সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে আলজেরিয়ার বিদায়টাই যেন হয়ে থাকল এক সোনালি অধ্যায়ের অবসান। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পরপরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দিলেন আলজেরিয়ান ফুটবলের বরপুত্র রিয়াদ মাহরেজ। ৩৫ বছর বয়সি এই উইঙ্গার ভ্যাংকুভারের মাঠেই জানিয়ে দিলেনÑ আলজেরিয়ার জার্সিতে এটাই ছিল তার শেষ ম্যাচ। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো আলজেরিয়ার ফুটবলের অন্যতম সেরা নায়কের ১২ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
বিদায়ের ক্ষণে আলজেরিয়া অধিনায়কের কণ্ঠে ছিল স্বপ্নভঙ্গের তীব্র আফসোস। ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে মাহরেজ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল পরের রাউন্ডে ওঠা। ম্যাচটি আমাদের নাগালের মধ্যেই ছিল, কিন্তু নিজেদের ভুলেই দুটি গোল হজম করতে হয়েছে। আর এই সর্বোচ্চ পর্যায়ে এমন ভুলের খেসারত খুব চড়া।’ ম্যাচটিতে ৭০ মিনিটে কোচ ভøাদিমির পেতকোভিচ যখন তাকে তুলে নিচ্ছিলেন, তখন গ্যালারিতে থাকা দর্শক দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে এই কিংবদন্তিকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। বিদায়টা কান্নার হলেও চার ম্যাচে দুটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে নিজের শেষ বিশ্বকাপটা ব্যক্তিগতভাবে রাঙিয়েই গেলেন মাহরেজ।
২০১৪ সালে ‘ডেজার্ট ফক্সেস’-এর হয়ে অভিষেকের পর আলজেরিয়ার জার্সিতে ১১৯টি ম্যাচ খেলেছেন মাহরেজ; যেখানে তার পা থেকে এসেছে ৪০টি গোল আর সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৪৫টি গোল। তবে দেশের হয়ে তার ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ মুহূর্তটি আসে ২০১৯ সালে। তার জাদুকরী অধিনায়কত্বে এবং সেমিফাইনালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে যোগ করা সময়ে করা সেই অবিশ্বাস্য ফ্রিকিক গোলে ফাইনালে ওঠে আলজেরিয়া। পরে সেনেগালকে হারিয়ে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো আফ্রিকার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ‘আফ্রিকা কাপ অব নেশনস’ জিতেছিল তারা।
ক্লাব ফুটবলেও মাহরেজের অর্জনের ঝুলি রূপকথাকেও হার মানায়। ২০১৫-১৬ মৌসুমে লেস্টার সিটির হয়ে রূপকথার প্রিমিয়ার লিগ জয় থেকে শুরু করে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ট্রেবলসহ চারটি প্রিমিয়ার লিগ ও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন তিনি। বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল-আহলিতে খেলা এই তারকা হয়তো ক্লাব ফুটবলে আরও কিছুদিন মাঠ মাতাবেন, তবে আলজেরিয়ার সবুজ-সাদা জার্সিতে রাইট-উইং দিয়ে বল পায়ে তার সেই চেনা দৌড় আর কখনোই দেখা যাবে না। বিদায়, রিয়াদ মাহরেজ!

