× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক ও চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০১:৫৯ এএম

চট্টগ্রামে চায়না ইকোনমিক জোন উদ্বোধন

উচ্চপ্রযুক্তি ও কৌশলগত শিল্পে চীনা বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ

রূপালী প্রতিবেদক ও চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০১:৫৯ এএম

উচ্চপ্রযুক্তি ও কৌশলগত শিল্পে  চীনা বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর চিপসহ উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর ও কৌশলগত শিল্পে বিনিয়োগের জন্য চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বলেন, তৈরি পোশাক বা উৎপাদন খাতের পাশাপাশি এখন সময় এসেছে আরও উন্নত প্রযুক্তি ও কৌশলগত শিল্পে বিনিয়োগের। সেমিকন্ডাক্টর চিপসহ আরও অনেক উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প বাংলাদেশে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায় প্রস্তাবিত ‘চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’-এর (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও অবকাঠামো নির্মাণকাজের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ এক দশকের স্থবিরতা কাটিয়ে প্রকল্পটির কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু বিনিয়োগ চাই না; প্রযুক্তি স্থানান্তর ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছি।  ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য অর্জনে এই বিনিয়োগই হবে প্রধান চালিকাশক্তি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত হু-য়েন এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। এ ছাড়া ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এ সময় চট্টগ্রামের স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল প্রকল্পের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট লি চুংয়াই এবং বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনকুইনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে প্রায় ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আকৃষ্ট এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে ‘চায়না অর্থনৈতিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প খাতে এক নতুন ও ঐতিহাসিক যুগের সূচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও গণচীন সরকারের (জি-টু-জি) যৌথ উদ্যোগে এবং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর নীতিমালার আলোকে গৃহীত এই প্রকল্পটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, বৈচিত্র্যময় শিল্পায়ন এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আনোয়ারার এই উর্বর মাটিতে সিইআইজেডের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে আমরা কেবল এক কোদাল মাটিই তুলছি না, বরং বাংলাদেশের শিল্প রূপান্তরের এক নতুন অধ্যায়ের শুভসূচনা করছি। দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস, গভীর বন্ধুত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি এবং যৌথ সনদের আলোকে গৃহীত এই জি-টু-জি প্রকল্পটির মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছালো।

চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট লি চাংগুই বলেন, আজকের গ্রাউন্ড ব্রেকিংয়ের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল, যার সঙ্গে যুক্ত হলো নতুন দায়িত্ব ও প্রত্যাশা। সিইআইজেডের নির্মাণ ও পরিচালনা এগিয়ে নিতে সিআরবিসি-সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। দ্বিপাক্ষিক শিল্প সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য এবং পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার একটি মডেল জোন হিসেবে সিইআইজেড-কে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়নে আমরা আরও বড় অবদান রাখতে চাই।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. ইয়াও ওয়েন বলেন, চট্টগ্রামে চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের আজকের গ্রাউন্ডব্রেকিং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের ফলাফল বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই নতুন ঐতিহাসিক সূচনালগ্নে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নিতে, কৌশলগত সমন্বয় গভীর করতে এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত। দুই দেশের নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যকে উন্নয়নের বাস্তব সুফলে রূপ দিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, জুন মাসে প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং ও দালিয়ান সফরের পর ৩০টির বেশি চীনা কোম্পানি এই জোনে প্রায় অর্ধ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণত একটি কারখানা স্থাপন বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লেগে যায়। আমরা ইতোমধ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আগামী তিন মাসের মধ্যে এমন একটি প্রক্রিয়া চালু করা হবে, যার মাধ্যমে ব্যবসা শুরুর কাজ ১৪ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশে বহু দশকের অভিজ্ঞতার তুলনায় এটি একটি বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে।

জিটুজি উদ্যোগের আওতায় বাস্তবায়িত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরের চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আধুনিক শিল্প অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় এ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

গত ১৭ জুন অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সিইআইজেড বাস্তবায়নের জন্য গঠিত বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে ডেভেলপমেন্ট এগ্রিমেন্ট এবং ল্যান্ড লেস এগ্রিমেন্ট অনুমোদন করে। এ কোম্পানিতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ৩০ শতাংশ এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন ৭০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করবে। বেজার অংশ হিসেবে অধিগ্রহণকৃত ভূমির ৫০ বছরের লিজমূল্য ইকুইটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ডেভেলপার তাদের অংশ নগদ মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করবে, যা জোনের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) কর্তৃক গত ১৬ জুন অনুমোদিত হয়েছে। প্রায় ৪,১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে এক হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি লিংক রোড, এক হাজার ১৮১ মিটার দীর্ঘ চার লেন সড়ক, ২০০০০ ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, ২৫ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ৪.২৪ এমএমসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন ও ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন, ২০,৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার, ৬০ টন প্রতিদিন ক্ষমতাসম্পন্ন সলিড ওয়েস্ট কালেকশন স্টেশন, প্রায় ১২ কিলোমিটার সীমানা প্রাচীর এবং দুটি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন।

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ৪১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ২৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ সহায়তা এবং প্রায় ১৭২২ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে। বৈদেশিক অর্থায়নের অংশ চীনের এক্সিম ব্যাংকের চৎবভবৎবহঃরধষ ইুঁবৎ’ং ঈৎবফরঃ (চইঈ) সুবিধার আওতায় প্রাপ্তির প্রস্তাব রয়েছে। এই অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঈঊওত-এ শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ও জেটি সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক মানের সব সহায়ক অবকাঠামো নিশ্চিত হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!