× UCB Sticker Card
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

শাহীনুর ইসলাম শানু

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০১:৪২ এএম

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ

তালিকাচ্যুত হচ্ছে বেক্সিমকো ফার্মা

শাহীনুর ইসলাম শানু

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০১:৪২ এএম

তালিকাচ্যুত হচ্ছে বেক্সিমকো ফার্মা

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের সাধারণ শেয়ার লেনদেন স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ (এলএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি ডি-লিস্টেড বা তালিকাচ্যুত হতে চলেছে।

২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি থেকে গ্লোবাল ডিপোজিটরি রসিদ বা জিডিআর লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। এলএসইর ১৯ নম্বর বিধি অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির শেয়ার লেনদেন ছয় মাস স্থগিত থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটি তালিকাচ্যুত হবে, যা আগামী ২ জুলাই ছয় মাস পূর্ণ হতে চলেছে। লন্ডনে অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটে (এআইএম) ২০০৫ সালে বাংলাদেশে থেকে একমাত্র তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো, ট্রেডিং কোড ‘বিএক্সপি’।

নির্ধারিত সময়ে নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ। অন্যদিকে, একই কারণে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারেও কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট গ্রুপ অব কোম্পানিটির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার কাছে গেলেও তারা মুখ খুলছেন না।  

২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বেক্সিমকোর লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ শেয়ার লেনদেন স্থগিত করেছে। তাহলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন কেন চলছে? একই অপরাধে ডিএসই, সিএসই এবং বিএসইসি কেন চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে প্রশ্ন তুলেছেন ফাস্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের মাধ্যমে বিনিয়োগকারী মুশফিকুর রহমান নামে এক বিনিয়োগকারী।

তবে ‘সংকটের মূল কারণ কোম্পানির ব্যাবসায়িক সক্ষমতা বা আর্থিক অস্থিতিশীলতা নয়; সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গুড গভর্ন্যান্স ও আইনি অচলাবস্থা।’ বলেন এক আইনজীবী।

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন বন্ধের কারণ : বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ১৩ আগস্ট আটক হয়ে বর্তমানে তিনি জেলহাজতে আছেন।

সরকার পরিবর্তন হওয়ায় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদেও ব্যাপক পরিবর্তন আসে। আলোচনায় আসেন দেশের শীর্ষ ঋণখেলাপি বেক্সিমকো গ্রুপের সালমান এফ রহমান। সে সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদে ৯ জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কোম্পানিটি এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে, যা এখনো বিচারাধীন।

আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত ও অনুমোদন বন্ধ : ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত ও অনুমোদনের জন্য কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভা এবং বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) হওয়া বাধ্যতামূলক। আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় পরিচালনা পর্ষদের সভা হচ্ছে না। ফলে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে গ্লোবাল ডিপোজিটরি রসিদ বা জিডিআর লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।

বিধিমালায় কী রয়েছে : লন্ডনের অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটের ১৯ নম্বর বিধি অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে পূর্ববর্তী অর্থবছরের চূড়ান্ত ও নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোম্পানিটি তা করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রথমে সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। বিধি অনুযায়ী, ছয় মাস লেনদেন স্থগিত থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালিকাচ্যুত হবে; যা আগামী ২ জুলাই ছয় মাস পূর্ণ হতে চলেছে। তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে আরও এক মাস সময় বাড়ানো যেতে পারে।

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে আন্তর্জাতিক মামলার শঙ্কা : লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে (এলইএস) বেক্সিমকোর গ্লোবাল ডিপোজিটরি রিসিট বা জিডিআর ইস্যু ও পরিচালনার ক্ষেত্রে মূল ট্রাস্টি বা ডিপোজিটরি ব্যাংক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে সিটিব্যাংক এনএ। তালিকাচ্যুত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা মামলা করলে অর্থ ফেরত দেবে ব্যাংকটি। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশ সরকার, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারে ব্যাংকটি।

বিশে^ নেতিবাচক ধারণা : মামলা করা হলেও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, যা বিশে^ অত্যন্ত নেতিবাচক ধারণার জন্ম দিতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। অন্যদিকে, কোম্পানিটি তালিকাচ্যুত হলে নতুন করে আন্তর্জাতিক বাজারে অংশ নেওয়ার জন্য নতুন কোনো কোম্পানি এখনো যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও।

স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ নিয়ে বিরোধ : এমন পরিস্থিতির পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রয়েছে গভীর আইনি জটিলতা। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক বেক্সিমকোর বোর্ডে অতিরিক্ত ৯ জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে, যা এখনো বিচারাধীন।

বেক্সিমকো ফার্মার প্রোফাইল ও বাজার চিত্র : ২০০৫ সালে প্রথম বাংলাদেশি কোম্পানি হিসেবে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটে তালিকাভুক্ত হয়ে ইতিহাস গড়েছিল বেক্সিমকো ফার্মা। আন্তর্জাতিক বাজারে এটি মূলত গ্লোবাল ডিপোজিটরি রিসিট আকারে লেনদেন করে। এটি জিডিআর চট্টগ্রাম ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের একটি সাধারণ শেয়ারের সমতুল্য। ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি লেনদেন স্থগিত হয়। এলএসইতে কোম্পানির ট্রেডিং কোড ‘বিএক্সপি’।

আন্তর্জাতিক বাজারে কোম্পানিটির মোট ৪৪ কোটি ৬১ লাখ ১২ হাজার ৮৯টি (৪৪৬ দশমিক ১১ মিলিয়ন) শেয়ার বা জিডিআর রয়েছে। ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় সর্বশেষ বাজারদর স্থগিত হওয়ার মুহূর্তে এর সমাপনী দাম ছিল ৪২ দশমিক ০০ পেন্স, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৪-৬৫ টাকা। তবে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ডিএসইতে গত সোমবার প্রতিটি শেয়ারের সমাপনী দাম ছিল ১৩১ টাকা।

লন্ডন এক্সচেঞ্জের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী এর মার্কেট ক্যাপিটাল প্রায় ১৮ কোটি ৯৬ লাখ পাউন্ড বা ১৮৯ দশমিক ৬০ মিলিয়ন। টাকার হিসাবে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ১২৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সোমবারের হিসাবে বাংলাদেশের শেয়ারের বাজারমূল্য ৫ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা।

পুনরায় লেনদেন চালু করতে করণীয় : উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত আসার পর বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদিত ও প্রকাশিত হলেই কেবল লন্ডনে আবার লেনদেন চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিএসইসির শীর্ষ এক কর্মকর্তা। তিনি রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘এ জন্য আগে আদালতের মামলার নিষ্পত্তি দরকার।’

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে তিনি বলেন, ‘প্রথমে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে চলমান পর্ষদ গঠনসংক্রান্ত মামলাটির আইনি সমাধান হতে হবে। দ্বিতীয়ত, আদালতের রায় অনুযায়ী বৈধ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক ডেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের অডিটেড আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন ও প্রকাশ করতে হবে। এর পরে দ্রুততম সময়ে অনুমোদিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং বার্ষিক হিসাব বিবরণী লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিলেই এই স্থগিতাদেশ ও ডি-লিস্টিংয়ের জটিলতা প্রত্যাহার হবে।’

বিএসইসির নির্দেশনা : অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৫ জানুয়ারি বেক্সিমকো গ্রুপকে দেওয়া বিএসইসির এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ২০এ-তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কমিশন, বেক্সিমকো গ্রুপের আওতাধীন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ও শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেডের পর্ষদ সভা, কমিশন কর্তৃক জারি করা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখের আদেশ সূত্র নং-বিএসইসি/আইসিএ/সিজি/২০২৩/৬৬/পার্ট-১/৪৯৬-এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র পরিচালক ও অন্য পরিচালকদের সমন্বয়ে এই আদেশ জারির ১২ দিবসের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য ওই সব কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার এবং কোম্পানি সচিবকে এতদ্বারা নির্দেশ প্রদান করা হলো।’ তা এখনো পরিপালন করেনি বেক্সিমকো গ্রুপ।

বেক্সিমকো গ্রুপের কাছে প্রশ্ন ও উত্তর : জানতে চেয়ে বেক্সিমকো কর্তৃপক্ষের কাছে চারটি প্রশ্ন লিখিত আকারে পাঠানো হয়। তা হলোÑ ১. পর্ষদ সভার বিষয়ে কোর্ট স্টে আদেশ করেছে কি? ২. আদালতের নির্দেশনা অনুসারে বোর্ড সভা ও এজিএম করতে বাধা নেই, তাহলে করছেন না কেন? ৩. আগামী ২ জুলাই লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন স্থগিতের সময় ছয় মাস পূর্ণ হবে। আর ৬ মাস পূর্ণ হলে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের বিধি মোতাবেক ডি-লিস্টেড বা তালিকাচ্যুত হবে। (যদিও বিশেষ কারণে এক মাস সময় পাওয়া যায়)। এটা ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে বেক্সিমকো কর্তৃপক্ষ। ৪. লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে (এলইএস) বেক্সিমকোর গ্লোবাল ডিপোজিটরি রিসিট বা জিডিআর ইস্যু ও পরিচালনার ক্ষেত্রে মূল ট্রাস্টি বা ডিপোজিটরি ব্যাংক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে আন্তর্জাতিক সিটিব্যাংক এনএ। যদি তালিকাচ্যুত হয় এবং সিটিব্যাংক এনএ মামলা করে, তাহলে বাংলাদেশের সম্মান ক্ষুণœ হবে। সে বিষয়ে আপনাদের প্রস্তুতি কী?

লিখিত উত্তরে বেক্সিমকো গ্রুপের পরিচালক ওসমান কায়সার চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘উল্লিখিত বিষয়গুলো বর্তমানে পর্যালোচনাধীন। যেহেতু এখানে আইনগত ও কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় রয়েছে, তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করে দেখছি। যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বিস্তারিত জানাতে পারব আমরা।’

বিএসইসির বক্তব্য : লেনদেনের ব্যর্থতায় লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ শেয়ার লেনদেন স্থগিত করেছে। একই ব্যর্থতায় বিএসইসি কী ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে ডি-লিস্টিং ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেÑ দুটি প্রশ্নের উত্তরে বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম আজাদ রূপালী বাংলাদেশ বলেন, ‘আমরা পজেটিভলি দেখছি এবং পজেটিভ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ তার আগে চেয়ারম্যানের রুটিন দায়িত্ব পালনকারী নতুন কমিশনার তানবীর হাবিব রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আইনজীবীর সুপারিশ : লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে (এলইএস) বেক্সিমকোর গ্লোবাল ডিপোজিটরি রিসিট বা জিডিআর ইস্যু ও পরিচালনার মূল ট্রাস্টি ব্যাংক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে আন্তর্জাতিক সিটিব্যাংক এনএ। সেই ব্যাংকের বাংলাদেশের সাবেক চিফ কান্ট্রি কমপ্লায়েন্স অফিসার অ্যান্ড সিএএমএলসিও এবং আইনজীবী এম আশেক রহমান রূপালী বাংলাদেশকে লিখিত জানান, ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে অবস্থান করেছে। আগামী ২ জুলাই বেক্সিমকো ফার্মাাসউটিক্যালস পিএলসি লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটে তার ট্রেডিং স্ট্যাটাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে হারানোর ঝুঁকির সম্মুখীন।’

আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম কমপ্লায়েন্স বিশেষজ্ঞ এবং আইনজীবী হিসেবে তিনি জানান, ‘সংকটের মূল কারণ কোম্পানি ব্যবসায়িক সক্ষমতা বা আর্থিক অস্থিতিশীলতা নয়। সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গুড গভর্ন্যান্স ও আইনি অচলাবস্থা। যা উদ্ভূত হয়েছে কমিশনের মাধ্যমে, নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাধীন পরিচালকদের বৈধতা নিয়ে চলমান বিচারিক বিরোধ থেকে। আইনি ও নিয়ন্ত্রণ দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। একদিক থেকে বিএসইসির ওপর বাজারের স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় আইনগত দায়িত্ব বর্তায়। অন্যদিকে, বিচারিক বিষয়ে আদালতের এখতিয়ার ও বিচারিক স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করাও গুরুত্বপূর্ণ।’

সমাধান হিসেবে ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে একটি সীমিত উদ্দেশ্যভিত্তিক বিশেষ বোর্ডসভার অনুমোদন, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হবে বকেয়া নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুমোদন ও প্রকাশ করার কথা জানান এবং আইনজীবী এম আশেক রহমান।

এদিকে, আন্তর্জাতিক সিটিব্যাংক এন.এ-এর কাছে বেক্সিমকোর তালিকাচ্যুতির পরে তাদের প্রস্তুতি ও বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্পর্কে ই-মেইলে জানাতে চাওয়া হলে শুক্রবার রাত ৮টা পর্যন্ত তারা কোনো ‘প্রতি-উত্তর’ করেনি।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!