বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের জনগণ কোনো আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের কাছে মাথানত করেনি, করবে না। গতকাল সোমবার রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবৈধ পুশইন, সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতন বন্ধের দাবিতে ১১-দলীয় ঐক্য আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে এসব কথা বলেন তিনি। বিক্ষোভ থেকে দাবি করেন, সরকার যদি সীমান্তে পুশইন, সীমান্ত হত্যা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে না পারে, ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান।
সমাবেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত সমস্যা সমাধানে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা সম্পর্ক চাই। এদেশের জনগণ কারো কোনো আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের কাছে মাথানথ করেনি, করবে না। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত আমাদের প্রতি আগ্রাসী আচরণ করছে। ভারতের সীমানা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখ-তার প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু আপনারা (ভারত) আমাদের প্রতি সম্মান দেখাতে পারেননি। ভারত ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিন্নের বার্তা দিয়েছে। শহিদ ওসমান হাদির খুনিকে আটকের পরও বাংলাদেশে ফেরত না দিয়ে ভারত বন্দি বিনিময় চুক্তি ভঙ্গ করেছে। তিনি ভারত সরকারের উদ্দেশে বলেন, কোনো দলের সঙ্গে নয়, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হলে এদেশের জনগণের পক্ষে ভূমিকা রাখতে হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, অভিন্ন আকাশের স্বপ্ন ১৯৪৭ সালে ভারত ভঙ্গ করেছিল। তারা মুসলিম কার্ড খেলা করে মুসলমানদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। সেখান থেকেই আমরা অভিন্ন ভারতের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠতে বাধ্য হয়েছিলাম। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, যদি মুজিববাদের পথে হাঁটেন, তবে আবারো মুজিববাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, আমাদের দেশের সীমান্তে ভারত প্রতিদিন হত্যাকা- ঘটাচ্ছে, পুশইন করছে। জনগণ উদ্বিগ্ন হলেও আমাদের সরকার উদ্বিগ্ন নয়। সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, এটি বর্ডার কিলিং নয়, তা হলে বর্ডার কিলিং কাকে বলে সেটি স্পষ্ট করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টির) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাংলাদেশের জনগণের বোঝা দরকার সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের নামে যা ঘটছে, তা আমাদের স্বাধীনতার ওপর হুমকি। তিনি ভারতের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের দাসত্বের আওয়ামী লীগ এদেশে আর ফিরবে না। এদেশের মানুষ বিপ্লবী, প্রতিবাদী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ না করলে এদেশের জনগণ রুখে দাঁড়াবে।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের দালাল হলেই নিয়োগ দেওয়া হয়; নাকি নিয়োগ পাওয়ার পর এরা দালাল হয়ে যায়। আজকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলছেন দীপু মনির ভাষায়, হাছান মাহমুদের ভাষায়। তিনি, শুভেন্দু অধিকারী ও শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দাবি করে তাদের বাংলাদেশে পুশইন করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল আধিপত্যবাদের দোসর ফ্যাসিবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। জুলাইয়ে আকাক্সক্ষা ছিল- আধিপত্যবাদের দোসর ও ফ্যাসিবাদের বিদায়ের পর সীমান্তে আর কোনো হত্যা হবে না। কিন্তু বিপ্লব পরবর্তী নতুন সরকারও ভারতীয় সেবাদাস সরকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে না পারলে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে ভারত চলে যেতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

