ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

শহিদ জিয়া হত্যাকাণ্ড 

খুনি মোজাফফর গ্রেপ্তারে  রহস্য উন্মোচনের সুযোগ

সাইফ উদ্দিন বাবলু
প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৫:৫৪ এএম

শহিদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হত্যাকা-ের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বাস্তবায়নে বিদেশি শক্তির যোগসূত্র ছিল কি না, সে তথ্য বের করার সুযোগ এসেছে সাবেক মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর কেটে গেছে ৪৫ বছর। এই দীর্ঘ সময়েও স্পষ্ট হয়নি কাদের পরিকল্পনায় তাকে হত্যা করা হয়েছে, কেন দ্রুত সময়ে সামরিক আদালতে বিচারের মাধ্যমে কিছু সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সাবেক মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি উঠেছে। একজন বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটিতে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের রাখার মাধ্যমে জিয়া হত্যাকা-ের নেপথ্য কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনের জন্য গ্রেপ্তার মোজাফফরকে জয়েন্ট ইন্টারগেশন সেলে জিজ্ঞাসাবাদেরও দাবি উঠেছে। 

নিরাপত্তা ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, যেহেতু এ হত্যাকা-ে অংশগ্রহণকারী খুনিদের একজন এত বছর পর ধরা পড়েছে, তাই জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলো এখন উদ্ঘাটন সম্ভব। প্রয়োজনে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন হতে পারে। তাকে জয়েন্ট ইন্টারগেশন সেলে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি অপশক্তির মুখোশ উন্মোচনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র বলে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার বিচার সামরিক আদালতে করা হয়। এর মধ্যে ১২ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হলেও সাবেক মেজর মোজাফফররসহ দুজন সেসময় থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন। এর মধ্যে জিয়াউর রহমানকে প্রথমে শনাক্ত করে গুলি করা মোজাফফর হত্যাকা-ের পরপরই ভারতে চলে যান এবং সেখানেই আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর তিনি দেশে ফিরলেও দীর্ঘ ৪৫ বছর কাদের আশ্রয়ে ছিলেন, এতদিন তাকে আত্মগোপনে থাকতে কারা সহযোগিতা করেছেÑ এসব প্রশ্নের বিষয়ে তদন্ত চলছে। যদিও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন। কারণ সেনা আইনে তিনি দ-িত। সেই দ- কার্যকর করার আগে জিয়াউর রহমান হত্যাকা-ের অজানা রহস্যগুলো উন্মোচন হওয়া প্রয়োজন। 

অমীমাংসিত রহস্য উদ্ঘাটনের সম্ভাবনা : একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সাবেক মেজর মো. মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকা- এবং পরবর্তী সেনা বিদ্রোহের অমীমাংসিত রহস্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাসে জিয়াউর রহমান হত্যাকা-, পরবর্তী সেনা বিদ্রোহ, মেজর জেনারেল এমএ মঞ্জুরের মৃত্যু এবং সেই সময়ের রাজনৈতিক-সামরিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় ঘটনাগুলোর নেপথ্যের প্রকৃত চিত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। 

সূত্র আরও জানায়, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের হত্যাকা- ও তৎপরবর্তী সেনাবিদ্রোহ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অমীমাংসিত অধ্যায়। ওই সময়ের বিভিন্ন সামরিক ক্যু, মেজর জেনারেল এমএ মঞ্জুরকে হত্যা, জেনারেল এরশাদের ক্ষমতাগ্রহণ এবং এসব ঘটনায় ভারতের প্রচ্ছন্ন ইন্ধনের বিষয়টি দেশের ইতিহাসে আজও এক ধূসর অংশ হয়ে আছে। সে সময় বিচারকাজ অতি দ্রুততার সঙ্গে শেষ করায় প্রকৃত কুশীলবদের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে জাতি আজো অনেক প্রশ্নের সঠিক উত্তর পায়নি।

নথি অনুযায়ী, মেজর মো. মোজাফফর হোসেন ১৯৮১ সালের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বর্তমানে তিনিই একমাত্র জীবিত। দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তার বক্তব্য ও তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানার সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। খুনি মোজাফফর গ্রেপ্তার হওয়ায় বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন অমীমাংসিত দিক উন্মোচনের পাশাপাশি জাতির সামনে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। 

সূত্র জানায়, মেজর মো. মোজাফফর হোসেন প্রথম জিআরবিতে (জাতীয় রক্ষী বাহিনী) কমিশনপ্রাপ্ত ছিলেন। ১৯৮১ সালে তিনি ২৪ পদাতিক ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকা-ের পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতে অবস্থান করেন। সেই সময় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার আশ্রয়ে ছিলেন বলে জানা যায়। তখন তিনি ‘বিপ্লব সরকার’ ও ‘জয় ব্যানার্জি’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। পরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে খুনি মোজাফফর বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাব : এদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘খুনি’ সাবেক মেজর মোজাফফর জীবিত অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়ায় ১৯৮১ সালের সেনা বিদ্রোহ এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকা-ের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই কমিটিতে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ডিজিএফআই, এনএসআই, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ এবং প্রয়োজনে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে পরিচালনার স্বার্থে মেজর মোজাফফর হোসেনকে ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারগেশন সেন্টার (জেআইসি) অথবা সেনাবাহিনীর আর্মি ইন্টারগেশন সেলে (এআইসি) জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট তথ্য উদ্ঘাটনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের কর্তব্য সত্য অনুসন্ধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান প্রতিহিংসার জন্য নয়; বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জাতীয় আস্থা পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্ভুল ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত। সত্য যাই হোক না কেন, তা জাতির জন্য বিভাজনের নয়; বরং শিক্ষা ও ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়াই কাম্য।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৯৮১ সালে সংঘটিত সেনা বিদ্রোহ ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকা-ের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক অতিসত্বর জাতীয় পর্যায়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা যেতে পারে এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতিকে ওই কমিশনের প্রধান করা যেতে পারে। এ ছাড়া ওই কমিশনে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ডিজিএফআই, এনএসআই, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। পাশাপাশি সরকার কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিশনের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমানে সেনাবাহিনীতে আটক মেজর মোজাফফরের কোনো বিচার অনুষ্ঠান না করাই বাঞ্ছনীয় হবে।

কেন প্রয়োজন স্বাধীন তদন্ত কমিশন : গোয়েন্দা সূত্র বলছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর স্বল্প সময়ে সাধারণ জনগণের নিকট অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকা-, পরবর্তী সেনা বিদ্রোহ ও সে সময়ের রাজনৈতিক-সামরিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে।  সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর দ্রুত সামরিক আদালতে বিচার সম্পন্ন হওয়ায় ঘটনাগুলোর নেপথ্যের প্রকৃত চিত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা উদ্ঘাটিত হয়নি। তবে ৪৫ বছর পর হত্যাকা-ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বর্তমানে একমাত্র জীবিত আসামি সাবেক মেজর মোজাফফরকে আটকের মাধ্যমে তার বক্তব্য ও তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও বিস্তারিত তথ্যানুসন্ধানের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসের অমীমাংসিত দিক উন্মোচনের পাশাপাশি জাতির সামনে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মেজর মোজাফফর দীর্ঘদিন ভারতে পলাতক হিসেবে অবস্থান করেন এবং সে সময় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার আশ্রয়ে ‘জয় ব্যানার্জি’ ছদ্মনাম ব্যবহার করেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তাই জিয়াউর রহমান হত্যাকা-ের পেছনে বিদেশি শক্তির কোনো প্রভাব রয়েছে কি না, সে বিষয়টিও উন্মোচন করা প্রয়োজন। এ ছাড়া জিয়াউর রহমান হত্যাকা-ের পর অদ্যাবধি বেসামরিক আদালতে কোনো ধরনের হত্যা মামলা দায়ের হয়নি। এ নিয়ে দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও কৌতূহল রয়েছে, যার সমাধান হওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো সত্য অনুসন্ধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান প্রতিহিংসার জন্য নয়; বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জাতীয় আস্থা পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্ভুল ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে জাতীয় তদন্ত কমিশনের তত্ত্বাবধানে মেজর মোজাফফরকে ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারগেশন সেন্টারে (জেআইসি) এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে। বিকল্প হিসেবে সেনাবাহিনীর আর্মি ইন্টারগেশন সেলে (এআইসি) সব বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে যৌথভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যাতে ঘটনার সার্বিক চিত্র যথাযথভাবে উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়। সত্য অনুসন্ধানের সক্ষমতাই একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি। ঐতিহাসিক এসব ঘটনার নির্মোহ তদন্ত কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক উদ্দেশ্যে নয়, বরং ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, জাতীয় আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের স্বার্থেই হওয়া উচিত। দেরিতে হলেও সত্য উন্মোচিত হলে তা বিভেদ সৃষ্টির বদলে জাতির জন্য শিক্ষা ও ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তারের পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে। সেগুলো হলোÑ ৩০ মে ১৯৮১ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল? হত্যার পূর্বে ও পরে মেজর মোজাফফরের ভূমিকা কী ছিল? হত্যাকা-ের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত দেশি-বিদেশি পক্ষসমূহ কারা ছিল? এত বছর তিনি কোথায় ও কার সহায়তায় আত্মগোপনে ছিলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর বের করা খুবই জরুরি। 

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ঘটনার আগের দিন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে মধ্যরাতে তিনি ঘুমাতে যান। ভোরে সেনাবাহিনীর একটি দল তার ওপর গুলি চালালে সেখানেই তিনি নিহত হন। ঘটনার পর তৎকালীন সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘বিপ্লবী পরিষদ’ পরিচয় দেওয়া কিছু সেনাসদস্য রাষ্ট্রপতি জিয়াকে হত্যা করেছে। হত্যাকা-ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরদেহ গোপনে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দাফন করা হয়। 

তথ্য অনুযায়ী, সামরিক ট্রাইব্যুনালে জিয়া হত্যাকা-ে জড়িত থাকার দায়ে ১৮ জন অফিসারকে অভিযুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদ- এবং বাকি ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেওয়া হয়। এ অফিসারদের ১৯৮১ সালের ১ থেকে ৩ জুনের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়। মেজর জেনারেল আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে ওই বছর ১০ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলে সামরিক আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।