ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

ঢাবিতে শিবিরের ‘লীগ ধর’ ম্যারাথন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৫:৫৯ এএম

‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার উদ্যোগে এক ব্যতিক্রমধর্মী ‘লীগ ধর ম্যারাথন ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার  ঢাবির বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এই ম্যারাথন সম্পন্ন হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ ঢাবি ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতভাভ। এদিকে ওই ম্যারাথনে অংশ নেওয়াদের মধ্যে ৯০ শতাংশই একসময় ছাত্রলীগের পেছনে এভাবে দৌড়ঝাঁপ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান।

ম্যারাথনে সাদিক কায়েম বলেন, ‘২০২৪ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হল এবং প্রতিটি প্রান্তর ছাত্রলীগমুক্ত হয় এবং সেদিনই মূলত বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। এই দিনটিকে স্মরণ করার জন্য ছাত্রশিবির ঢাবি শাখা আজ (গতকাল) লীগ ধর ম্যারাথন আয়োজন করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই আয়োজনের মাধ্যমে বার্তা দিতে চাই, ক্যাম্পাসে লীগের যে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি ছিল, ক্ষমতার রাজনীতি ছিল, গণরুম বা গেস্টরুমের রাজনীতি ছিল বা শিক্ষার্থীদের দাসের মতো ব্যবহার করে যে অপরাজনীতি ছিল, তা আর কখনো ফিরে আসবে না।’ ডাকসু ভিপি বলেন, ‘বাংলাদেশে খুনি হাসিনা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং এই ফ্যাসিবাদি শক্তির রাজনীতি আর কখনো ফিরে আসতে পারবে না।’ সবশেষে জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দেশের যেকোনো অঞ্চলে দেখা গেলে তাদের ধরিয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, ওই ম্যারাথনে অংশ নেওয়াদের মধ্যে ৯০ শতাংশই একসময় ছাত্রলীগের পেছনে এভাবে দৌড়ঝাঁপ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। গতকাল বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লেখেন, “ঢাবিতে শিবির যে ‘লীগ ধর’ নামে ম্যারাথন দৌড় দিয়ে প্রতীকী লীগ পেটাল, বিগত ১৬ বছর ছাত্রলীগের মধ্যে গুপ্ত না থেকে সত্যিই যদি লীগকে পেটাত, তাহলে ছাত্রলীগ দানব হয়ে উঠতে পারত না। শেখ হাসিনাও এতদিন ক্ষমতায় থাকতে পারত না।”

তিনি আরও লেখেন, ‘সত্যি বলতে, শিবিরের ম্যারাথন দৌড়ে থাকাদের মধ্যে ৯০% ঠিক লীগের পিছনে এভাবেই দৌড়ঝাঁপ করেছে। জামায়াত-শিবিরের গুপ্ত কৌশলের কারণেই ফ্যাসিবাদ দীর্ঘায়িত হয়। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যদি লীগের পতন না হতো, তাহলে শিবির তার কৌশলের অংশ হিসেবে ছাত্রলীগেই থেকে যেত। আজকের অনেককে লীগের বড় বড় পদে দেখা যেত।’