সেই প্রশ্ন সামনে আসলেও আরেকটি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ওই বিদেশি সংস্থার দেশীয় কোন চক্রের মাধ্যমে এ হত্যা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যদিও মমতার ওই মন্তব্য নিয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ সরকারের কেউ।

২০২৫ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি প্রচার চালানোর সময় রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ড রোডে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান বিন হাদি। মাথায় গুলি লাগা হাদিকে বিদেশ নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় ১৮ ডিসেম্বর। এ ঘটনায় প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা হলেও পরে সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। ঘটনায় মূল হত্যাকারী হিসেবে যাদের নাম এসেছে সেই ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর ঘটনার পর পরই ভারতে পালিয়ে যায়। পুলিশের অভিযানে বাংলাদেশে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। এরমধ্যে ভারতে ফয়সাল ও আলমগীর গ্রেপ্তার হয়। যদিও গ্রেপ্তার ফয়সাল ও আলমগীরকে এখনো ফিরিয়ে আনতে পারেনি পুলিশ। ফলে তদন্ত অনেকটা থমকে যায় মূল দুই কিলারকে দেশে না আনতে পারার কারণে। এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যে হাদি হত্যার তদন্তে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। 

সম্প্রতি হাদি হত্যার আসামি ভারতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার হত্যাকা- নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মমতা। মমতার মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধান আলোচনার বিষয় এখন হাদি হত্যাকা-। দেশের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজনকে জড়িয়ে বড় ভাই বিস্ফোরক পোস্ট দিয়েছেন। আবার আরেক পোস্টে গণঅধিকার পরিষদ নেতা ফারুক দাবি করেছেন, বড় ভাইয়ের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী দাবি করেছেন, হাদি হত্যায় জড়িতদের নাম প্রকাশ করতে হবে। বর্তমানে এই হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটনের পরিবর্তে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও রাজনৈতিক তর্কের বিষয়টি জনমনে কৌতূহল ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

গত মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলার ‘ওয়াই চ্যানেল’ এলাকায় এক প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচিতে মমতা বলেন, বাংলাদেশের দুই আসামি পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এ বিষয়ে তাকে ‘চুপ থাকতে বলেছিলেন’ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল; যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না, আমার অধিকারও নেই বলার। কিন্তু আমি যেটা বলতে চাইছি তা হলো ওই হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এইটা তাদের কৃতিত্ব। কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়। কারণ এটা দেশের ব্যাপার। কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথার ভা-ার, তথ্য ভা-ার। এতদিন আমি বলিনি। কিন্তু আজকে অত্যাচারে শেষ সীমায় গেছে বলে আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলব না।

মমতা ব্যানার্জীর ওই বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, আকাশপাতাল বলে তো লাভ নেই। আরেকটা দেশে নির্বাচন হয়েছে, সে দেশে একজন পরাজিত হয়েছে, সে পরাজিত একজন নেতা একটা কথা বলেছে, দ্যাট ইজ নট আওয়ার ম্যাটার টু ডিসকাস। তিনি বলেন, ভারত সরকার যদি এখন বাংলাদেশকে হাদি হত্যার ব্যাপারে কিছু বলে- অলরেডি তো এটা নিয়ে কাজ চলছে, কাজ এগিয়েছে। এবং খুবই সিরিয়াসলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটা নিয়ে কাজ করছে। হাদি হত্যার বিচার আমরা চাই এবং এই যারা ধরা পড়েছে ভারতে, তাদের ফেরত এনে এখানে বিচার বাস্তবায়ন দ্রুত করতে হবে। সে বিষয়ে কিন্তু আমরা সচেষ্ট আছি। এখন আরেকজন, একটা ইলেকশনে হয়েছে আরেকটা দেশে, পাশের দেশে, সেখানে যিনি হেরে গেছেন, তিনি বলছেন উনাদের সরকারকে উদ্দেশ্য করে, সেটা নিয়ে এখানে বাংলাদেশে আমার কমেন্ট করা উচিত হবে বলে আমি মনে করি না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাদি হত্যার ব্যাপারে আমার (কাজ) ডিরেক্টলি গভর্নমেন্টের সাথেÑ কারণ আমার যদি এই কালপ্রিটদের ফেরত আনতে হয়, তাদের কিন্তু আমার ভারত সরকারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে ফেরত আনতে হবে এবং সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি খুবই সিরিয়াসলি এবং এটা কিন্তু এগিয়েছে, বেশ ভালো এগিয়েছে। সুতরাং আমরা ওইদিকে আগাতে চাই। এখন বাংলাদেশের সাথে যদি তারা কোনো কথা বলে, তখন সেটা আমরা দেখব।

এ বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, ওসমান হাদির হত্যার মামলাটি আদালতের নিদের্শে অধিকতর তদন্ত করছে সিআইডি। এ হত্যকা-ের মূল আসামি ফয়সাল ও আলমগীর ভারতে গ্রেপ্তার রয়েছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের যোগাযোগ করা হয়েছে সিআইডির পক্ষ থেকে। তাদের ফিরে পাওয়া গেলে এ হত্যার নেপথ্যে কাদের পরিকল্পনা ছিল, কারা অর্থায়ন করেছে সব রহস্য উদঘাটন হবে।

তিনি আরও বলেন, ভারতের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হাদি হত্যার বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন সেটি তার রাজনৈতিক বিষয়। সিআইডি আইনের মধ্যে থেকেই তদন্ত করছে। বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী, হাদি হত্যার মূল আসামি যারা ভারতে গ্রেপ্তার রয়েছে তাদের ফিরিয়ে দিতে ভারতের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজনকে জড়িয়ে বড় ভাইয়ের বিস্ফোরক পোস্ট : ওসমান হাদির হত্যায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজনকে জড়িয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট দিয়েছেন তার বড় ভাই শরীফ ওমর হাদি। গত মঙ্গলবার রাতে ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টগুলোতে তিনি দেশের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন। এর মধ্যে সর্বশেষ পোস্টে তিনি হাদি হত্যায় জামায়াত আমিরের এক পিএস জড়িত বলে অভিযোগ তোলেন। আর আগেরটিতে অন্তর্বর্তী এবং বিএনপি সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ও এমপি-মন্ত্রী ‘সরাসরি জড়িত’ বলে দাবি করেন ওমর বিন হাদি।

এই দুটি পোস্ট নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় চলছে ব্যাপক আলোচনা। এমনকি ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি ওমর হাদির নিয়ন্ত্রণে আছে কি না তা নিয়েও সংশয় জানিয়েছেন কেউ কেউ। প্রথম পোস্টে ওমর হাদি লেখেন, শহীদ ওসমান হাদির খুনের সঙ্গে ইন্টেরিম সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপি সরকারের কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী সরাসরি জড়িত। প্রধানমন্ত্রী হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করুন। হাদি হত্যার বিচার না করলে আপনাকেও এরা হত্যা করবে। যেভাবে আপনার বাবা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছে। হাদি হত্যার বিচার আপনি না করলে আপনাকে হত্যা করলেও কেউ বিচার করবে না। হাদি হত্যার বিচার বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য রেড লাইন। হাদি হত্যার বিচার করুন। দ্বিতীয় পোস্টটিতে তিনি উল্লেখ করেন, শহিদ ওসমান হাদি হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরিতে আমিরে জামায়াতের একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জড়িত। হাদিকে ঢাকা-০৮ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রেসার দিছে আমাদের।

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে কর্মরত (চুক্তিভিত্তিক) রয়েছেন ওমর বিন হাদি। তিনি সরকারি কর্মকর্তা হয়ে এ ধরনের পোস্ট দিতে পারেন কি নাÑ এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, তিনি বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন। কেউ বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা তিনি মানেননি। গত বছরের ২৮ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘ব্যক্তিগত’ অথবা ‘পেশার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়’ এমন বিষয়ে ফেসবুকে ছবি দিতে ও লিখতে পারবেন না সরকারের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। শুধু উদ্ভাবনমূলক ও সরকারি কাজের ইতিবাচক দিক নিয়ে লিখতে ও শেয়ার করতে পারবেন কর্মকর্তারা।

ইনকিলাব মঞ্চের নতুন কর্মসূচি : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত এবং খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মশাল মিছিল এবং আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে প্লাটফর্মটি। গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল করা হবে। একই দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়।

‘হাদি হত্যায় তার বড় ভাইয়ের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে’ : হাদি হত্যাকা-ের ঘটনা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিতর্ক দানা বেঁধেছে। গতকাল বুধবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান এই হত্যাকা-ে ওসমান হাদির বড় ভাই শরিফ ওমর হাদির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে জোরালো সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ফারুক হাসান তার পোস্টে অভিযোগ করেন, এই হত্যাকা-ের পর সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন ওমর হাদি। তিনি উল্লেখ করেন, ওসমান হাদির মৃত্যুর পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওমর হাদি লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে একটি লাভজনক বা ‘লুকরেটিভ’ চাকরি গ্রহণ করেছেন। ফারুক হাসান প্রশ্ন তোলেন, ওমর হাদি যদি অন্তর্বর্তী সরকারকে এই হত্যাকা-ের জন্য দায়ী মনেই করতেন, তবে তিনি কেন ড. ইউনূসের সরকারের অধীনে লন্ডনে এই পদে নিয়োগ গ্রহণ করলেন? তিনি ওমর হাদিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা পরদিন গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানী ঢাকার বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কের সামনে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় হাদি মারা যাওয়ার পর বাংলাদেশজুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। তখন বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় হাই কমিশন ও সহকারী হাই কমিশনের সামনে এবং ভারতে বাংলাদেশের হাই কমিশন ও উপ হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ এবং সংঘাতের ঘটনা ঘটে। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ১৬ দিন পর ২৮ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) দাবি করে, হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিমের সঙ্গে তার সহযোগী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেন ভারতের মেঘালয়ে থাকছেন এবং তাদের দুজন সহায়তাকারীকে (ভারতীয়) গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তবে ভারত সে সময় তাদের গ্রেপ্তারের কথা শিকার করেনি। পরে মামলার দুই প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে গত ৮ মার্চ গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করে ভারতের পুলিশ। এরপর থেকে এখনো তারা দেশটির কারাগারে রয়েছেন।