ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

পলাতক বহু, ধরা পড়ে কজন

ইকবাল হাসান ফরিদ
প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

দুর্নীতি, হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, অর্থপাচার, জালিয়াতি কিংবা আন্তর্জাতিক অপরাধ- এই ধরনের ভয়ংকর সব অপরাধ সংঘটিত করে দেশের সীমানা পেরিয়ে অন্য দেশে পালিয়ে যায় অপরাধীরা। আর এসব অপরাধীকে ধরতে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতা সংস্থা ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হয় রাষ্ট্রগুলো। কিন্তু রেড নোটিশ জারির পরও অনেক অভিযুক্ত বছরের পর বছর বিদেশে অবাধে চলাফেরা করে। কেউ ব্যবসা পরিচালনা করে, কেউ রাজনৈতিক আশ্রয়ের আড়ালে থাকে, আবার কেউ নতুন পরিচয়ে জীবনযাপন করে।

সম্প্রতি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ব্যবস্থা। তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির খবর প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষের মনে একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। রেড নোটিশ কি আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা? এটি জারি হলেই কি কাউকে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়? আর বিদেশে অবস্থানরত পলাতকদের প্রত্যর্পণ এত জটিল কেন?

ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ‘ওয়ান্টেড’ ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৬ হাজার ৪৪৪ জনের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৫৩৯ জন এবং নারী ৬০১ জন। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। কারণ তদন্তের স্বার্থে কিংবা অভিযুক্তের সতর্ক হওয়ার সুযোগ এড়াতে বহু রেড নোটিশ প্রকাশ করা হয় না।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ইন্টারপোলের প্রকাশিত তালিকা আসলে হিমশৈলের চূড়ামাত্র। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নেটওয়ার্কে আরও বহু রেড নোটিশ সক্রিয় থাকে, যা সাধারণ মানুষের দেখার সুযোগ নেই।

১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্টারপোল বর্তমানে বিশ্বের ১৯৬টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তম আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা সংস্থা। এর কাজ বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় সাধন। তবে ইন্টারপোলের নিজস্ব কোনো পুলিশ বাহিনী নেই। তারা সরাসরি কাউকে গ্রেপ্তারও করতে পারে না।

সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত ধারণা হলো, রেড নোটিশ মানেই আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন। রেড নোটিশ হচ্ছে কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত, অবস্থান নির্ণয় এবং সাময়িকভাবে আটক করার জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে ইন্টারপোলের একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ। এটি নিজে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়। তবে অধিকাংশ দেশ এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। ফলে কোনো রেড নোটিশভুক্ত ব্যক্তি বিমানবন্দর, সীমান্ত কিংবা অভিবাসন চেকপয়েন্টে শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনের আওতায় তাকে আটক করা হতে পারে।

ইন্টারপোলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৫৯ জন বাংলাদেশিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ খুঁজছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশও একাধিক পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা নিচ্ছে। বাংলাদেশ যাদের খুঁজছে তাদের মধ্যে রয়েছেন হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি, একাধিক হত্যা মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি, মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য, জালিয়াতি ও অস্ত্র মামলার আসামিরা।

রেড নোটিশ জারির পরও আসামিরা বছরের পর বছর অধরা থাকছেন। তাদের স্বদেশে ফেরানো যাচ্ছে না। এ বিষয়ে নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে একাধিক জটিল কারণ। প্রথমত, সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। ফলে কোনো পলাতক ব্যক্তি এমন দেশে অবস্থান করলে, যেখানে প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, তাকে ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ত, অনেক অভিযুক্ত রাজনৈতিক আশ্রয় বা শরণার্থী মর্যাদা দাবি করেন। তখন বিষয়টি শুধু অপরাধ তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নও সামনে আসে। তৃতীয়ত, অনেকেই ভুয়া পরিচয়পত্র, একাধিক পাসপোর্ট কিংবা জাল নথি ব্যবহার করে অবস্থান পরিবর্তন করেন। এতে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়। চতুর্থত, কিছু দেশ নিজস্ব বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অন্য দেশের কাছে হস্তান্তর করে না। ফলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া বছরের পর বছর ঝুলে থাকতে পারে।

তারা বলছেন, রেড নোটিশ জারি হওয়া মানেই দ্রুত প্রত্যর্পণ নয়। বিশ্বের বহু আলোচিত অপরাধী দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করেছেন রেড নোটিশ জারি থাকার পরও। আবার অনেকেই গ্রেপ্তার হলেও আইনি জটিলতার কারণে দ্রুত প্রত্যর্পণ সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। দীর্ঘদিন যাবৎ বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা এখনো বিদেশে অবস্থান করছেন। বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক তৎপরতা চললেও তাদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

তবে সফলতার নজিরও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে একাধিক পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই দীর্ঘ কূটনৈতিক যোগাযোগ, আইনি সহায়তা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির খবরে বিষয়টি নতুন করে জনআলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হওয়া শুধু আইনি নয়, প্রতীকীভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে একটি বার্তা দেয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তদন্ত বা বিচারের আওতায় রয়েছেন এবং তাকে খুঁজছে রাষ্ট্র। তবে রেড নোটিশ জারি হওয়া মানেই তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার বা প্রত্যর্পণ নয়। সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থান, স্থানীয় আইন, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে।

সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা বলেন, প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধের ধরনও পাল্টেছে। সাইবার অপরাধ, অর্থপাচার, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন, মানবপাচার এবং আন্তঃসীমান্ত প্রতারণা বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে ইন্টারপোলের ভূমিকাও আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে সংস্থাটি শুধু অপরাধীর অবস্থান শনাক্ত করাই নয়, ডিজিটাল গোয়েন্দা তথ্য, বায়োমেট্রিক ডেটা এবং আন্তর্জাতিক ডেটাবেস ব্যবহারের মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সহায়তা করছে।

সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, রেড নোটিশকে অনেকেই আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মনে করেন। কিন্তু এটি মূলত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও আটক করার অনুরোধ। কাউকে প্রত্যর্পণ করা হবে কি না, সেটি নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও আন্তঃসীমান্ত আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় রেড নোটিশের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। একসময় অপরাধীরা ভাবত, বিদেশে চলে গেলেই তারা নিরাপদ। কিন্তু এখন আন্তর্জাতিক তথ্য আদান-প্রদান, বায়োমেট্রিক ডেটাবেইস এবং ডিজিটাল নজরদারির কারণে তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রেড নোটিশ আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। তবে এটি কোনো জাদুর কাঠি নয়। একটি নোটিশ জারির পর শুরু হয় দীর্ঘ আইনি, কূটনৈতিক এবং প্রশাসনিক লড়াই। কেউ দ্রুত ধরা পড়ে, আবার কেউ বছরের পর বছর ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। তবে একটি বিষয় ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। বিশ্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংযুক্ত। সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে গেলেই দায়মুক্তি মিলবে, এমন ধারণা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে। তারা বলছেন, ইন্টারপোলের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ার ফলে পলাতক অপরাধীদের জন্য পৃথিবী দিন দিন ছোট হয়ে আসছে। আর সে কারণেই রেড নোটিশের তালিকায় নাম ওঠা শুধু একটি কাগুজে ঘোষণা নয়; বরং বিশ্বের ১৯৬টি দেশের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় চলে আসার এক আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা।

ইন্টারপোলের লাল তালিকায় কোন দেশের কতজন

ইন্টারপোলের ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, যেসব দেশের মোস্টওয়ান্টেড ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশের ৫৯ জন, আফগানিস্তানের ৮ জন, আলবেনিয়ার ৮ জন, আলজেরিয়ার ১৭ জন, অ্যাঙ্গোলার ৭ জন, আর্জেন্টিনার ১৬৩ জন, আরমেনিয়ার ১৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৫ জন, অস্ট্রিয়ার ৬ জন, আজারবাইজানের ৩৮ জন, বাহামাসের ৪ জন, বেলারুশের ৪ জন, বেলজিয়ামের ৮ জন, বেলিজের ১৬ জন, ভুটানের ১ জন, বলিভিয়ার ১২০ জন, বসনিয়ার ৬৭ জন, ব্রাজিলের ৭৯ জন, বুলগেরিয়ার ৩১ জন, বুুরুন্ডির ২ জন, কম্বোডিয়ার ১ জন, ক্যামেরুনের ২ জন, কানাডার ৪৪ জন, চিলির ২ জন, চীনের ২২ জন, কলম্বিয়ার ৫৬ জন, কোস্টারিকার ১ জন, কিউবার ১ জন, ভারতের ২২৮ জন, জিম্বাবুয়ের ৮ জন, জাম্বিয়ার ২ জন, ইয়েমেনের ১ জন, ভিয়েতনামের ৪৬ জন, ভেনেজুয়েলার ২৯ জন, উজবেকিস্তানের ২৫ জন, উরুগুয়ের ৪৯ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ জন, যুক্তরাজ্যের ১৩ জন, ইউক্রেনের ৫২ জন, তুরস্কের ২৪ জন, তুর্কমেনিস্তানের ১ জন, তিউনিশিয়ার ৬ জন, থাইল্যান্ডের ১২ জন, তানজানিয়ার ২ জন, তাজিকিস্তানের ৩৬ জন, তাইওয়ানের ১ জন, সিরিয়ার ১০ জন, সুইজারল্যান্ডের ৪ জন, সুইডেনের ২১ জন, সুরিনামের ৯ জন, সুদানের ৫ জন, শ্রীলঙ্কার ৬ জন, স্পেনের ৮ জন, সাউথ আফ্রিকার ৫ জন, সোমালিয়ার ৮ জন, স্লোভেনিয়ার ২ জন, স্লোভাকিয়ার ৯ জন, সিঙ্গাপুরের ৫ জন, সার্বিয়ার ১৮ জন, সেনেগালের ১ জন, সৌদি আরবের ২ জন, রুয়ান্ডার ৯ জন, রাশিয়ার ৩ হাজার ২১ জন, রুমানিয়ার ২৩ জন, পর্তুগালের ৯ জন, পোল্যান্ডের ৩৯ জন, ফিলিপাইনের ১০ জন, পেরুর ১৫ জন, পানামার ৪ জন, প্যালেস্টাইনের ২ জন, পাকিস্তানের ১৭১ জন, নরওয়ের ২ জন, নর্থ মেসিডোনিয়ার ৫ জন, নাইজেরিয়ার ১৫ জন, নাইজারের ১ জন, নিকারাগুয়ার ৬৭ জন, নেদারল্যান্ডসের ১২, নেপালের ১৫ জন, মিয়ানমারের ২ জন, মরক্কোর ১০ জন, মন্টেনিগ্রোর ১১ জন, মঙ্গোলিয়ার ২, মলদোভার ২০, মেক্সিকোর ৪১, মালির ২ জন, মালদ্বীপের ৯ জন, মালয়েশিয়ার ৪ জন, লিথুয়ানিয়ার ৬ জন, লিবিয়ার ৩ জন, লেবাননের ১১ জন, লাটভিয়ার ৪ জন, লাওসের ১ জন, কিরঘিজস্তানের ৩৬ জন, কুয়েতের ১ জন, কোরিয়ার ১ জন, কেনিয়ার ৪ জন, কাজাখস্তানের ১২ জন, জর্ডানের ৩ জন, জাপানের ৪ জন, জ্যামাইকার ৫০, ইতালির ৬, ইসরায়েলের ২৫, আয়ারল্যান্ডের ১, ইরাকের ৯, ইরানের ১৯, ইন্দোনেশিয়ার ১১, আইসল্যান্ডের ১, হাঙ্গেরির ৬,  হন্ডুরাসের ২৮, হাইতির ২, গায়ানার ৪, গিনি বিসাউর ১, গিনির ১, গুয়াতেমালার ১৭৩, গ্রিসের ১১, ঘানার ১,  জার্মাানির ১৬, জর্জিয়া ৩৫, ফ্রান্স ৬১, ফিনল্যান্ড ১, ইসোয়াথিনি ১৭, এস্তোনিয়া ৩ জন, এল সালভেদোর ৭৭৪ জন, মিসর ৮, ইকোয়েডর ১২, ডমিনিক রিপাবলিক ৯ জন, ডমিনিকা ৩ জন, ডেনমার্কের ৫ জন, কোত দিভোয়ার ২ জন, চেক প্রজাতন্ত্র ১৫, সাইপ্রাস ২, কিউবা ৫, ক্রোয়েশিয়া ১৫, কোস্টারিকা ৪ ও কঙ্গোর ২ জন।