× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০২:০৬ এএম

দেশজুড়ে গ্যাস সংকট নিয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দুই তথ্য

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০২:০৬ এএম

দেশজুড়ে গ্যাস সংকট নিয়ে  মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দুই তথ্য

দেশজুড়ে গত মঙ্গলবার রাত থেকে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র গ্যাসের সংকট। মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই টার্মিনালে কোনো জাহাজ ভিড়তে পারছে না। ফলে চাহিদার চেয়ে অন্তত ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম পাচ্ছে জাতীয় গ্রিড। এতে করে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় আবাসিক, শিল্প, পরিবহন সব খাতে তৈরি হয়েছে তীব্র সংকট। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর আলাদা আলাদা বক্তব্য বিভ্রান্তি তৈরি করেছে জনমনে। যেখানে পেট্রোবাংলা বলছে সহসাই সমাধান নেই এই সংকটের, সেখানে গতকাল সোমবার এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, গ্যাস সংকট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগবে। একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) মজুত ও পুনঃ গ্যাসীকরণ ইউনিটে (এফএসআরইউ) অগ্নিকা-ের কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হওয়ায় এই সংকট তীব্র হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই দিন অপর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দাবি করেছেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হবে। এমনকি তিনি সংকট কাটাতে ভোলার গ্যাস আনার কথাও বলেছেন। যেটি এত অল্প সময়ে প্রায় অবাস্তব। পেট্রোবাংলা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর এমন আলাদা আলাদা অবস্থানে দুর্ভোগে থাকা গ্রাহকদের মধ্যে আরও অসহায়ত্ব বিরাজ করছে।

জেসমিন পাপড়ি নামের এক কর্মজীবী নারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্যাস সংকট নিয়ে নিজের দুবির্ষহ অবস্থান তুলে ধরে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, সকালে চুলায় রুটি সেঁকতে দিয়ে বাচ্চাদের স্কুলে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে রুটি উল্টিয়েছি। এতটুকুও নষ্ট হয়নি। আরও আধাঘণ্টা পরে অন্যপাশও উল্টাতে হয়েছে। তারপর বাসার অন্যান্য কাজের ফাঁকে ফাঁকে যেমনÑ বাচ্চাদের গোসল, ঘর পরিষ্কার, কাপড় ধোয়ার ফাঁকে ফাঁকে ফ্রিজে থাকা পূর্বের তরকারি কোনোমতে গরম করে খাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। গ্যস সংকটে এমন যখন নগরজীবনের অবস্থা, তখন পেট্রোবাংলা বলছে, তাদের কাছে এফএসআরইউ মেরামত সংক্রান্ত কোনো আপডেট তথ্য নেই। সংস্থাটি বলছে, এক্সিলারেট এলএনজি টার্মিনালে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে অগ্নিকা-ের পর গত মঙ্গলবার থেকেই ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়। ফলে সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ নেমেছে অর্ধেকে। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তার বিষয়ে কোনো আপডেট তথ্য নেই জানিয়ে পেট্রোবাংলার উপমহাপরিচালক তরিকুল ইসলাম খান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, তাদের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দৈনিক দরকার কমপক্ষে ১৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। কিন্তু এলএনজি টার্মিনালটি বিকল হওয়ার পর মিলছে ১২০ কোটি ঘনফুট। এফএসআরইউ মেরামতে দেশি-বিদেশী বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা কাজ করছেন কিন্তু মেরামতের কাজ কতদূর বা কবে নাগাদ ঠিক হবে এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

তবে আলাদা আলাদা অনুষ্ঠানে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানিয়েছেন জ¦ালানি বিভাগের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী। গতকাল সোমবার এক অনুষ্ঠানে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বর্তমানে এফএসআরইউ মেরামতের কাজ চলছে। এই বিভ্রাটের কারণে দুটি এলএনজি কার্গো খালাস করা যাচ্ছে না। ফলে দেশজুড়ে রান্নাঘরে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়াসহ বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায়ও সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে এ সংকট আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে কেটে যাবে। তিনি বলেন, দেশের গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এখন এলএনজি, এলপিজিসহ বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আর এই আমদানি করা জ্বালানির দামও অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে।

এদিকে একই দিন গ্যাস সংকটে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হবে। এদিন সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাস সংকট পরিস্থিতি উত্তরণে সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি বাসা-বাড়িতে মা-বোনেরা, গৃহিণীরা সংসারের রান্নার কাজে প্রতিদিন চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন। ইন্ডাস্ট্রিগুলো তাদের প্রোডাকশন কম্প্রোমাইজড হয়েছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে চাপ আসার কারণে গণপরিবহনের ক্ষেত্রে একটা নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে। এই কারণে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি জনগণের কাছে। তিনি বলেন, কিন্তু বলতে কোনো দ্বিধা নেই এটা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো ত্রুটি না, একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু স্টিল তারা দেশের এই সাপ্লাইটা এনসিওর করে। আমরা তাদের সাথে যৌথভাবে কাজ করছি। আমরা এই মুহূর্তে তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারছি না, এটা আমাদের সীমাবদ্ধতা। আমরা এই জন্য বারংবার দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা যেটা বললাম, আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে ইনশাআল্লাহ। অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, আগামী সপ্তাহে ৫০ শতাংশ সরবরাহ চালু করতে পারলে পরের সপ্তাহে ১০০ শতাংশ করতে পারবে। এটাই এখন পর্যন্ত প্ল্যানিং আছে।

এদিকে রাজধানীতে তীব্র গ্যাস-সংকটে বিপাকে জনজীবন। বেশির ভাগ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস না থাকায় কোথাও বিক্রি বন্ধ, আবার কোথাও কম চাপের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন চালকেরা। এতে স্টেশনগুলোতে তৈরি হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। অলস বসে থেকে অনেক চালক ঘুমিয়ে পড়েন। বেশির ভাগ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস না থাকায় কোথাও বিক্রি বন্ধ, আবার কোথাও কম চাপের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন চালকেরা।

দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি টার্মিনাল পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি ও আরেকটি বেসরকারি কোম্পানি সামিট। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার আগুন লেগে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে দেশে গ্যাস-সংকট বেড়ে গেছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!