ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬

২৮ বছর পর এক বিন্দুতে ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে

গোল প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৬:৪৪ এএম

রোমাঞ্চকর এক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে শেষ ষোলোর মহরণে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের ফুটবল ত্রাস ফ্রান্স এবং লাতিন আমেরিকার লড়াকু দল প্যারাগুয়ে। বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ৩টায় শুরু হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি কেবল কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটার লড়াই নয়; এটি ফরাসিদের শৈল্পিক ফুটবলের সঙ্গে প্যারাগুয়ের অনমনীয় রক্ষণাত্মক সংস্কৃতির এক তীব্র যুদ্ধ।

এই ম্যাচটির হাত ধরে ফুটবলপ্রেমীরা ফিরে যাচ্ছেন ঠিক ২৮ বছর আগের এক স্মৃতিবিজড়িত অধ্যায়ে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে এই শেষ ষোলোর মঞ্চেই মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে। সেবার প্যারাগুয়েকে ভাঙতে ফরাসিদের ঘাম ছুটে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে জয় পেয়েছিল ফ্রান্স এবং সেই আসরেই তারা নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর আবারও নকআউট পর্বের একই মঞ্চে দুই দলের এই সাক্ষাৎ ম্যাচটিতে ভিন্ন আবেগ যোগ করেছে। ফরাসিরা যেখানে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে মরিয়া, প্যারাগুয়ে সেখানে চাইছে পুরোনো ক্ষতে প্রলেপ দিয়ে নতুন রূপকথা লিখতে।

দুই দলই নকআউট পর্বের অগ্নিপরীক্ষায় পা রেখেছে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে। সুইডেনকে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে ফ্রান্স। মাঠের পারফরম্যান্সে ফরাসিদের চিরাচরিত দাপট ও ভারসাম্য বজায় ছিল পুরো ম্যাচজুড়েই।

অন্যদিকে, প্যারাগুয়ে এই মঞ্চে এসেছে রূপকথার গল্প লিখে। ফুটবল পরাশক্তি জার্মানিকে বিদায় করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে লাতিন আমেরিকার এই দলটি। জার্মানির মতো জায়ান্টদের হারানোর মানসিক শক্তি আজ ফ্রান্সের বিরুদ্ধেও প্যারাগুয়েকে বাড়তি অনুপ্রেরণা ও আকাশচুম্বী আত্মবিশ্বাস জোগাবে।

ফ্রান্সের মূল শক্তি তাদের স্কোয়াডের গভীরতা এবং ট্যাকটিক্যাল পরিপক্বতা। মাঝমাঠের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণভাগের গতিশীলতা ফরাসিদের প্রধান অস্ত্র। গতিময় উইং-প্লে এবং বক্সে নিখুঁত ফিনিশিংয়ের ক্ষমতা ফ্রান্সকে যেকোনো রক্ষণভাগের জন্যই ত্রাস করে তুলেছে।

প্যারাগুয়ের ফুটবলের মূল ভিত্তি হলোÑ তাদের জমাট রক্ষণভাগ এবং হাই-প্রেসিং ট্রানজিশন ফুটবল। জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচে তারা দেখিয়েছে কীভাবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে বোতলবন্দি করে কাউন্টার অ্যাটাকে ম্যাচ বের করে আনা যায়। শারীরিক শক্তি ও অনমনীয় ডিফেন্সিভ শেপ দিয়ে ফরাসি তারকাদের আটকে রাখাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য।

কাগজে-কলমে এবং ঐতিহ্যের বিচারে ফ্রান্স কিছুটা এগিয়ে থাকবে ঠিকই, তবে জার্মানিকে বিদায় করে আসা প্যারাগুয়েকে হালকাভাবে নেওয়ার ভুল ফ্রান্স কোনোভাবেই করবে না। ফ্রান্স যদি ম্যাচের শুরুতেই গোল আদায় করে প্যারাগুয়ের রক্ষণাত্মক দেয়াল ভেঙে দিতে পারে, তবে ম্যাচটি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তবে প্যারাগুয়ে যদি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ফরাসি আক্রমণ রুখে দিতে পারে, তবে ম্যাচ অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে গড়াবেÑ যেখানে যেকোনো কিছুই ঘটা সম্ভব। ফরাসিদের ট্রফি ধরে রাখার মিশন নাকি প্যারাগুয়ের প্রতিশোধের মহাকাব্য, রোববারের রাতই দেবে সেই উত্তর।