ইনস্টাগ্রাম বা অন্যান্য বড় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের (যেমন মেটা, গুগল, টিকটক, এক্স) বাইরে এসে যারা একটু ভিন্ন, ব্যক্তিগত এবং কাছাকাছি কমিউনিটির অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, তাদের জন্য বেশ কিছু নতুন এবং দারুণ অ্যাপ বাজারে এসেছে। বিশেষ করে জেনারেশন জেড বা তরুণ প্রজন্মের কাছে এগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নিচে এই নতুন প্রজন্মের সোশ্যাল অ্যাপগুলোর একটি তালিকা দেওয়া হলো:
রেট্রো
ইনস্টাগ্রামের সাবেক দুজন কর্মী এই অ্যাপটি তৈরি করেছেন। এটি মূলত বন্ধুদের সঙ্গে আরও ব্যক্তিগতভাবে ছবি শেয়ার করার একটি প্ল্যাটফর্ম। এখানে আপনি প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট কিছু ছবি হাইলাইট করতে পারবেন, পুরো অ্যালবামের ছবি একসঙ্গে আপলোড করতে পারবেন এবং আপনার ছবির প্রাইভেসি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন (যেমনÑ বন্ধুরা আপনার শুধু সাম্প্রতিক এক মাসের ছবি দেখতে পাবে নাকি সব, তা নির্ধারণ করা)।
কসমস
যারা পিন্টারেস্টের এআই দিয়ে তৈরি নকল বা বিরক্তিকর ছবি দেখতে দেখতে ক্লান্ত, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ বিকল্প। এটিকে বলা হচ্ছে ‘অনুপ্রেরণার জায়গা’। এখানে আপনি রং, কি-ওয়ার্ড বা ছবি দিয়ে সার্চ করে আপনার রুচি অনুযায়ী প্রোফাইল সাজাতে পারবেন, বন্ধুদের সঙ্গে মিলে ছবি বা আইডিয়া সংগ্রহ করতে পারবেন এবং কেনাকাটাও করতে পারবেন।
ইন্ডিগো
টুইটার বা এক্স ছেড়ে যারা মাস্টডন নাকি ব্লুস্কাই কোন প্ল্যাটফর্মে যাবেন তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন, তাদের জন্য এটি সেরা সমাধান। এই একটি অ্যাপের মাধ্যমেই আপনি একই সঙ্গে দুটি নেটওয়ার্কই ব্যবহার করতে পারবেন। এতে রয়েছে একটি ইউনিফাইড টাইমলাইন এবং এর সাহায্যে আপনি এক ক্লিকেই দুই জায়গায় একসঙ্গে পোস্ট করতে পারবেন।
কর্নার
সহজ কথায় এটি হলো ‘সোশ্যাল গুগল ম্যাপস’। এর প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে, যারা নিজেদের পছন্দের জায়গাগুলোর (যেমনÑ সেরা খাবার দোকান, লাইভ মিউজিক স্পট, বইয়ের দোকান
ইত্যাদি) তালিকা তৈরি করে শেয়ার করেন। এটি সাধারণ ম্যাপের মতো শুধু রেস্তোরাঁ খোঁজার জায়গা নয়, বরং তরুণদের পছন্দের সব দারুণ ও ইউনিক জায়গা খুঁজে পাওয়ার একটি মাধ্যম।
ডিভাইন
যারা পুরনো ‘ভাইন’ অ্যাপটি মিস করেন, তাদের জন্য এটি একটি সুখবর। টুইটারের শুরুর দিকের একজন কর্মী এই অ্যাপটি তৈরি করেছেন, যেখানে পুরোনো ভাইনের প্রায় ৫ লাখ ভিডিও এবং ১ লাখের মতো ক্রিয়েটরকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখানে ব্যবহারকারীরা আবার আগের মতো ৬ সেকেন্ডের শর্ট-ভিডিও তৈরি করতে পারবেন। টুইটারের সাবেক প্রধান জ্যাক ডরসিও এতে অর্থায়ন করেছেন।
মেশ
এটি প্রথাগত সোশ্যাল মিডিয়া নয়, বরং একে বলা যায় একটি শক্তিশালী ডিজিটাল অ্যাড্রেস বুক বা পার্সোনাল ঈজগ। আপনার পরিচিত বা পেশাদার নেটওয়ার্কের মানুষজন এক্স বা লিংকডইন-এ কী পোস্ট করছেন, তাদের বায়ো পরিবর্তন করছেন কি না, তা এই অ্যাপ ট্র্যাক করে। এমনকি নির্দিষ্ট সময় পর পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য এটি আপনাকে রিমাইন্ডারও দেবে।
ফেবল
বইপ্রেমীদের জন্য এটি একটি দারুণ সামাজিক প্ল্যাটফর্ম। সম্প্রতি এটি ডিজিটাল রিডিং সাবস্ক্রিপশন প্রোভাইডার ‘এভার্যান্ড’ (ঊাবৎধহফ)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যার ফলে ব্যবহারকারীরা ১৫ লাখেরও বেশি ই-বুক এবং অডিওবুক পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এখানে আপনি বইয়ের রেটিং ও রিভিউ দিতে পারবেন এবং বিভিন্ন ভার্চুয়াল বুক ক্লাবে যোগ দিতে পারবেন।
লকেট
এই অ্যাপটির মূল আইডিয়া হলোÑ আপনার বন্ধুদের সরাসরি আপনার ফোনের হোম স্ক্রিনে নিয়ে আসা। এতে একটি লাইভ উইজেট থাকে। আপনার বন্ধুরা যখনই কোনো নতুন ছবি বা মেসেজ দেবে, তা সরাসরি আপনার হোম স্ক্রিনের উইজেটে ভেসে উঠবে এবং আপনি সেখান থেকেই চটজলদি উত্তর দিতে পারবেন।
এয়ারবাডস
মিউজিক বা গান নিয়ে তৈরি একটি চমৎকার সোশ্যাল নেটওয়ার্ক। আপনি এই মুহূর্তে স্পটিফাই বা অ্যাপল মিউজিকে কী গান শুনছেন, তা আপনার বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার হবে। বন্ধুরা আপনার গানের পছন্দে ইমোজি বা সেলফি দিয়ে রিঅ্যাক্ট করতে পারবে। এ ছাড়া এখানে মিউজিক কুইজ খেলা বা বন্ধুদের মিউজিক টেস্ট মেলানোর মতো মজার সব ফিচার আছে।
দ্য মল
এটি অনলাইন শপিংকে একটি সামাজিক রূপ দিয়েছে। এখানে একটি ইউনিভার্সাল ফিড রয়েছে, যেখানে আপনার পছন্দের ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর নতুন কালেকশন দেখতে পাবেন। পাশাপাশি আপনার বন্ধুরা তাদের কালেকশনে কী কী জিনিস রাখছে, তাও আপনি দেখতে পারবেন এবং সেখান থেকে শপিংয়ের আইডিয়া নিতে পারবেন।
শেল্ফ
আপনার ব্যক্তিগত রুচি বা পছন্দগুলোকে (যেমনÑ প্রিয় গান, সিনেমা, টিভি শো, বই) এক জায়গায় গুছিয়ে রাখার অ্যাপ এটি। এখানে কোনো লাইক বা ফলোয়ারের প্রতিযোগিতা নেই, এটি ডিফল্টভাবেই প্রাইভেট থাকে। তবে আপনি চাইলে আপনার বন্ধুদের ‘শেল্ফ’ বা বুকশেলফ ঘুরে দেখে নতুন নতুন সিনেমা বা গানের সন্ধান পেতে পারেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন