× UCB Sticker Card
সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মিনহাজুর রহমান নয়ন

প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০২:২৫ এএম

ফুটবলের নতুন আট তারকা

মিনহাজুর রহমান নয়ন

প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০২:২৫ এএম

ফুটবলের নতুন আট তারকা

এক বিশ্বকাপেই বদলে গেল তাদের জীবন, ফুটবল পেল আগামী দিনের নতুন রাজপুত্রদের। বিশ্বকাপ কেবল একটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়; এটি সময়ের স্রোতে প্রজন্ম বদলের এক মহাকাব্য। চার বছর পরপর ফুটবল যখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফিরে আসে, তখন শুধু চ্যাম্পিয়নই নির্ধারিত হয় নাÑ জন্ম নেয় নতুন নায়ক, নতুন কিংবদন্তি, নতুন স্বপ্ন। এক প্রজন্ম ধীরে ধীরে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেয়, আর ঠিক সেই মুহূর্তে আরেকটি প্রজন্ম নিজেদের প্রতিভা, সাহস ও অসাধারণ নৈপুণ্যে ভবিষ্যতের দরজায় কড়া নাড়ে।

১৯৫৮ সালে এক কিশোর পেলের পায়ে বিশ্ব দেখেছিল ফুটবলের নতুন সূর্যোদয়।

১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনা বলেছিলেন, একজন মানুষও কীভাবে একটি বিশ্বকাপের গল্প লিখতে পারে। ১৯৯৮ সালে তরুণ রোনালদো বিশ্ব ফুটবলের নতুন আকর্ষণে পরিণত হন। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো দেখা মিলেছিল লিওনেল মেসির, আর ২০১৮ সালে কিলিয়ান এমবাপ্পে জানিয়ে দিয়েছিলেনÑ ভবিষ্যৎ এসে গেছে। বিশ্বকাপই তাই শুধু স্মৃতির ভান্ডার সমৃদ্ধ করেনি, বিশ্ব ফুটবলকে উপহার দিয়েছে নতুন এক যুগের নায়কদের। ২০২৬ বিশ্বকাপ তাই শুধু একজন চ্যাম্পিয়নের জন্ম দেয়নি; এটি বিশ্ব ফুটবলের আগামী দিনের আট নতুন মহাতারকারও অভিষেক ঘটিয়েছে।

যে ছেলেটি ডান প্রান্তকে শিল্পে রূপ দিল

স্পেনের ১৯ বছর বয়সি লামিন ইয়ামাল এই বিশ্বকাপে শুধু ভালো খেলেননি, তিনি ফুটবলকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। ডান প্রান্ত থেকে বাঁ-পায়ে ভেতরে ঢুকে পড়া, ক্ষুদ্র জায়গায় বলের অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ, মুহূর্তেই গতি পরিবর্তন এবং ডিফেন্ডারদের ভারসাম্য নষ্ট করে দেওয়াÑ এসবই ছিল তার খেলার স্বাক্ষর। ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ

আক্রমণের শুরু যেন তার পা থেকেই হয়েছে। প্রতিপক্ষের দুই কিংবা তিনজন খেলোয়াড়কে নিজের দিকে টেনে নিয়ে সতীর্থদের জন্য ফাঁকা জায়গা তৈরি করাই ছিল তার অন্যতম বড় শক্তি। শুধু গোল করা নয়, পুরো আক্রমণভাগের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করেছেন তিনি। মাঠে তাকে দেখে মনে হয়েছে, যেন তিনি আগেই বুঝে ফেলছেন পরের কয়েকটি পাস কোথায় যাবে। তার পরিণত ফুটবল অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কেও ছাপিয়ে গেছে।

মাঝমাঠের শিল্পী ফ্রান্সের ডিজিরে দুয়ের খেলায় ছিল ছন্দ, সৌন্দর্য এবং বুদ্ধিমত্তার অনন্য সমন্বয়। তিনি এমন একজন মিডফিল্ডার, যিনি বল পায়ে পেলেই পুরো ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন।

২০২৬ বিশ্বকাপে তার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল প্রতিপক্ষের প্রেসিং ভেঙে বেরিয়ে আসা। সংকীর্ণ জায়গায় বল নিয়ন্ত্রণ করে এক মুহূর্তে খেলা ঘুরিয়ে দেওয়া, নিখুঁত থ্রু পাসে স্ট্রাইকারকে সুযোগ তৈরি করে দেওয়া এবং প্রয়োজনে নিজেই বক্সে ঢুকে পড়াÑ সবকিছুতেই ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। আধুনিক ফুটবলে যাকে ‘কমপ্লিট মিডফিল্ডার’ বলা হয়, দুয়ে যেন তার জীবন্ত উদাহরণ।

নির্ভীকতার অন্য নাম

তুরস্কের কেনান ইলদিজ মাঠে নামলেই যেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হতো। কারণ তিনি কখনো নিরাপদ ফুটবল খেলতে পছন্দ করেন না। বল পেলেই সামনে এগিয়ে যাওয়া, ডিফেন্ডারের মুখোমুখি হওয়া এবং সুযোগ পেলেই গোলমুখে শট নেওয়াÑ এটাই তার স্বভাব।

বিশ্বকাপে তিনি একাধারে উইঙ্গার, ফলস নাইন এবং আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারের ভূমিকায় খেলেছেন। তার দ্রুত টার্ন, নিখুঁত ফিনিশিং এবং শক্তিশালী বাঁ পায়ের শট তুরস্কের আক্রমণকে ভয়ংকর করে তুলেছিল। বড় ম্যাচের চাপও তাকে বিচলিত করতে পারেনি।

স্বাগতিকদের বিস্ময়

বিশ্বকাপে স্বাগতিক মেক্সিকোর সবচেয়ে বড় আবিষ্কারের নাম গিলবার্তো মোরা। বয়সে তরুণ হলেও মাঠে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিণত ক্ষমতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

তিনি কখনো আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার, কখনো উইংয়ে, আবার কখনো দ্বিতীয় স্ট্রাইকারের ভূমিকায় খেলেছেন। ছোট ছোট পাসে আক্রমণ গড়ে তোলা, হঠাৎ লম্বা পাসে ডিফেন্স ভেঙে দেওয়া এবং নিজের দৌড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ছিন্নভিন্ন করা ছিল তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। স্বাগতিক দর্শকদের প্রতিটি উল্লাসের কেন্দ্রে ছিলেন এই তরুণ।

আর্জেন্টিনার পরিচালক

আর্জেন্টিনার ফুটবলে সবসময় একজন সৃজনশীল পরিচালক থাকেন। একসময় ছিলেন হুয়ান রোমান রিকেলমে, পরে লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই ধারার নতুন প্রতিনিধি হিসেবে উঠে এসেছেন নিকো পাজ।

তার খেলায় নেই অযথা তাড়াহুড়ো। বরং আছে ধৈর্য, বুদ্ধিমত্তা এবং নিখুঁত সময়জ্ঞান। বল ধরে রেখে পুরো খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা, প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের ফাঁক খুঁজে বের করা এবং সঠিক সময়ে থ্রু পাস দেওয়াই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। মাঝমাঠে তিনি যেন আর্জেন্টিনার অদৃশ্য পরিচালক।

আফ্রিকার ঝড়

আইভরি কোস্টের ইয়ান ডিওমান্দে এই বিশ্বকাপে দেখিয়েছেন, গতি যদি শিল্পের সঙ্গে মিশে যায়, তাহলে একজন উইঙ্গার কতটা ভয়ংকর হতে পারেন।

ডান কিংবাÑ দুদিক থেকেই সমান দক্ষতায় আক্রমণ করেছেন তিনি। তার দ্রুত স্প্রিন্ট, এক-এক পরিস্থিতিতে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ওঠার ক্ষমতা এবং নিচু ক্রসে গোলের সুযোগ তৈরি করা ছিল অসাধারণ। প্রতিপক্ষের ফুলব্যাকদের জন্য তিনি ছিলেন পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ।

গতির বিস্ফোরণ

অস্ট্রেলিয়ার নেস্টোরি ইরানকুন্ডার খেলা যেন বিদ্যুতের ঝলকানি। বল পেলেই তার প্রথম কাজ ছিল ডিফেন্ডারের সামনে গতি বাড়ানো।

তার শক্তিশালী শট, দূরপাল্লার প্রচেষ্টা এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক অস্ট্রেলিয়াকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার মতো গতি তার সবচেয়ে বড় সম্পদ। তিনি এমন একজন ফুটবলার, যিনি একাই ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারেন।

আলজেরিয়ার মস্তিষ্ক

আলজেরিয়ার ইব্রাহিম মাজা এমন একজন মিডফিল্ডার, যিনি বলের সঙ্গে সময়কেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তার খেলায় বাড়তি ঝলকানি নেই, আছে অসাধারণ কার্যকারিতা।

মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলা, প্রতিপক্ষের প্রেসিং ভেঙে বেরিয়ে আসা, দীর্ঘ পাসে উইং বদলে দেওয়া এবং সঠিক সময়ে ফরোয়ার্ডদের বল পৌঁছে দেওয়া ছিল তার বিশেষ দক্ষতা। বিশ্বকাপে তিনি প্রমাণ করেছেন, একজন প্লেমেকারের মূল্য শুধু গোলে নয়, পুরো দলের ছন্দে।

বিশ্ব ফুটবলের নতুন মানচিত্র

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে, কিন্তু এই আট তরুণের যাত্রা কেবল শুরু। তারা প্রমাণ করেছেন, আধুনিক ফুটবল শুধু শক্তির খেলা নয়; এটি গতি, কৌশল, সৃজনশীলতা, বুদ্ধিমত্তা এবং সাহসের এক অপূর্ব সমন্বয়।

বিশ্বকাপের আলো নিভে যাবে, স্টেডিয়াম খালি হবে, ট্রফি জাদুঘরে স্থান পাবে। কিন্তু ইয়ামালের বাঁ-পায়ের জাদু, দুয়ের সৃজনশীল পাস, ইয়িলদিজের নির্ভীক আক্রমণ, মোরার পরিণত ফুটবল, পাজের দূরদর্শিতা, ডিওমান্দের বিস্ফোরক গতি, ইরানকুন্ডার ঝড় এবং মাজার নীরব নেতৃত্ব ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে বহুদিন বেঁচে থাকবে।

হয়তো ২০৩০ কিংবা ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপের মঞ্চে এই তরুণদেরই কেউ ট্রফি হাতে তুলবেন, কেউ জিতবেন ব্যালন ডি’অর, কেউ হয়ে উঠবেন কোটি ভক্তের নতুন নায়ক। ২০২৬ বিশ্বকাপ তাই শুধু একটি টুর্নামেন্টের নাম নয়Ñ এটি এমন এক সূচনা, যেখানে ফুটবল তার আগামী দিনের রাজাদের প্রথমবারের মতো বিশ্ববাসীর সামনে পরিচয় করিয়ে দিল।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!