ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

কর্মশালায় বক্তারা

ঢাকা শহরের বাস টার্মিনালগুলো হবে ধূমপানমুক্ত

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০২:৩৫ এএম

ঢাকার ব্যস্ততম বাস টার্মিনালগুলোতে কঠোরভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে একটি কৌশলগত কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং আর্ক (এআরকে) ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে রাজধানীর গুলশান-২-এর হোটেল লেক ক্যাসেলে ‘টোব্যাকো-ফ্রি সিটিজ’ গবেষণা প্রকল্পের আওতায় দিনব্যাপী এই কর্মশালাটি সম্পন্ন হয়। 

কর্মশালায় বক্তারা টার্মিনালগুলোকে ধূমপানমুক্ত করার জন্য বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপের ওপর আলোকপাত করেন। আর্ক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, শহর ও পৌর এলাকাগুলোকে পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ও কার্যকরব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। 

বাস টার্মিনালগুলোকে ধূমপানমুক্ত করার ব্যবহারিক সমাধান তুলে ধরে ঢাকা জেলা বাস-মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘চালক, কন্ডাক্টর ও কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান, টার্মিনালের দোকানগুলোতে তামাকজাত পণ্য বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলে টার্মিনালগুলোকে ধূমপানমুক্ত রাখা অনেক সহজ হবে।’ 

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মীর আলমগীর হোসেন বলেন, আমাদের রেলপথের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, শক্তিশালী নেতৃত্ব, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ থাকলে যেকোনো গণপরিবহন হাবকে তামাকমুক্ত করা সম্ভব। বাস টার্মিনালগুলোকে ধূমপানমুক্ত করাই এখন আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হওয়া উচিত।

ডিএনসিসির উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘গণপরিবহন ও রেস্তোরাঁয় ধূমপান করা আগে স্বাভাবিক মনে হলেও সমাজ এখন তা আর মেনে নেয় না। এই পরিবর্তন প্রমাণ করে যে সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ সামাজিক পরিবর্তন আনতে পারে।’ তিনি আরও জানান, ডিএনসিসির আওতায় থাকা সব বাস টার্মিনালকে ধূমপানের অভিশাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করতে তারা বদ্ধপরিকর। 

সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, টার্মিনালগুলোকে ধূমপানমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় নোটিশ জারি, প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন, সচেতনতামূলক প্রচার চালানো এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। 

কর্মশালার শেষ অধিবেশনে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সিটি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে টার্মিনালগুলোর বাতাস নির্মল রাখার জন্য একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ চালক, শ্রমিক ও যাত্রীদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সচেতনতামূলক প্রচার চালানো, টার্মিনালের ভেতরে ও আশপাশে তামাক বিক্রি রোধ করা, দ্রুত দৃশ্যমান ‘ধূমপান নিষেধ’ সাইনবোর্ড স্থাপন এবং নিয়মিত অডিও ঘোষণার মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের শাস্তির বিষয়ে সতর্ক করা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা আলী, আর্ক ফাউন্ডেশনের রিসার্চ আপটেক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ম্যানেজার আব্দুল্লাহ এম. রাফি প্রমুখ।