দেশে বর্তমানে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দেওয়ার মতো কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক। তিনি বলেছেন, উগ্রবাদী কর্মকা- প্রতিরোধে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গোয়েন্দা তথ্য ও নিজস্ব ডাটাবেজের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
গতকাল সোমবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিটিটিসি প্রধান।
সম্প্রতি কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরণ এবং সর্বশেষ মতিঝিলে ছাতার ভেতর বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়কে সিটিটিসি কীভাবে দেখছে এবং বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোর তদন্তে উগ্রবাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে কি নাÑ জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। জবাবে সিটিটিসি প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, সিটিটিসি ইউনিটের বেশ কয়েকটি বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে একটি বিভাগ কাউন্টার টেররিজম। এ ছাড়া আরও কয়েকটি বিভাগ রয়েছে, যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে কাজ করছে।
মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, উগ্রবাদী কর্মকা-ের ওপর অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নিজস্ব ডেটাবেজের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। কোনো তথ্য পাওয়া মাত্রই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উগ্রবাদী কর্মকা- নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিটিটিসি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিচ্ছে কি না জানতে চাইলে সিটিটিসি প্রধান বলেন, এ বিষয়ে এখনই এমন কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে দেশের পরিস্থিতিতে আশঙ্কাজনক কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
মতিঝিলে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির এ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে মতিঝিল বিভাগ তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ ঘটনায় কারা জড়িত ছিল বা তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
সংবাদ সম্মেলনে জঙ্গিবাদ-সংক্রান্ত গ্রেপ্তার ও মামলার অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পরে জানানো হবে। তবে তিনি জানান, আলোচিত পাতা কমব্যাট মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিটিটিসি জানায়, সম্ভাব্য উগ্রবাদী তৎপরতা প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত থাকবে।

